সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার সূচকের পতনের মধ্য দিয়ে দেশের দুই পুঁজিবাজারে লেনদেন শেষ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের চেয়ে কিছুটা বাড়লেও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) তা কমেছে। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ২০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪২৪ পয়েন্টে অবস্থান করেছে। অন্য দুই সূচকেও একই চিত্র দেখা গেছে। ডিএসইর শরীয়াহ্ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৪ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৪ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭৭ পয়েন্টে নেমে এসেছে। তিনটি সূচকের একসঙ্গে পতন বাজারে সার্বিক নেতিবাচক প্রবণতারই ইঙ্গিত দেয়।
এদিন সকালে চিত্র ছিল ভিন্ন। লেনদেনের প্রথম আধা ঘণ্টায় ডিএসইএক্স ৩২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৭ পয়েন্টে উঠেছিল। কিন্তু দিনের বাকি সময়ে ক্রেতার আগ্রহ ধরে রাখা যায়নি। শেষ পর্যন্ত সূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২০ পয়েন্ট কমে বন্ধ হয়। অর্থাৎ সকালের উত্থান পুরোপুরি মুছে গেছে এবং সেখান থেকে প্রায় ৫৩ পয়েন্ট নেমে এসেছে। এতে মুনাফা তোলার প্রবণতা যে দিনের মধ্যভাগ থেকে জোরালো হয়েছিল, তা অনুমান করা যায়।
ডিএসইতে মঙ্গলবার ৫৬৪ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল ৫৩৭ কোটি ১১ লাখ টাকা। সেই হিসাবে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা। সূচক কমলেও লেনদেন বাড়ায় বোঝা যায়, বিক্রির চাপের মধ্যেও বাজারে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা কমেনি।
এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের ইউনিটের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দাম বেড়েছে মাত্র ৭৯টির, কমেছে ২৭০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪১টির। অর্থাৎ লেনদেন হওয়া প্রতি চারটির মধ্যে তিনটির কাছাকাছির দর কমেছে। সকালের লেনদেনে যেখানে প্রায় তিন-চতুর্থাংশ কোম্পানির দাম বাড়ছিল, দিনশেষে সেই চিত্র পুরোপুরি উল্টে গেছে।
অপর বাজার সিএসইতেও পতনের ধারা স্পষ্ট। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬২ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৫৫৭ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সকালে এই সূচক ২৮ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৬৪৯ পয়েন্টে উঠেছিল। ফলে সিএসইতেও দিনের শুরুর লাভ মুছে গিয়ে বড় পতন হয়েছে। এদিন সিএসইতে হাতবদল হওয়া ১৭৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ারদর বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ১১০টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৮টির।
সিএসইতে মঙ্গলবার ১৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের দিন এই অঙ্ক ছিল ১৭ কোটি ১৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ লেনদেন কমেছে প্রায় ১ কোটি টাকা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, দিনের শুরুতে ঊর্ধ্বমুখী থাকা সূচকের শেষে এমন পতন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি ও অস্থিরতার লক্ষণ। অল্প সময়ের লাভের আশায় কেনাবেচা করার প্রবণতা বাড়লে বাজার এ ধরনের ওঠানামার মধ্য দিয়ে যায়। তাঁদের পরামর্শ, গুজব বা আবেগের ওপর ভর না করে কোম্পানির মৌলভিত্তি যাচাই করে বিনিয়োগ করাই নিরাপদ। আগামী কার্যদিবসগুলোতে বাজার ঘুরে দাঁড়ায় কি না, সেদিকে নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।

