সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস আজ বৃহস্পতিবার দেশের দুই পুঁজিবাজারেই মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে। তবে একই সঙ্গে দুই বাজারেই লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দর বেড়েছে বেশি সংখ্যক কোম্পানির শেয়ারের, কিন্তু চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) দর কমেছে তুলনামূলক বেশি শেয়ারের। এরপরও সিএসইর সূচক কিছুটা বেড়েছে।
ডিএসইতে দিনের লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বাড়ার মধ্য দিয়ে। এতে শুরুতেই সূচকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায় এবং তা লেনদেনের শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে। তবে শেষদিকে কিছু কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যাওয়ায় সূচকের বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে আসে।
দিন শেষে ডিএসইতে ১৭১টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে ১৫০টির দর কমেছে এবং ৬৪টির দর অপরিবর্তিত থেকেছে। অর্থাৎ দর বাড়া ও কমার ব্যবধান খুব বেশি নয়, যা বাজারের সামগ্রিক চিত্রকে মিশ্র করে তুলেছে।
খাতভিত্তিক হিসাবে, ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৮৮টির শেয়ারের দর বেড়েছে, ৭৬টির কমেছে এবং ২৮টির অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানিগুলোর ৩১টির দর বেড়েছে, ৩৭টির কমেছে এবং ছয়টির অপরিবর্তিত থেকেছে। লভ্যাংশ না দেওয়ায় ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৫২টির দর বেড়েছে, ৩৬টির কমেছে এবং ৩০টির অপরিবর্তিত রয়েছে। এ ছাড়া ১৭টি মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে, চারটির কমেছে এবং ১০টির অপরিবর্তিত থেকেছে।
দর বাড়ার তালিকা তুলনামূলক বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের চেয়ে ১১ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৫ পয়েন্টে উঠেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ০ দশমিক ৯৩ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৬ পয়েন্ট।
সূচক বাড়লেও লেনদেনের পরিমাণে কমতি দেখা গেছে। আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৫৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে তা ছিল ৬০৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে ৭১ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। সকালের দিকে লেনদেন শুরুর আধা ঘণ্টায় ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪৯৪ পয়েন্টে উঠেছিল। দিন শেষে তা নেমে এসেছে ৫ হাজার ৪৭৫ পয়েন্টে, যা শেষ দিকে বিক্রির চাপের ইঙ্গিত দেয়।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল ইভিন্স টেক্সটাইল, কোম্পানিটির ২৪ কোটি ৮১ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৯ লাখ টাকার। ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন করে তৃতীয় অবস্থানে আছে সোনালী আঁশ। শীর্ষ ১০ কোম্পানির তালিকায় আরও রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, বেক্সিমকো, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, ওরিয়ন ইনফিউশন, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ও অ্যাপেক্স ফুডস। তালিকায় টেক্সটাইল খাতের কোম্পানির আধিক্য চোখে পড়ার মতো।
অন্য বাজার সিএসইতে চিত্র কিছুটা আলাদা। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৮২টি কোম্পানির মধ্যে ৭৫টির শেয়ার ও ইউনিটের দর বেড়েছে। বিপরীতে ৮১টির দর কমেছে এবং ২৬টির অপরিবর্তিত থেকেছে। দর কমার তালিকা বড় হলেও সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৫ পয়েন্ট বেড়েছে। তবে লেনদেন কমেছে। আজ সিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ১৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে দুই বাজারেই সূচকের বৃদ্ধি খুবই সীমিত। সকালের শুরুর চাঙ্গাভাব দিন শেষে অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। লেনদেন কমে যাওয়া ইঙ্গিত দেয়, বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে আছেন এবং বড় ধরনের ক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। পরবর্তী কার্যদিবসে বাজার কোন দিকে মোড় নেয় এবং লেনদেন আবার বাড়ে কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে বাজারসংশ্লিষ্টদের।

