বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) লভ্যাংশ অনুমোদনের পরদিনই শেয়ারহোল্ডারদের ব্যাংক হিসাবে নগদ অর্থ পাঠিয়েছে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জন্য কোম্পানিটির অনুমোদিত ১৮০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশের অর্থ দ্রুত বিতরণের এ উদ্যোগ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। কোম্পানির ভাষ্য, শক্তিশালী তারল্য পরিস্থিতি ও কার্যকর ব্যবস্থাপনার কারণে এত অল্প সময়ে লভ্যাংশ বিতরণ সম্ভব হয়েছে। ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি এবং এ বিষয়ে প্রকাশিত অন্যান্য প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত কোম্পানিটির ২০তম এজিএমে নগদ ও স্টক; দুই ধরনের লভ্যাংশই অনুমোদন করেন শেয়ারহোল্ডাররা।
সভায় ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের জন্য পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাবিত ১৮০ শতাংশ নগদ এবং ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এর অর্থ, ১০ টাকা অভিহিত মূল্যের প্রতিটি সাধারণ শেয়ারের বিপরীতে বিনিয়োগকারীরা নগদ ১৮ টাকা পাবেন। পাশাপাশি তাঁদের হাতে থাকা প্রতি ১০টি শেয়ারের বিপরীতে একটি করে বোনাস শেয়ার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কোম্পানির উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানি সচিব মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ব্যাংক হিসাবে অনুমোদিত নগদ লভ্যাংশের অর্থ এজিএমের পরদিনই পাঠানো হয়েছে। তাঁর মতে, প্রতিষ্ঠানের পরিচালনগত দক্ষতা এবং তারল্য ব্যবস্থাপনা এ দ্রুত বিতরণে ভূমিকা রেখেছে।
লভ্যাংশ দেওয়ার পাশাপাশি গত হিসাব বছরে মুনাফাও বাড়িয়েছে ওয়ালটন। কোম্পানির অনুমোদিত নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ হিসাব বছরে নিট মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ১২৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। আগের হিসাব বছরে মুনাফা ছিল ১ হাজার ৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। একই সময়ে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ৩১ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে ৩৩ টাকা ৭৫ পয়সায় উঠেছে। আগের হিসাব বছরে ব্যাংকঋণের সুদ বাবদ ব্যয় বেশি থাকলেও ২০২৫-২৬ সালে অর্থায়ন ব্যয় কমে আসা মুনাফা বৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে বলে কোম্পানির আগের আর্থিক প্রতিবেদনভিত্তিক প্রকাশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্পদের হিসাবেও কোম্পানিটির অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে আর্থিক প্রতিবেদনে। পুনর্মূল্যায়নসহ মোট নিট সম্পদ মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। পুনর্মূল্যায়নসহ শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য ৩৮১ টাকা ২৬ পয়সা এবং পুনর্মূল্যায়ন বাদে ২৮০ টাকা ২৪ পয়সা। এসব পরিসংখ্যান কোম্পানির সম্পদভিত্তিক আর্থিক অবস্থার ধারণা দেয়; তবে নিট সম্পদ মূল্য ও শেয়ারবাজারে লেনদেন হওয়া শেয়ারের দাম এক বিষয় নয়। বাজারদর নির্ধারিত হয় কোম্পানির ভবিষ্যৎ আয়, ঝুঁকি, বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ও চাহিদাসহ নানা বিষয়ের ভিত্তিতে।
এদিকে অনুমোদিত ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ কোম্পানির সঞ্চিত মুনাফা বা রিটেইনড আর্নিংস থেকে দেওয়া হবে। ওয়ালটনের ভাষ্য অনুযায়ী, কোম্পানির গ্রিন এনার্জি সক্ষমতা বাড়ানো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণসংক্রান্ত কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে এ সিদ্ধান্ত সম্পর্কিত। নগদ লভ্যাংশের বিপরীতে বোনাস শেয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে কোম্পানির সঞ্চিত মুনাফার একটি অংশ পরিশোধিত মূলধনে স্থানান্তরিত হয়; এতে শুধু শেয়ারের সংখ্যা বাড়ার কারণে বিনিয়োগকারীর মোট সম্পদমূল্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে না। তাই কোম্পানির লভ্যাংশের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ মুনাফা, নগদ প্রবাহ ও বিনিয়োগ পরিকল্পনার অগ্রগতিও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
ওয়ালটনের এবারের লভ্যাংশ বিতরণের বিশেষ দিক হলো অনুমোদনের পর অর্থ পাঠানোর দ্রুততা। তবে একটি প্রতিষ্ঠানের দ্রুত লভ্যাংশ বিতরণকে সামগ্রিক পুঁজিবাজারের অবস্থার সূচক হিসেবে দেখা যায় না। বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে নিয়মিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ, মুনাফার গুণগত মান, নগদ প্রবাহ এবং মূলধন ব্যবহারের দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

