মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ৩২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দেওয়ার সুপারিশ করেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত স্কয়ার টেক্সটাইল পিএলসি। পাশাপাশি কারখানা আধুনিকায়ন, নতুন যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও জমি কেনার মাধ্যমে ব্যবসা সম্প্রসারণে ৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগের অনুমোদন দিয়েছে কোম্পানিটির পরিচালনা পর্ষদ। এতে একদিকে মুনাফার নিম্নমুখী প্রবণতা, অন্যদিকে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
কোম্পানিটির প্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ৪ টাকা ৫০ পয়সা। আগের অর্থবছরে এই অঙ্ক ছিল ৭ টাকা ২৪ পয়সা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে শেয়ারপ্রতি মুনাফা কমেছে ২ টাকা ৭৪ পয়সা, বা প্রায় ৩৮ শতাংশ। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরে কোম্পানিটির নিট মুনাফা কমে ৮৯ কোটি টাকায় নেমেছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
তবে মুনাফা কমলেও লভ্যাংশের হার আগের বছরের মতোই রাখার প্রস্তাব করেছে পরিচালনা পর্ষদ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও শেয়ারহোল্ডারদের ৩২ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানিটি। এবারও একই হারে লভ্যাংশের সুপারিশ করা হয়েছে। তবে এটি এখনো পরিচালনা পর্ষদের প্রস্তাব। শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের জন্য আগামী ১৫ ডিসেম্বর কোম্পানিটির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় অংশ নেওয়ার যোগ্য শেয়ারহোল্ডার নির্ধারণে রেকর্ড তারিখ ঠিক করা হয়েছে ১৬ নভেম্বর।
আর্থিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, মুনাফা কমলেও কোম্পানিটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বেড়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন ৫৫ টাকা ৮৬ পয়সা থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭ টাকা ১৬ পয়সায়। একই সময়ে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ৫ টাকা ২৫ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮ টাকা ৭১ পয়সা। অর্থাৎ মুনাফার হিসাবে দুর্বলতা থাকলেও নগদ প্রবাহের সূচকে উন্নতি দেখা গেছে।
ভবিষ্যৎ ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনায় রয়েছে কারখানার ভারসাম্য রক্ষা, আধুনিকায়ন, পুনর্বাসন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম, মূলধনি যন্ত্রপাতি সংগ্রহ এবং জমি কেনা। এসব বিনিয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা ও কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়ানোই কোম্পানিটির লক্ষ্য। তবে এই বিনিয়োগ ভবিষ্যতে কতটা আয় ও মুনাফা বাড়াতে পারবে, তা নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন, উৎপাদন ব্যয় এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর।

