দুর্গাপূজার লম্বা ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবস রোববার (২৫ অক্টোবর) দেশের শেয়ারবাজারে বেশির ভাগ কোম্পানির দাম কমেছে। তবে ব্যাংক খাতের শেয়ারের দাম বাড়ায় মূল্যসূচকে বড় পতন হয়নি। সূচক সামান্য কমলেও লেনদেনের গতি স্পষ্টভাবে কমে গেছে।
প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই) উভয় বাজারেই বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। একই সঙ্গে কমেছে মূল্যসূচক ও লেনদেনের পরিমাণ।
ছুটি শুরুর আগের কার্যদিবস ১৯ অক্টোবর বাজারে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। যদিও তার আগে টানা দরপতন চলছিল। ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বাজারে কোনো লেনদেন হয়নি।
রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। শুরুতে সূচকও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। কিন্তু আধা ঘণ্টার মধ্যেই দাম কমার তালিকায় চলে আসে বেশি প্রতিষ্ঠান। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকে। ফলে দাম কমা কোম্পানির তালিকা দীর্ঘ হয় এবং সূচক কমেই দিন শেষ হয়।
দিনশেষে ডিএসইতে ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ২৮৩টির। অপরিবর্তিত ছিল ৩৮টির দাম। অর্থাৎ বাড়ার তুলনায় কমার সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার গুণ। ব্যাংক খাতের চিত্র ছিল ভিন্ন। ১৭টি ব্যাংকের শেয়ারের দাম বেড়েছে, কমেছে মাত্র ২টির। ১২টির দাম অপরিবর্তিত ছিল। এই খাতই সূচকের বড় পতন ঠেকিয়েছে। বিভিন্ন শ্রেণির কোম্পানির মধ্যে চিত্র এ রকম:
- ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩২টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১৪৫টির এবং অপরিবর্তিত ১৫টির।
- মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া কোম্পানির মধ্যে বেড়েছে ৬টির, কমেছে ৬৪টির এবং অপরিবর্তিত ২টির।
- লভ্যাংশ না দেওয়ায় ‘জেড’ গ্রুপে থাকা কোম্পানির মধ্যে ২৬টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৭৪টির এবং অপরিবর্তিত ২০টির।
- মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে ২টির দাম বেড়েছে, কমেছে ২২টির এবং অপরিবর্তিত ৭টির।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৮ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪৩২ পয়েন্টে নেমেছে। বাছাই করা ৩০ ভালো কোম্পানির সূচক ডিএসই-৩০ ১ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১০১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমেছে ৯ পয়েন্ট, অবস্থান ১ হাজার ৬০ পয়েন্টে।
লেনদেনও কমেছে। ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৩০ কোটি ৭২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল ৫০২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ লেনদেন কমেছে ৭১ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
লেনদেনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে ব্র্যাক ব্যাংক, কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৬ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে সিটি ব্যাংক, লেনদেন ১৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। তৃতীয় অবস্থানে মতিন স্পিনিং, লেনদেন ১১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। শীর্ষ দশের তালিকায় আরও আছে প্রিমিয়ার ব্যাংক, এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ, সোনালী আঁশ, বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইস্টার্ন ব্যাংক ও ফার কেমিক্যাল।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ১৬৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৫৯টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৮৬টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৮টির। সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২২ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ১২ লাখ টাকা, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ২১ কোটি ১৭ লাখ টাকা।
সব মিলিয়ে বাজারের চিত্র মিশ্র নয়, বরং দুর্বলই। সূচক মাত্র ১৮ পয়েন্ট কমলেও ২৮৩টি কোম্পানির দাম কমেছে। এতে বোঝা যায়, সূচকের হিসাবের চেয়ে বাজারের ভেতরের অবস্থা বেশি নাজুক। ব্যাংক খাতের শেয়ারে বড় মূলধন থাকায় তাদের দাম বাড়া পুরো সূচককে ধরে রেখেছে। এ কারণে সূচক দেখে সামগ্রিক চিত্র বোঝা কঠিন।
ছুটির পর শুরুতে ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেলেও আধা ঘণ্টার মধ্যে বিক্রির চাপ বাড়ে। এতে বিনিয়োগকারীদের আস্থার ঘাটতির ইঙ্গিত মেলে। লেনদেন কমে যাওয়াও সতর্ক অবস্থানের লক্ষণ। তবে প্রতিবেদনে দরপতনের নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। আপাতত নজর থাকছে আগামী কার্যদিবসগুলোয় ব্যাংক খাত বাজারকে কতটা ধরে রাখতে পারে এবং অন্য খাতে বিক্রির চাপ কমে কি না, সেদিকে।

