সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দেশের দুই শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয়েছে। প্রধান বাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), দুই বাজারেই সকাল থেকে সূচক বাড়তে দেখা গেছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
লেনদেনের প্রথম আধা ঘণ্টা শেষে, অর্থাৎ সকাল সাড়ে ১০টায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের চেয়ে ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৭ পয়েন্টে অবস্থান করে। একই সময়ে ডিএসইর শরীয়াহ্ সূচক ৯ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৮৯ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৭ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৮৯ পয়েন্টে পৌঁছায়। তিনটি সূচকের একসঙ্গে বাড়াকে বাজারে সার্বিক ইতিবাচক মনোভাবের লক্ষণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
সকালের লেনদেনের ধারাবাহিকতাও লক্ষ করার মতো। শুরুর প্রথম পাঁচ মিনিটেই ডিএসইএক্স ৮ পয়েন্ট বাড়ে। সকাল ১০টা ১০ মিনিটে সূচক আরও ৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। এরপর সূচকের গতি ক্রমে ঊর্ধ্বমুখী হয়। লেনদেন শুরুর ২০ মিনিট পর, অর্থাৎ সকাল ১০টা ২০ মিনিটে সূচকটি আগের দিনের চেয়ে ২৩ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৬৯ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এরপর আরও ৯ পয়েন্ট যোগ হয়ে আধা ঘণ্টার মাথায় তা ৫ হাজার ৪৭৭ পয়েন্টে পৌঁছায়। অর্থাৎ শুরু থেকে সূচকের পতনমুখী কোনো প্রবণতা দেখা যায়নি।
সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত ডিএসইতে ৮৬ কোটি ৪ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এ সময় লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ২৬১টির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৫৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫০টির। অর্থাৎ লেনদেন হওয়া মোট ৩৬৫টি কোম্পানির মধ্যে প্রায় তিন-চতুর্থাংশের দাম বেড়েছে। দর বৃদ্ধির এই বিস্তৃতি বলছে, সূচকের উত্থান হাতেগোনা কয়েকটি বড় কোম্পানির ওপর নির্ভর করেনি; বরং বাজারের বড় একটি অংশেই ক্রেতার আগ্রহ ছিল।
লেনদেনের শীর্ষে থাকা ১০ কোম্পানির মধ্যে রয়েছে এপেক্স ফুডস, ওরিয়ন ইনফিউশন, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সায়হাম টেক্সটাইল, ইভেন্সি টেক্সটাইল, টেকনো ড্রাগস, একমি লিমিটেড, প্রাইম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড, ফনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও বিডি ল্যাম্পস। তালিকায় তিনটি বস্ত্র খাতের কোম্পানি এবং দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড থাকা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের একটি চিত্র তুলে ধরে। তবে একদিনের সকালের লেনদেন দিয়ে সামগ্রিক প্রবণতা নির্ধারণ করা কঠিন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও একই ধারা দেখা গেছে। লেনদেনের আধা ঘণ্টা পর সকাল সাড়ে ১০টায় সিএসইর সিএএসপিআই সূচক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৪৯ পয়েন্টে অবস্থান করে। এরপর সূচকের গতি ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এ সময় পর্যন্ত সিএসইতে ২ কোটি ৮৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া ২৫টি কোম্পানির মধ্যে ১৩টির দাম বেড়েছে, ১১টির কমেছে এবং একটির অপরিবর্তিত রয়েছে। ডিএসইর তুলনায় সিএসইতে দর বৃদ্ধি ও হ্রাসের ব্যবধান অনেক কম, যা সেখানে বাজারের ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থার ইঙ্গিত দেয়।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সূচকের এমন ধারাবাহিক উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার ইঙ্গিত হতে পারে। তবে লেনদেনের শুরুর ঊর্ধ্বমুখী ধারা সারাদিন বজায় থাকবে কি না, তা নির্ভর করবে দিনের বাকি সময়ের ক্রয়-বিক্রয় চাপের ওপর। বিশেষ করে মুনাফা তোলার প্রবণতা বাড়লে সূচকের গতি বদলে যেতে পারে। তাই বিনিয়োগকারীদের জন্য আবেগতাড়িত সিদ্ধান্তের বদলে কোম্পানির মৌলভিত্তি যাচাই করে বিনিয়োগ করাই বিচক্ষণ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

