দেশের পুঁজিবাজারে চলমান তারল্য সংকট কাটাতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তহবিল সুবিধার সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ব্রোকারদের সংগঠন। সংগঠনটির প্রস্তাব, প্রতিটি তফসিলি ব্যাংকের জন্য এই তহবিলের সীমা ২০০ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হোক। একই সঙ্গে সুবিধাটির মেয়াদও আরও পাঁচ বছর বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে। সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলামের সই করা এই চিঠি গত মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর জমা দেওয়া হয়। চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের কাছেও।
চিঠিতে ডিবিএ উল্লেখ করেছে, পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ ও বাজার উন্নয়নের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই বিশেষ তহবিল সুবিধা চালু করেছিল। সংগঠনটির মতে, এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের সক্ষমতা বেড়েছে, বাজারের তারল্য ও স্থিতিশীলতা এসেছে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থাও কিছুটা ফিরেছে। অর্থাৎ বিদ্যমান সুবিধাকে তারা বাজারের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখা একটি উদ্যোগ হিসেবে দেখছে।
বর্তমান নিয়মে প্রতিটি তফসিলি ব্যাংক সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত এই তহবিল গঠন করতে পারে। সুবিধাটির বর্তমান মেয়াদ শেষ হবে আগামী ৩০ নভেম্বর। মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ডিবিএ নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, তহবিলের সীমা ৩০০ কোটি টাকায় উন্নীত করতে হবে। একই সঙ্গে নতুন মেয়াদ হতে হবে ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০৩১ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত।
প্রস্তাবের পেছনে বৈশ্বিক পরিস্থিতিকেও যুক্তি হিসেবে তুলে ধরেছে ডিবিএ। সংগঠনটির ভাষ্য, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে বিশ্বজুড়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এমন সময়েও যদি তহবিল সুবিধা চালু থাকে এবং এর পরিধি বাড়ানো হয়, তবে পুঁজিবাজারে তারল্য বাড়বে, বাজারের গভীরতা আসবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়বে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থাও জোরদার হবে বলে সংগঠনটি মনে করে।
চিঠির শেষে ডিবিএ আশা প্রকাশ করেছে, পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই উন্নয়নে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
এই দাবির মধ্য দিয়ে পুঁজিবাজারে তারল্যের চাপ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ওপর ব্রোকারদের নির্ভরতার বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে। তবে প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হবে কি না, সে বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসির কোনো প্রতিক্রিয়া এখনো জানা যায়নি। মেয়াদ শেষ হতে সময় কম থাকায় নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্তের দিকে এখন বাজারসংশ্লিষ্টদের নজর থাকবে।

