সপ্তাহজুড়ে নিম্নমুখী ছিল দেশের শেয়ারবাজার। গত সপ্তাহের কার্যদিবসের লেনদেন শেষে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫৬ দশমিক ০৭ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭৫ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে। একই সময়ে দৈনিক গড় লেনদেন কমেছে ২১ শতাংশ। খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বড় দরপতন হয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড ও সাধারণ বিমায়।
সপ্তাহের পাঁচ কার্যদিবস শেষে ডিএসইএক্স ৫ হাজার ৪৭৫ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে নেমেছে। দৈনিক গড় লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ৫৫৬ কোটি টাকায়। এদিকে ডিএসইর বাজার মূলধন ০.২৫ শতাংশ কমে ৬ লাখ ৮৪ হাজার কোটি টাকায় নেমেছে।
সপ্তাহের প্রথম তিন কার্যদিবসে টানা দরপতনের পর শেষ দুই দিনে সূচকে কিছুটা উত্থান দেখা যায়। রোববার সূচক কমে ০.৮৯ শতাংশ, সোমবার ০.৬৮ শতাংশ এবং মঙ্গলবার ০.৩৭ শতাংশ। বুধবার সূচক বাড়ে ০.৭২ শতাংশ এবং বৃহস্পতিবার ০. ২১ শতাংশ। তবে শেষ দুই দিনের উত্থান সাপ্তাহিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারেনি।
খাতভিত্তিক লেনদেনে সবচেয়ে বেশি দরপতন হয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডে। সপ্তাহজুড়ে এ খাতের ইউনিটের দাম কমেছে ৬.৬০ শতাংশ। সাধারণ বিমা খাতে দরপতন হয়েছে ৫.।১৬ শতাংশ। এ ছাড়া নন-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ০.৭৮ শতাংশ এবং জীবন বিমা খাতে ০.৩৩ শতাংশ পতন হয়েছে। বিপরীতে ব্যাংক খাতের শেয়ারের দর সামান্য বেড়েছে ০.০৪ শতাংশ।
বাজারে দরপতনের ব্যাপকতা ছিল উল্লেখযোগ্য। সপ্তাহে ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৮৫টি শেয়ার ও তহবিলের মধ্যে ২৯০টির দাম কমেছে, বেড়েছে ৮১টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৪টির। ওষুধ ও রসায়ন খাতের শেয়ারের দর কমেছে ১.০৫ শতাংশ। অন্যদিকে টেলিযোগাযোগ খাতে ০.২৭ শতাংশ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ০.১৫ শতাংশ দরবৃদ্ধি হয়েছে।
সপ্তাহে ডিএসইর মোট লেনদেনের ৩২ শতাংশ এসেছে বস্ত্র খাত থেকে। ওষুধ খাতের অবদান ছিল ৯.৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিমা খাতের ৯.৫ শতাংশ। সাইহাম টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল ও ইভিন্স টেক্সটাইল ছিল সবচেয়ে বেশি লেনদেন হওয়া শেয়ারগুলোর মধ্যে।
এদিকে এপেক্স ফুডসের শেয়ারদর সপ্তাহজুড়ে ২৬.৬৬ শতাংশ বেড়েছে। বাংলাদেশ ল্যাম্পসের বেড়েছে ১৭.১০ শতাংশ এবং আজিজ পাইপসের ১২.৯৬ শতাংশ। বিপরীতে ফিনিক্স ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিটের দাম কমেছে ২২.৭৩ শতাংশ। সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালসের শেয়ারদর কমেছে ১৬.৮০ শতাংশ।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সপ্তাহজুড়ে দরপতন হয়েছে। এ সময়ে এক্সচেঞ্জটির সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ১.১৫ শতাংশ কমে ১৪ হাজার ৬৬১ পয়েন্টে নেমেছে। অন্যদিকে, নির্বাচিত কোম্পানিগুলোর সূচক সিএসসিএক্স ০.৯২ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ১৭ পয়েন্টে।
সপ্তাহজুড়ে পতন হলেও বছরের শুরু থেকে ডিএসইএক্স ১২.৫৪ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডিএসই ৩০ সূচক বেড়েছে ১৩.৬০ শতাংশ এবং শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক ৮.৬২ শতাংশ।
বাজার পর্যালোচনায় ইবিএল সিকিউরিটিজ জানিয়েছে, কম দামে শেয়ার কেনার সুযোগ কাজে লাগাতে কিছু বিনিয়োগকারী বাজারে ফিরেছেন। এতে সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবসে সূচকে পুনরুদ্ধার দেখা যায়। তবে কোম্পানিগুলোর দুর্বল আয় নিয়ে আশঙ্কা এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাব বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রেখেছে।

