দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত শীর্ষস্থানীয় চার কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ব্যবসায় তাদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য আকর্ষণীয় লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ বা ডিএসই সূত্রে প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদনে এই লভ্যাংশের প্রস্তাবনাগুলো প্রকাশ করা হয়। বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ধরে রাখতে এবং ব্যবসায়িক মুনাফার সুফল সরাসরি শেয়ারহোল্ডারদের হাতে পৌঁছে দিতে কোম্পানিগুলোর এই ঘোষণা পুঁজিবাজারে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে বরাবরের মতো বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ।
খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠান অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ তাদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। সমাপ্ত অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বা ইপিএস হয়েছে ১০ টাকা। এছাড়া গত ৩০ জুন পর্যন্ত কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি দাঁড়িয়েছে ৬৯ টাকা ৩৫ পয়সায়। ঘোষিত এই লভ্যাংশ সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অনুমোদন করাতে আগামী ৩০ নভেম্বর বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম আহ্বান করা হয়েছে, যার জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ৪ নভেম্বর। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের কাছে প্রতিষ্ঠানটির এই ধারাবাহিক লভ্যাংশ প্রদান বরাবরের মতোই বেশ আকর্ষণীয় বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিচিত প্রতিষ্ঠান ডরিন পাওয়ার জেনারেশন সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। বিদায়ী অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা বা ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ৩ পয়সা এবং শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য ছিল ৫৭ টাকা ১২ পয়সা। আগামী ২৪ ডিসেম্বর ডরিন পাওয়ারের এজিএম অনুষ্ঠিত হবে এবং এর জন্য রেকর্ড তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১২ নভেম্বর। অন্যদিকে, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১১ শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের জন্য ৭ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আলোচ্য অর্থবছরে সিমটেক্সের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ২৫ পয়সা এবং নিট সম্পদমূল্য ২২ টাকা ৭২ পয়সা। কোম্পানিটির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১৭ ডিসেম্বর এবং রেকর্ড তারিখ ৫ নভেম্বর।
তালিকভুক্ত অপর প্রতিষ্ঠান জিকিউ বলপেন তাদের শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। তবে বিদায়ী অর্থবছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা তুলনামূলক কম; মাত্র ১২ পয়সা হয়েছে, যদিও ৩০ জুন শেষে তাদের শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেশ শক্ত অবস্থানে অর্থাৎ ১৪৩ টাকা ৬০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। কোম্পানিটির এজিএম অনুষ্ঠিত হবে ৩০ নভেম্বর এবং রেকর্ড তারিখ নির্ধারিত হয়েছে ৪ নভেম্বর। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত এই কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে কোম্পানির প্রকৃত আর্থিক স্বাস্থ্য ও মুনাফা বিতরণের চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
সাধারণত অর্থবছরের হিসাব শেষ হওয়ার পর তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলো তাদের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে লভ্যাংশ ঘোষণা করে থাকে, যা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। দীর্ঘমেয়াদি ও মৌলভিত্তির শেয়ারে লভ্যাংশ ঘোষণার এই সময়টাতে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির হিসেব মেলানোর সুযোগ তৈরি হয়। কোম্পানিগুলোর করপোরেট সুশাসন, সঠিক সময়ে এজিএম সম্পন্ন করা এবং নির্ধারিত রেকর্ড তারিখের মধ্যে শেয়ার হোল্ড রাখার প্রক্রিয়াগুলো পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। আসন্ন এজিএমে শেয়ারহোল্ডারদের চূড়ান্ত অনুমোদনের পর এই লভ্যাংশ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে জমা হবে।

