দেশের দুই শেয়ারবাজারেই টানা চার কার্যদিবস ধরে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বরের সাময়িক ঊর্ধ্বমুখী ধারার পর থেকে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রতিনিয়ত পয়েন্ট হারাচ্ছে সব ধরনের সূচক। জাতীয় দৈনিক বণিক বার্তার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ২০ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪২৫ পয়েন্টে নেমে এসেছে, যা আগের দিন ছিল ৫ হাজার ৪৪৫ পয়েন্ট।
ডিএসইর ব্লু-চিপ বা বাছাই করা ৩০টি কোম্পানির সূচক ‘ডিএস-৩০’ দিনের ব্যবধানে ৫ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিন ছিল ২ হাজার ৮২ পয়েন্ট। একই সঙ্গে শরিয়াহভিত্তিক সূচক ‘ডিএসইএস’ ৫ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭৫ পয়েন্টে অবস্থান করছে। সূচকের এই ধারাবাহিক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টর্ন হাউজিং এবং ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) মতো বড় মূলধনী কোম্পানির শেয়ার।
তবে সূচক কমলেও লেনদেনের অঙ্কে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। গতকাল ডিএসইতে ৫৬৪ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৫৩৭ কোটি টাকার তুলনায় ২৭ কোটি টাকা বেশি। এদিন হাতবদল হওয়া ৩৯০টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে মাত্র ৭৯টির দর বেড়েছে, ২৭০টির দর কমেছে এবং ৪১টি কোম্পানির শেয়ার দর অপরিবর্তিত ছিল।
খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্রে বস্ত্র খাতের একক আধিপত্য স্পষ্ট ছিল। ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৯.৮ শতাংশ দখল করে শীর্ষে অবস্থান করছে বস্ত্র খাত। ১১.৫ শতাংশ লেনদেন নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল সাধারণ বীমা খাত। এছাড়া ৯.৯ শতাংশ লেনদেন নিয়ে ওষুধ ও রসায়ন খাত তৃতীয়, ৭.৩ শতাংশ লেনদেন নিয়ে প্রকৌশল খাত চতুর্থ এবং ৬.৮ শতাংশ লেনদেন নিয়ে মিউচুয়াল ফান্ড খাত পঞ্চম স্থানে ছিল।
বেশির ভাগ খাতের শেয়ারেই নেতিবাচক রিটার্ন দেখা গেলেও কয়েকটি খাতে বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। দিনের ব্যবধানে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ৩.৫ শতাংশ। এছাড়া আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ২.৪ শতাংশ, সাধারণ বীমা খাতে ২.১ শতাংশ, সেবা খাতে ২ শতাংশ এবং ভ্রমণ খাতে ১.৯ শতাংশ ইতিবাচক রিটার্ন রেকর্ড করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) একই ধরনের মন্দা ভাব বজায় ছিল। সিএসইর নির্বাচিত সূচক ‘সিএসসিএক্স’ ৩৩ পয়েন্ট কমে ৮ হাজার ৯৩৯ পয়েন্টে এবং সার্বিক শেয়ার সূচক ‘সিএএসপিআই’ ৬৩ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৫৫৮ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৭৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৪৭টির, কমেছে ১১০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির দর।

