সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচক ও লেনদেন বেড়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান মূল্যসূচক ২২ পয়েন্ট বেড়েছে। দিন শেষে ডিএসইতে লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৪৯৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সার্বিক সূচক ও লেনদেন দুটিই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। ডিএসই ও সিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এদিন ২২ পয়েন্ট বেড়ে ৫ হাজার ৪৫২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। অন্য দুই সূচকও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। শরিয়াহ সূচক ৫ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৭৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই-৩০ সূচক বেড়েছে ৩ পয়েন্ট, যার অবস্থান এখন ২ হাজার ৯৬ পয়েন্ট। তিনটি সূচকের একসঙ্গে বাড়াকে দিনের লেনদেনে ইতিবাচক প্রবণতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ডিএসইতে এদিন শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট মিলিয়ে মোট ৪৯৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবস বুধবার (১৪ অক্টোবর) এ অঙ্ক ছিল ৪১৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক কার্যদিবসের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ৮৩ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূচকের উত্থান বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।
বৃহস্পতিবার ডিএসইতে মোট ৩৮৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৪০টির দর বেড়েছে, ৯০টির দর কমেছে এবং ৫৫টির দর অপরিবর্তিত ছিল। অর্থাৎ লেনদেনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দর বেড়েছে। এটি সূচকের উত্থানের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ।
দিনের লেনদেনের শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় ছিল সায়হাম টেক্সটাইল, সোনালী আঁশ, বিএসআরএম স্টিল, নাহি অ্যালুমিনিয়াম, ইসলামী ইনস্যুরেন্স, ফার ইস্ট নিটিং, ইভেন্স টেক্সটাইল, স্কয়ার ফার্মা, সেনা ইনস্যুরেন্স ও ওরিয়ন ইনফিউশন।
সিএসইতেও একই চিত্র দেখা গেছে। সেখানে সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬০ পয়েন্ট বেড়ে ১৪ হাজার ৫৭৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১০৯টির দর বেড়েছে, কমেছে ৩৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২০টির। সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ২০ কোটি ৫৪ লাখ টাকা, যা আগের দিন ছিল ৬ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে ১৪ কোটি ২ লাখ টাকা।
শতাংশের হিসাবে সিএসইতে লেনদেনের এই বৃদ্ধি ডিএসইর তুলনায় অনেক বেশি। তবে সিএসইর লেনদেনের মোট পরিমাণ তুলনামূলক ছোট হওয়ায় সামান্য অঙ্কের পরিবর্তনেও শতাংশের হিসাবে বড় ব্যবধান দেখা যায়। ডিএসইতে লেনদেন প্রায় ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছানো বাজারে সক্রিয়তার ইঙ্গিত দিলেও এক দিনের চিত্র দিয়ে বাজারের দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ নির্ধারণ করা যায় না।
লেনদেনের শীর্ষে বস্ত্র, ইস্পাত, বিমা ও ওষুধ খাতের প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি দেখা গেছে। কোন খাতে বেশি দর বেড়েছে বা কোন কারণে বিনিয়োগকারীরা বেশি আগ্রহী হয়েছেন, সে বিষয়ে প্রকাশিত তথ্যে বিশ্লেষণ নেই। আগামী সপ্তাহে এ প্রবণতা ধরে রাখা যায় কি না, তা-ই এখন বাজারসংশ্লিষ্টদের নজরে থাকবে।

