দেশের শেয়ারবাজারে দরপতনের ধারা আজও অব্যাহত থেকেছে। আজ সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। এতে দুই বাজারেই মূল্যসূচক নিচে নেমেছে। ডিএসইতে একই সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।
দিনের শুরুটা অবশ্য ছিল ভিন্ন। লেনদেন শুরুর সময় বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বাড়তে দেখা যায়, ফলে সূচকও কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই দাম কমার তালিকা দীর্ঘ হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত বড় পতন নিয়েই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
ডিএসইতে দিনশেষে ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৩০৩টির। অপরিবর্তিত ছিল ৩৫টির দাম। অর্থাৎ দাম বাড়া কোম্পানির প্রায় সাড়ে ছয় গুণ কোম্পানির দাম কমেছে।
খাতভিত্তিক চিত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ ও তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ২১টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১৫৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৭টি। ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া মাঝারি মানের কোম্পানির মধ্যে সাতটির দাম বেড়েছে, কমেছে ৬৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল দুটি। লভ্যাংশ না দেওয়ায় ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে ১৯টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৮৩টির এবং ১৬টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে ২৩টির দাম কমেছে, আটটি অপরিবর্তিত ছিল, আর একটিরও দাম বাড়েনি।
ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৪৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪০৪ পয়েন্টে নেমেছে। বাছাই করা ৩০ ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৯৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৯ পয়েন্ট কমে হয়েছে ১ হাজার ৭০ পয়েন্ট।
সূচকের সঙ্গে লেনদেনের গতিও কমেছে। আজ ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪৫২ কোটি ৮১ লাখ টাকার। আগের কার্যদিবসে এ অঙ্ক ছিল ৫৬৮ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। ফলে এক দিনে লেনদেন কমেছে ১১৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
লেনদেনের শীর্ষে ছিল ইভিন্স টেক্সটাইল, কোম্পানিটির ১৭ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে বেক্সিমকো, লেনদেন ১৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। তৃতীয় স্থানে সোনালী আঁশ, লেনদেন ১৩ কোটি ২৯ লাখ টাকা। শীর্ষ ১০ লেনদেনকারী কোম্পানির তালিকায় আরও আছে সায়হাম টেক্সটাইল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, আইপিডিসি ফাইন্যান্স, ব্র্যাক ব্যাংক, আনোয়ার গ্যালভানাইজিং ও এমএল ডাইং।
সিএসইতেও একই চিত্র। সেখানে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৭৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৭টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১২০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২২টি। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৮৪ পয়েন্ট কমেছে। মোট লেনদেন হয়েছে ২৯ কোটি ৪ লাখ টাকা।
আজকের চিত্রে লক্ষ করার বিষয় হলো, ভালো মৌলভিত্তির কোম্পানির শেয়ারও চাপমুক্ত থাকেনি। ১০ শতাংশ বা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া ১৯৩টি কোম্পানির মধ্যে ১৫৫টির দামই কমেছে। এ থেকে বোঝা যায়, বিক্রির চাপ শুধু দুর্বল শেয়ারে সীমাবদ্ধ নেই, পুরো বাজারেই ছড়িয়েছে। দিনের শুরুতে ইতিবাচক সুর থাকলেও তা ধরে রাখতে না পারা বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতিরও ইঙ্গিত দেয়। তবে পতনের কারণ নিয়ে প্রতিবেদনে কোনো মন্তব্য নেই।

