দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) টানা তৃতীয় কার্যদিবসেও সূচকের পতন হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দিন শেষে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১২ দশমিক ৯৯ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে। একই সঙ্গে কমেছে মোট লেনদেনের পরিমাণ। তবে আগের দিনের তুলনায় দর হারানো শেয়ারের সংখ্যা কমেছে এবং দর বেড়েছে এমন শেয়ারের সংখ্যা বেড়েছে।
ডিএসইর দিনশেষের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বাজারে মোট ৪০৩ কোটি ৫০ লাখ ৮০ হাজার টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবস সোমবার লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪১০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। ফলে এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৭ কোটি ৭ লাখ টাকা বা ১ দশমিক ৭২ শতাংশ। তবে লেনদেনের পরিমাণ কমলেও শেয়ার লেনদেনের সংখ্যা ও মোট ট্রেড বেড়েছে। মঙ্গলবার ১৪ কোটি ৪১ লাখের বেশি শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে, যেখানে মোট ট্রেড হয়েছে ১ লাখ ৪০ হাজার ৫৪৭টি।
অন্য দুই সূচকও নিম্নমুখী ছিল। ডিএস৩০ সূচক ২ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৭ দশমিক ৯১ পয়েন্টে নেমেছে। শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক কমেছে ৬ দশমিক ৬৭ পয়েন্ট। দিন শেষে সূচকটি দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪৬ দশমিক ৭৭ পয়েন্টে। অর্থাৎ, মঙ্গলবার বাজারের প্রধান তিনটি সূচকেই পতন হয়েছে।
বাজারের দরবিস্তারে দেখা যায়, মঙ্গলবার ১০৮টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ২২৬টির। অপরিবর্তিত ছিল ৫৩টি শেয়ারের দর। আগের কার্যদিবসে দর বেড়েছিল ৭৪টি কোম্পানির, আর কমেছিল ২৫২টির। অর্থাৎ, দরপতন অব্যাহত থাকলেও আগের দিনের তুলনায় পতন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা কমেছে এবং দরবৃদ্ধির সংখ্যা বেড়েছে। তবু মোট দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতনকারী শেয়ারের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি থাকায় বাজারে বিক্রির চাপ পুরোপুরি কাটেনি।
শেয়ারভিত্তিক দর পরিবর্তনে মঙ্গলবার সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মালেক স্পিনিংয়ের শেয়ারদর, ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ। প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের দর বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৯ শতাংশ এবং ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইংয়ের বেড়েছে ৬ দশমিক ৫৯ শতাংশ। অন্যদিকে, সর্বোচ্চ দরপতনের তালিকায় রয়েছে এসপি সিরামিকস, যার শেয়ারদর কমেছে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ। মির আখতারের দর কমেছে ৯ দশমিক ২৯ শতাংশ এবং কে অ্যান্ড কিউর কমেছে ৮ দশমিক ০৮ শতাংশ।
খাতভিত্তিক চিত্রেও ছিল মিশ্র প্রবণতা। ডিএসইর খাতভিত্তিক হিটম্যাপ অনুযায়ী, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সবচেয়ে বেশি, ৪ দশমিক ৩ শতাংশ উত্থান হয়েছে। সেবা ও আবাসন খাত বেড়েছে ২ শতাংশ এবং বস্ত্র খাত ১ শতাংশ। অন্যদিকে, পাট খাতে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, বিমা খাতে ১ দশমিক ৫ শতাংশ, প্রকৌশল খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং মিউচুয়াল ফান্ড খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ দরপতন হয়েছে। ব্যাংক খাতে সামান্য উত্থান দেখা গেলেও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত নিম্নমুখী ছিল।
সব মিলিয়ে মঙ্গলবারের বাজারে সূচক ও লেনদেন দুটোই কমেছে, যদিও দরবৃদ্ধির শেয়ারের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে। এই চিত্র বাজারে কিছু শেয়ারে ক্রয়চাপ ফেরার ইঙ্গিত দিলেও সামগ্রিকভাবে বিক্রির চাপ পুরোপুরি দূর হয়নি। আগামী কার্যদিবসে সূচকের গতিপথের পাশাপাশি লেনদেনের পরিমাণ ও দরবৃদ্ধি এবং দরপতনের শেয়ারের অনুপাত বাজারের প্রবণতা বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

