গত সপ্তাহে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনে স্পষ্ট নিম্নমুখিতা দেখা গেছে। তিন কার্যদিবসে এক্সচেঞ্জটিতে মোট ১ হাজার ১৮৬ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে, যা আগের সপ্তাহে ছিল ২ হাজার ৩৫৩ কোটি টাকা। বেশির ভাগ খাতের শেয়ারে নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে। চট্টগ্রামের চিটাগং স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) লেনদেন আগের সপ্তাহের চেয়ে কমেছে।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স সপ্তাহের ব্যবধানে এক পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৫১ পয়েন্টে নেমেছে। আগের সপ্তাহে এটি ছিল ৫ হাজার ৪৫২ পয়েন্ট। অর্থাৎ সূচকের পতন নামমাত্র, কিন্তু লেনদেনের পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমে আসায় বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ যে কমেছে, তা স্পষ্ট। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ সাত পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ১০৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ২ হাজার ৯৭ পয়েন্ট। অন্যদিকে শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস আট পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৭০ পয়েন্টে নেমেছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১ হাজার ৭৮ পয়েন্ট।
গত সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৮১টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে ২১৩টির, আর অপরিবর্তিত ছিল ৪২টির। লেনদেন হয়নি ৩০টির। দর বাড়া ও কমা প্রতিষ্ঠানের এই অনুপাত থেকে বোঝা যায়, বাজারে বিক্রির চাপই তুলনামূলক বেশি ছিল। সূচক পতনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক, এনবিএল, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ ও এপেক্স ফুটওয়ারের শেয়ার।
খাতভিত্তিক লেনদেনে আধিপত্য ছিল বস্ত্র খাতের। ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৩ দশমিক ৫ শতাংশই এসেছে এই খাত থেকে। ১২ দশমিক ৬ শতাংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল সাধারণ বীমা, আর ১১ দশমিক ৩ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় স্থানে ব্যাংক খাত। প্রকৌশল এবং ওষুধ ও রসায়ন খাত ৯ দশমিক ৫ শতাংশ করে লেনদেন নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে ছিল। পঞ্চম স্থানে থাকা মিউচুয়াল ফান্ড খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ দশমিক ১ শতাংশ।
রিটার্নের হিসাবে বেশির ভাগ খাত ছিল ঋণাত্মক ধারায়। সবচেয়ে বেশি ৪ দশমিক ১ শতাংশ নেতিবাচক রিটার্ন এসেছে পাট খাতে। কাগজ ও ভ্রমণ খাতে কমেছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, বিবিধ খাতে দশমিক ৯ শতাংশ এবং বস্ত্র ও চামড়া খাতে দশমিক ৮ শতাংশ। বিপরীতে ইতিবাচক রিটার্ন পেয়েছে মাত্র কয়েকটি খাত। এর মধ্যে সিরামিক খাতে ১ শতাংশ, ব্যাংক খাতে দশমিক ৯ শতাংশ এবং জ্বালানি খাতে দশমিক ৫ শতাংশ রিটার্ন এসেছে। উল্লেখ্য, লেনদেনের শীর্ষে থাকা বস্ত্র খাতই নেতিবাচক রিটার্নের তালিকায় ছিল, যা এই খাতে বিক্রির প্রবণতার ইঙ্গিত দেয়।
চট্টগ্রামের বাজারে চিত্র তুলনামূলক ইতিবাচক। সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই দশমিক ১৯ শতাংশ বেড়ে ১৪ হাজার ৬০৪ পয়েন্টে উঠেছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ১৪ হাজার ৫৭৭ পয়েন্ট। সিএসসিএক্স সূচক দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৯৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের সপ্তাহে যা ছিল ৮ হাজার ৯৪৮ পয়েন্ট। সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। লেনদেন হওয়া ২২৮টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৯১টির, কমেছে ৯৯টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির।
সব মিলিয়ে গত সপ্তাহের বাজারচিত্রে সূচকের চেয়ে লেনদেনের পতনই বেশি দৃষ্টি কেড়েছে। বিনিয়োগকারীরা নতুন করে ঝুঁকি নিতে অনীহা দেখিয়েছেন, ফলে বাজারে গতি কমেছে। আগামী সপ্তাহে লেনদেন ফের বাড়ে কি না এবং কোন খাত বাজারকে নেতৃত্ব দেয়, সেদিকেই নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।

