দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রেনাটা পিএলসি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মুনাফায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আগের অর্থবছরে মুনাফায় বড় ধরনের পতনের পর এবার প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বেড়েছে ৬৪ শতাংশ। বিক্রির পরিমাণ বৃদ্ধি, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, পরিচালন দক্ষতার উন্নতি এবং ঋণসংক্রান্ত আর্থিক ব্যয় কমে আসাকে এই অগ্রগতির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেনাটার আয় আগের অর্থবছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৬২০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির মুনাফা বেড়ে হয়েছে ৩৬৪ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মুনাফা কমেছিল ৪৪ শতাংশ। নতুন কারখানায় বিনিয়োগের কারণে ঋণসংক্রান্ত আর্থিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তখন মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল।
রেনাটার কোম্পানি সচিব জুবায়ের আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রতিকূল থাকা এবং পণ্যের দাম নির্ধারণে সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ, অধিক মুনাফা পাওয়া যায় এমন পণ্যের ওপর গুরুত্ব এবং আর্থিক ঝুঁকি মোকাবিলার উদ্যোগের কারণে প্রতিষ্ঠানটি ভালো ফল করেছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেনাটার সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় ৬৪ শতাংশ বেড়ে ৩১ টাকা ৭৬ পয়সায় দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরে এই আয় ছিল ১৯ টাকা ৩৬ পয়সা। মুনাফা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ারপ্রতি আয়ের এই উন্নতি হয়েছে।
একই সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট পরিচালন নগদ প্রবাহ বেড়ে ৪৯ টাকা ৮৮ পয়সা হয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪১ টাকা ১৬ পয়সা। পরিচালন মুনাফা বৃদ্ধি পাওয়ায় নগদ প্রবাহের এই উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত রেনাটার শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২৯ টাকা ১৯ পয়সায়। আগের বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ৩০৫ টাকা ৪৯ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক ফলাফলের ভিত্তিতে রেনাটার পরিচালনা পর্ষদ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৫৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আগের অর্থবছরেও একই হারে নগদ লভ্যাংশ দেওয়া হয়েছিল। অর্থাৎ মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও নগদ লভ্যাংশের হার অপরিবর্তিত রয়েছে।
বৃহস্পতিবার রেনাটার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ৪৪৮ টাকা দরে, যা আগের দিনের সমাপনী দামের চেয়ে সামান্য কম।
সব মিলিয়ে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেনাটার আর্থিক ফলাফলে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। স্থানীয় বাজারে ওষুধ বিক্রি বৃদ্ধি, পরিচালন দক্ষতা বাড়ানো এবং ঋণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে আর্থিক ব্যয় কমানো এই অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে কাঁচামালের দাম, পরিবহন ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সম্ভাব্য প্রভাব ভবিষ্যৎ মুনাফার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকতে পারে। তাই বর্তমান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ব্যবসার বৈচিত্র্য ও আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণে কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

