টানা তিন কার্যদিবসের দরপতনের পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে প্রায় ৪৭ পয়েন্ট। শুধু সূচক নয়, বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণও। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ায় বাজারে ক্রেতাদের সক্রিয়তার চিত্রও ছিল স্পষ্ট। তবে এই উত্থান বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরার স্থায়ী ইঙ্গিত কি না, তা বুঝতে আগামী কার্যদিবসগুলোর প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ।
দিনশেষে ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৩৩ দশমিক ২৭ পয়েন্টে, যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮৭ শতাংশ বেশি। এর আগে ২৫ অক্টোবর সূচকটি ছিল ৫ হাজার ৪৩২ দশমিক ৫৫ পয়েন্টে। পরের দুই কার্যদিবসে ধারাবাহিক পতনে সূচক নেমে যায় ৫ হাজার ৩৮৬ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে। বুধবারের উত্থানে সেই দুই দিনের হারানো পয়েন্ট প্রায় পুরোপুরি ফিরে এসেছে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক পতনের চাপ আপাতত কাটিয়ে উঠেছে বাজার, যদিও এটিকে দীর্ঘমেয়াদি ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বলার সময় এখনো আসেনি।
বাজারের আরেকটি ইতিবাচক দিক ছিল লেনদেনের পরিমাণ। দিনজুড়ে ডিএসইতে প্রায় ৪৪১ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল প্রায় ৪০৪ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ৯ শতাংশ। একই সময়ে মোট লেনদেনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৫০টিতে। সাধারণত সূচক বাড়ার পাশাপাশি লেনদেনও বাড়লে বাজারে ক্রেতাদের অংশগ্রহণ জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। তবে শুধু লেনদেন বাড়লেই বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি ফিরেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
কোম্পানির শেয়ারের দামের ওঠানামাতেও বাজারের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। দিনশেষে ২৬৪টি সিকিউরিটিজের দাম বেড়েছে, বিপরীতে কমেছে ৭৫টির। অপরিবর্তিত ছিল ৫২টির দাম। অর্থাৎ দরপতনের চেয়ে দরবৃদ্ধির সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। খাতভিত্তিক চিত্রেও একই প্রবণতা দেখা গেছে। মিউচুয়াল ফান্ড ও খাদ্য খাত উভয়ই প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। বীমা খাতের উত্থান ছিল ২ দশমিক ৮ শতাংশ। বস্ত্র, ব্যাংক, ওষুধ ও রসায়ন এবং প্রকৌশল খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। ফলে দিনের উত্থান শুধু কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ারে সীমাবদ্ধ ছিল না।
তবে সব শেয়ারে একই ধরনের ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়নি। দিনের শীর্ষ দরপতনের তালিকায় ছিল আনোয়ার গ্যালভানাইজিং, ফার কেমিক্যালস ও রূপালী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মতো কোম্পানি। অন্যদিকে ডিএসএসএল ও এসিএমই প্ল্যান্টেশনের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধি হয়েছে। এই ভিন্ন চিত্র মনে করিয়ে দেয়, সামগ্রিক সূচক বাড়লেও প্রতিটি কোম্পানির অবস্থান এক নয়। তাই শুধু বাজারের সূচক দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বদলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির আয়, ব্যবসার অবস্থা এবং প্রকাশিত তথ্যও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
বুধবারের উত্থান বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির খবর হলেও বাজারের সামনে এখনো বড় পরীক্ষা রয়েছে। আগের দুই দিনের পতনে যে পয়েন্ট হারিয়েছিল ডিএসইএক্স, তা ফিরে পাওয়ার পাশাপাশি লেনদেনও বেড়েছে। এটি স্বল্পমেয়াদে ইতিবাচক সংকেত। তবে পরবর্তী কার্যদিবসে সূচক এই অবস্থান ধরে রাখতে পারে কি না, লেনদেনের গতি বজায় থাকে কি না এবং দরবৃদ্ধির বিস্তার অব্যাহত থাকে কি না, সেটিই হবে আসল পরীক্ষা। বাজারের সত্যিকারের ঘুরে দাঁড়ানো বোঝা যাবে এক দিনের উত্থানে নয়, বরং ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতায়।

