দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) পিএলসি নিজস্ব কর্মী এবং ব্রোকারেজ হাউস তথা ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) হোল্ডারদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্টোবর মাসজুড়ে এক বিশেষ সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো উদযাপিত এই ‘সাইবার সিকিউরিটি অ্যাওয়ারনেস মান্থ’ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো অনলাইন জালিয়াতি ঠেকানো, সিকিউর ডিজিটাল ট্রানজেকশন তৈরি করা এবং ক্যাপিটাল মার্কেটের ডাটা সুরক্ষায় সচেতনতা বজায় রাখা। আধুনিক প্রযুক্তিচালিত এই ট্রেডিং সিস্টেমে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত প্রযুক্তিগত ঝুঁকি এড়াতে এই উদ্যোগ বাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য একটি মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিএসইর অফিশিয়াল চত্বর ও অফিস প্রাঙ্গণজুড়ে নানা ধরনের সচেতনতামূলক ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। এর পাশাপাশি কর্মীদের কাজের পিসিতে বিশেষ ধরনের কাস্টমাইজড ডেস্কটপ ওয়ালপেপার দেওয়া হয়েছে, যা প্রতিনিয়ত তাদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের নিয়মাবলি মনে করিয়ে দেবে। প্রতিদিনের অফিশিয়াল কাজ সম্পাদনের সময় কোনো ধরনের সন্দেহজনক বা অজ্ঞাত ইমেইল, ভুয়া ফিশিং লিংক এবং ক্ষতিকর সফটওয়্যার কিংবা ম্যালওয়্যার চেনার উপায় কী এবং সেগুলোর মুখোমুখি হলে তাৎক্ষণিক করণীয় কী; তা এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিশদভাবে শেখানো হচ্ছে।
বাজারের সবচেয়ে বড় অংশীদার ব্রোকারেজ হাউস বা ট্রেক হোল্ডারদের সার্বিক সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনলাইন জুমিং সেশনের আয়োজন করা হচ্ছে। তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ধরণ অনুযায়ী আলাদা আলাদা গ্রুপে ভাগ করে এই ইন্টারঅ্যাকটিভ টেকনিক্যাল ট্রেনিংগুলো দেওয়া হচ্ছে। একই সাথে অংশগ্রহণকারীরা সাইবার সিকিউরিটির বিষয়টি কতটা সতর্কতার সাথে আয়ত্ত করতে পারলেন, তা মূল্যায়নের জন্য একটি অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। কুইজে যেসব সদস্য ও হাউস সেরা পারফরম্যান্স প্রদর্শন করবে, তাদের জন্য বিশেষ পুরষ্কার ও স্বীকৃতি নির্ধারণ করেছে কর্তৃপক্ষ।
ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে যেসব ব্রোকারেজ হাউস সাইবার সুরক্ষার শর্তাবলি এবং নীতিমালা কড়াভাবে মেনে চলবে, তাদের আলাদাভাবে মূল্যায়িত করা হবে। পরবর্তীতে ডিএসইর নিয়মিত ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ অনুষ্ঠানে পুরস্কৃত ট্রেক হোল্ডারদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ প্রশংসাপত্র বা সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে, যাতে ব্রোকারেজ হাউসগুলো তাদের গ্রাহকদের ডাটা সুরক্ষায় আরও বেশি যত্নশীল ও সতর্ক হতে উৎসাহিত হয়।
পুরো ক্যাম্পেইনটি সফলভাবে পরিচালনা করতে কাজ করছে ডিএসইর ইনফরমেশন সিকিউরিটি সেকশন (আইএসএস)। এই টেকনিক্যাল টিমের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সহায়তায় রয়েছে ডিএসইর আইটি ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগ, নেটওয়ার্কিং ইউনিট, পাবলিকেশন ও জনসংযোগ বিভাগ এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) দপ্তর। ডিএসই কর্তৃপক্ষের মতে, শুধু দামি সফটওয়্যার বা অ্যান্টিভাইরাসের মতো ফায়ারওয়াল বসালেই একটি প্রযুক্তি নির্ভর পুঁজিবাজারকে পুরোপুরি নিরাপদ করা যায় না। এর জন্য দরকার প্রত্যেক ব্যবহারকারী ও ট্রাডারের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণ। এই মাসব্যাপী সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, ভরসাযোগ্য ও শক্তিশালী ডিজিটাল স্টক এক্সচেঞ্জ গড়ে উঠবে বলে আশা করছে ডিএসই।

