দেশে তীব্র গ্যাস সংকট ও ব্যয়বহুল আমদানিকৃত জ্বালানির পটভূমিতে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝোঁকার বড় উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ খাতের বেসরকারি প্রতিনিধি কনফিডেন্স পাওয়ার। কক্সবাজার, বাগেরহাট ও চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে মোট ৪০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার তিনটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে চার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগের রূপরেখা ঘোষণা করেছে তারা। এই মেগা প্রকল্পের একটি অংশ অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজার থেকে বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিওর মাধ্যমে ৪০০ কোটি টাকা তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে আজ রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘রোড শো’ আহ্বান করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
আইপিও প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে তোলা অর্থের সিংহভাগ অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ সরাসরি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের নতুন জমি কেনা এবং ভৌত অবকাঠামো নির্মাণে ব্যবহার করা হবে। বাকি ১৫ শতাংশ ব্যবহার করা হবে আগের ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে এবং ২ শতাংশ অর্থ আইপিও সংশ্লিষ্ট খরচ বাবদ রাখা হয়েছে। আর্থিক প্রতিবেদনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কনফিডেন্স পাওয়ার অ্যান্ড এনার্জির একক সম্পদের পরিমাণ ৫,১৬৩ কোটি টাকা। বগুড়া, রংপুর ও চট্টগ্রামে ফার্নেস তেলচালিত নিজস্ব ৩৯৩ মেগাওয়াটের সফল বিদ্যুৎকেন্দ্র সামলানোর পর এবার পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি বা সোলার প্যানেলে ব্যবসার বড় বৈচিত্র্য আনতে চলেছে নবগঠিত এই কনসোর্টিয়াম।
প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ইমরান করিম বগুড়া ও রংপুরের সবুজে ঘেরা বিদ্যুৎকেন্দ্র সরেজমিন পরিদর্শনকালে জানান, দেশে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বা টেকসই বিকল্প জ্বালানি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সোলার সিস্টেমই একমাত্র প্রধান ভরসা। দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের ইনস্টল্ড ক্যাপাসিটি সাড় ২৮ হাজার মেগাওয়াট হলেও গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে এক-তৃতীয়াংশ বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসে থাকে। ২০২৯ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়িয়ে ১,০০০ মেগাওয়াটে নেওয়া এবং পরবর্তীতে তা ২০০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বুক-বিল্ডিং পদ্ধতিতে শেয়ারের কাট-অফ প্রাইস বা প্রান্তিক মূল্য নির্ধারণে এই রোড শো অত্যন্ত জরুরি ধাপ। সরকার যেখানে রুফটপ সোলার ও গ্রিড-টাইড সোলার পাওয়ারকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে, সেখানে পুঁজিবাজার থেকে মূলধন সংগ্রহ নিশ্চিত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। আইপিও অনুমোদন পেলে এটি দেশের শেয়ারবাজারের ক্যাপিটাল মার্কেট ক্যাটাগরিতে বিদ্যুৎ খাতের অন্যতম বড় ইকুইটি ফাইন্যান্সিংয়ের উদাহরণ হয়ে উঠবে।

