দিনশেষের ড্যাশবোর্ড অনুযায়ী, ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ১৫ দশমিক ৮৩ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৪১৭ দশমিক ৪৪ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। শতকরা হিসাবে সূচকটি কমেছে শূন্য দশমিক ২৯ শতাংশ। বড় কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচকও ৯ দশমিক ৪০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ৮৬ দশমিক ৮৬ পয়েন্টে নেমেছে। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস কমেছে ৩ দশমিক ৮২ পয়েন্ট। অর্থাৎ শুধু প্রধান সূচক নয়, ডিএসইর অন্য গুরুত্বপূর্ণ সূচকগুলোতেও নেতিবাচক প্রবণতা ছিল।
ডিএসইতে সূচক কমলেও টাকার অঙ্কে লেনদেন বেড়েছে। দিনজুড়ে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৫৬৫ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট, যা আগের কার্যদিবসের প্রায় ৪৪১ কোটি টাকার তুলনায় ২৮ শতাংশ বেশি। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৯৩৬টি এবং শেয়ার হাতবদল হয়েছে প্রায় ২৭ কোটি ৪৫ লাখ।
তবে লেনদেন বাড়লেই বাজার শক্তিশালী হয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। দিনের শেষে ডিএসইতে ১৪৫টি সিকিউরিটিজের দাম বাড়লেও কমেছে ১৯০টির। অর্থাৎ দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতনের সংখ্যাই বেশি ছিল। বাজারে বেশি টাকার লেনদেন হওয়ার অর্থ হলো কেনাবেচা বেড়েছে, কিন্তু কোন পক্ষের চাপ বেশি ছিল, তা বুঝতে শেয়ারের দামের পরিবর্তনও দেখতে হয়। বৃহস্পতিবারের চিত্রে লেনদেন বাড়লেও সামগ্রিক সূচক ও দরবৃদ্ধি দরপতনের অনুপাত বাজারের দুর্বলতার ইঙ্গিত দিয়েছে।
খাতভিত্তিক চিত্রেও এই ভিন্নতা স্পষ্ট। ডিএসইতে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সূচক প্রায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। বীমা ও বস্ত্র খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। বিপরীতে পাট এবং সেবা ও আবাসন খাতে দরপতন বেশি হয়েছে। অর্থাৎ বাজারের সব খাত একই দিকে চলেনি। কয়েকটি খাতের উত্থান থাকলেও অন্য খাতের শেয়ারদর কমে যাওয়ায় প্রধান সূচককে ঊর্ধ্বমুখী রাখা সম্ভব হয়নি।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে চিত্রটি ছিল কিছুটা আলাদা। সিএসইর নির্বাচিত শ্রেণির সূচক সিএসসিএক্স বেড়ে ৮ হাজার ৯৬০ দশমিক ২৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সূচকটি আগের অবস্থানের তুলনায় ৩৫ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট বা প্রায় শূন্য দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়েছে। এদিন সিএসইতে ১৮২টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৯১টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৭০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির দাম। ফলে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের সংখ্যার হিসাবে সিএসইতে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে।
তবে সূচকের এই উত্থানের সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণ বাড়েনি। সিএসইতে দিনশেষে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল প্রায় ৫৮ কোটি ৪১ লাখ টাকা। অর্থাৎ টাকার অঙ্কে লেনদেন প্রায় ৬৯ শতাংশ কমেছে। এদিন প্রায় ৩৭ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে এবং মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৯৯টি। সূচক বাড়লেও লেনদেনের এমন পতন দেখাচ্ছে, সিএসইতে শেয়ারের দামে ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও টাকার প্রবাহ আগের দিনের তুলনায় অনেক কম ছিল।
দিনশেষের এই চিত্র থেকে তাই দুই বাজার সম্পর্কে দুটি আলাদা বার্তা পাওয়া যায়। ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে, কিন্তু দরপতনের বিস্তার বেশি হওয়ায় বিক্রির চাপের ইঙ্গিত রয়েছে। অন্যদিকে সিএসইতে সূচক ও দরবৃদ্ধির সংখ্যা ইতিবাচক হলেও লেনদেনের পরিমাণ কমেছে। এক দিনের এই তথ্য দিয়ে বাজারের দীর্ঘমেয়াদি গতিপথ নির্ধারণ করা যাবে না। পরবর্তী কার্যদিবসে সূচক কতটা অবস্থান ধরে রাখতে পারে, লেনদেনের গতি বজায় থাকে কি না এবং কতগুলো শেয়ারে দরবৃদ্ধি বা দরপতন হয়, সেদিকেই নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের।

