সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচক কমেছে। তবে লেনদেনে দুই বাজারের ছবি ভিন্ন। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন কিছুটা বেড়েছে, আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তা কমেছে অনেকখানি। সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসের এই তথ্য দুই এক্সচেঞ্জ সূত্রে জানা গেছে।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স এদিন ৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫২৫ পয়েন্টে নেমেছে। শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১০০ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের মোট লেনদেন হয়েছে ৭৪৬ কোটি ৪৬ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল ৭২৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ১৯ কোটি টাকা বেশি। এদিন ৩৯৪টি কোম্পানি ও ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ২২৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৫টির।
চট্টগ্রামের সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সিএসইতে হাতবদল হওয়া ১৯০টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ৭১টির, কমেছে ৯৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির। মোট লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার। আগের দিন এই অঙ্ক ছিল ৩৯ কোটি ৫২ লাখ টাকা, অর্থাৎ প্রায় ২৯ কোটি টাকা কম।
সংখ্যাগুলো পাশাপাশি রাখলে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়। প্রথমত, পতনের মাত্রা দুই বাজারেই খুব সামান্য। ডিএসইএক্সের ৬ পয়েন্ট কমা শতাংশের হিসাবে দশমিক ১১ শতাংশের মতো। সিএএসপিআইয়ের ৫ পয়েন্ট কমা দশমিক ০৩ শতাংশেরও কম। এমন পতনকে বাজারে বড় ধাক্কা বলা যায় না, বরং একটি স্থিতিশীল বা দিকহীন দিনের লক্ষণ হিসেবে দেখা যায়। ডিএসই-৩০ সূচকের ১ পয়েন্ট কমা এই ধারণাকে আরও জোরালো করে, কারণ বড় ও শীর্ষ কোম্পানিগুলোতে প্রায় কোনো নড়াচড়া হয়নি।
দ্বিতীয়ত, দামের দিক থেকে বাজারে দুর্বলতার ছাপ বেশি। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৯৪টির মধ্যে ২২৪টির দাম কমেছে, যা প্রায় ৫৭ শতাংশ। দাম বেড়েছে ৩২ শতাংশের মতো, আর ১১ শতাংশের কিছু বেশি অপরিবর্তিত। প্রতি একটি দাম বাড়া প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে প্রায় ১.৮টির দাম কমেছে। সিএসইতে ছবি কিছুটা কম একপেশে। সেখানে ১৯০টির মধ্যে ৯৮টির দাম কমেছে, যা প্রায় ৫২ শতাংশ। দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশের মতো। এখানে প্রতি একটি বাড়ার বিপরীতে কমেছে প্রায় ১.৪টি। অর্থাৎ দুই বাজারেই বিক্রির চাপ ছিল, কিন্তু ডিএসইতে তা তুলনামূলক বেশি। তবু সূচক সামান্য কমেছে, এর অর্থ সম্ভবত দাম কমা শেয়ারগুলোতে পতন তেমন বড় ছিল না, কিংবা বড় মূলধনের কিছু শেয়ার সূচককে ধরে রেখেছে। সূচক গণনার পদ্ধতির কারণে এমন হতে পারে, তবে প্রতিবেদনে সুনির্দিষ্ট কোন শেয়ারের কী ভূমিকা ছিল, সে তথ্য নেই।
লেনদেনের চিত্রে আসল পার্থক্য ধরা পড়ে। ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২.৬ শতাংশ। দাম কমার পরিস্থিতিতে লেনদেন বাড়া সাধারণত বাজারে সক্রিয়তা বজায় থাকার ইঙ্গিত দেয়। বিনিয়োগকারীরা হয়তো কম দামে কিনছেন, কিংবা কেউ কেউ লোকসান এড়াতে বিক্রি করছেন। ঠিক কোনটি ঘটেছে, তা এই সংখ্যা থেকে বলা যায় না। সিএসইতে ছবি উল্টো। সেখানে লেনদেন এক দিনে কমেছে প্রায় ৭৩ শতাংশ, ৩৯ কোটি ৫২ লাখ থেকে ১০ কোটি ৭৩ লাখে। এত বড় পতন সাধারণ ওঠানামার চেয়ে অনেক বেশি। আগের দিনের অঙ্কটি অস্বাভাবিকভাবে বেশি ছিল কি না, এখান থেকে সেই প্রশ্নও ওঠে। কোনো একটি বা কয়েকটি বড় লেনদেন আগের দিনের সংখ্যা ফুলিয়ে দিয়ে থাকতে পারে। তবে প্রতিবেদনে এ বিষয়ে কোনো তথ্য নেই, তাই এটি একটি সম্ভাবনা মাত্র।
দুই বাজারের আকারের তুলনাও লক্ষণীয়। সোমবার দুই বাজারের মোট লেনদেন ছিল প্রায় ৭৫৭ কোটি টাকা, যার মাত্র ১.৪ শতাংশ ছিল সিএসইর। আগের কার্যদিবসে এই অংশ ছিল প্রায় ৫.১ শতাংশ। অর্থাৎ সিএসই ঢাকার তুলনায় এমনিতেই ছোট বাজার। তার ওপর এক দিনে অংশ কমে এক-তৃতীয়াংশেরও নিচে নেমে এসেছে। এত অল্প লেনদেনের বাজারে সূচক সামান্য পরিমাণ লেনদেনেও প্রভাবিত হতে পারে। তাই সিএসইর একদিনের নড়াচড়া থেকে বাজারের সার্বিক গতি বোঝা কঠিন।
এই প্রতিবেদনের সীমাবদ্ধতাও মনে রাখা দরকার। এটি একটি মাত্র দিনের তথ্য। এক দিনের পতন বা লেনদেন কমা-বাড়া থেকে কোনো প্রবণতা নির্ধারণ করা যায় না। পতনের কারণ কী, কোন খাত বা কোন শেয়ার বেশি প্রভাব ফেলেছে, বিদেশি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ভূমিকা কেমন ছিল, এসব প্রশ্নের উত্তর প্রতিবেদনে নেই। কোনো বিশ্লেষক বা ব্রোকারেজ হাউসের মন্তব্যও নেই। এমনকি ডিএসইএক্সের আগের দিনের পয়েন্ট বা সাপ্তাহিক প্রবণতাও দেওয়া হয়নি। তাই বাজার কোন দিকে যাচ্ছে, তা এখান থেকে বলা যাবে না।
সব মিলিয়ে সোমবারের চিত্র সংযত। সূচক সামান্য কমেছে, দাম কমা শেয়ারের সংখ্যা বেশি, ডিএসইতে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে এবং সিএসইতে তীব্রভাবে কমেছে। সামনে কয়েকটি বিষয় নজরে রাখা যেতে পারে। পরের কয়েক কার্যদিবসে ডিএসইতে লেনদেন ৭০০ কোটি টাকার ওপরে টিকে থাকে কি না, সূচকের ছোট পতন ধারাবাহিক রূপ নেয় কি না এবং সিএসইর লেনদেন আবার আগের স্তরে ফেরে কি না। এই তিনটির উত্তরেই বোঝা যাবে, সোমবারের দিনটি সাময়িক শ্লথতা ছিল, নাকি বাজারের গতি বদলের সূচনা।

