মিউচুয়াল ফান্ডের বাজারদরের কৃত্রিম বা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি দেখে হুট করে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। শেয়ারের বাজারদর ও ফান্ডের প্রকৃত সম্পদ মূল্যের (এনএভি) মধ্যে অস্বাভাবিক ব্যবধান তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের সম্ভাব্য মূলধনী লোকসান থেকে রক্ষায় এই জরুরি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
সম্প্রতি পর্যবেক্ষণ করা গেছে যে, গৌণ বা সেকেন্ডারি বাজারে বেশ কিছু মিউচুয়াল ফান্ডের ফান্ডামেন্টাল বা মৌলিক ভিত্তি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও সেগুলোর ইউনিট দর অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে।
বিএসইসি জানায়, ফান্ডের মোট সম্পদ থেকে দায় বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সম্পদকে মোট ইউনিট সংখ্যা দিয়ে ভাগ করে এনএভি বা প্রতি ইউনিটের নিট সম্পদ মূল্য নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু সম্প্রতি কয়েকটি ফান্ডের ক্ষেত্রে এনএভির তুলনায় তিন গুণেরও বেশি দামে লেনদেন হতে দেখা গেছে।
-
প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড: গত সোমবার ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের বাজারভিত্তিক এনএভি ছিল মাত্র ৯ টাকা (ক্রয়মূল্য ভিত্তিক ১৫ টাকা)। অথচ একই দিনে সেকেন্ডারি বাজারে এর লেনদেন বন্ধ হয় ৩২ টাকা ২০ পয়সায়, যা প্রকৃত সম্পদ মূল্যের তিন গুণেরও বেশি। টানা দুই অর্থবছর কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া সত্ত্বেও এক মাসের ব্যবধানে ফান্ডটির দর বেড়েছে প্রায় ৫২ শতাংশ।
-
ফিনিক্স ফাইন্যান্স ১ম মিউচুয়াল ফান্ড: এই ফান্ডটির প্রতি ইউনিটের এনএভি যেখানে ৮ টাকা ৪৯ পয়সা, সেখানে বাজারে লেনদেন হয়েছে ১৭ টাকা ৫০ পয়সায়। টানা তিন অর্থবছর কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া এই ফান্ডটির দরও এনএভির দ্বিগুণের চেয়ে বেশি।
বিএসইসি-র নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব বা কোনো ব্যক্তি-গোষ্ঠীর প্ররোচনায় না প্রলুব্ধ হয়ে ফান্ডগুলোর পোর্টফোলিও, মেয়াদকাল ও আর্থিক অবস্থা যাচাই করা উচিত। কারণ কোনো ফান্ড অবসায়িত বা বিলুপ্ত হলে বিনিয়োগকারীরা বাজারদর নয়, বরং এনএভি অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাবেন।
অস্বাভাবিক দর ও লেনদেন বৃদ্ধির বিষয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদ ব্যবস্থাপক আইসিবি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টকে নোটিশ পাঠায়। জবাবে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, কোনো অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই এই দর বৃদ্ধি ঘটেছে।
তবে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার এই উদ্বেগ সত্ত্বেও পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৩৫টি ফান্ডের সিংহভাগই বর্তমানে তাদের এনএভির চেয়ে অনেক কম দামে (ডিসকাউন্টে) লেনদেন হচ্ছে। নির্দিষ্ট কয়েকটি ফান্ডে অস্বাভাবিক দর বৃদ্ধি পুরো বাজারের ভাবমূর্তিকে ঝুঁকিতে ফেলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

