তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান কচ্ হোল্ডিংয়ের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান এবং ভোগ্যপণ্য খাতে গ্রুপটির অন্যতম প্রধান ব্র্যান্ড বেকো বাংলাদেশে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা ও ব্যবসা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, খুচরা ব্যবসার পরিসর সম্প্রসারণ এবং ভোক্তা ও কর্মীদের অভিজ্ঞতা উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এ উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে।
সম্প্রতি কচ্ হোল্ডিং ও বেকোর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করে। সফরকালে তাঁরা নারায়ণগঞ্জে বেকোর উৎপাদন কারখানা, সিঙ্গার-বেকো কনসেপ্ট স্টোর এবং সিঙ্গার বাংলাদেশের করপোরেট সদর দপ্তর পরিদর্শন করেন। এ সময় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রতিনিধিদলে ছিলেন কচ্ হোল্ডিংয়ের কনজ্যুমার ডিউরেবলস গ্রুপের প্রেসিডেন্ট পোলাট শেন, বেকোর এশিয়া, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা এবং আর্চেলিক-হিটাচির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাফের উস্টুনের। এ ছাড়া বেকোর প্রধান উৎপাদন ও প্রযুক্তি কর্মকর্তা নিহাত বায়িজও সফরে অংশ নেন।
সফরটির আয়োজন করেন সিঙ্গার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম এইচ এম ফাইরোজ। তিনি প্রতিনিধিদলের সামনে বাংলাদেশের বাজারে সিঙ্গারের ব্যবসায়িক কার্যক্রম, বিনিয়োগের গুরুত্ব এবং কচ্ গ্রুপের বৈশ্বিক কার্যক্রমে বাংলাদেশের সম্ভাবনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
তিনি জানান, সিঙ্গার বাংলাদেশ উৎপাদন, খুচরা ব্যবসা পরিচালনা এবং কর্মীদের কর্মপরিবেশ—এই তিনটি ক্ষেত্রে রূপান্তরের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
উৎপাদন ও ব্যবসা পরিচালনায় নতুন বিনিয়োগ
সিঙ্গার বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতির উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে নতুন উৎপাদন কেন্দ্র চালু, কনসেপ্ট স্টোর প্রতিষ্ঠা এবং করপোরেট সদর দপ্তর নতুন স্থানে স্থানান্তর।
প্রতিষ্ঠানটির সদর দপ্তর বেকোর বৈশ্বিক কর্মপরিবেশের মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতা ও কর্মীদের জন্য উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কচ্ গ্রুপ ও বেকোর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ব্যবস্থাপনাগত সক্ষমতা বাংলাদেশের কার্যক্রমে কাজে লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। অব্যাহত বিনিয়োগের মাধ্যমে সিঙ্গার বাংলাদেশ উৎপাদন সক্ষমতা আরও বাড়াতে এবং দেশের পরিবারগুলোর ক্রমবর্ধমান ভোক্তা চাহিদা পূরণে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চায়।
বাংলাদেশ-তুরস্ক বাণিজ্যিক সম্পর্কেও গুরুত্ব
বাংলাদেশে কচ্ গ্রুপের বিনিয়োগ তুরস্ক ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি করছে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ২০২৫ সাল নাগাদ প্রায় ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে এই বাণিজ্যের পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
এই লক্ষ্য অর্জিত হলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শিল্প সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মুক্ত হতে পারে। বিশেষ করে উৎপাদন, প্রযুক্তি এবং ভোগ্যপণ্য খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে।
বাংলাদেশে উৎপাদন অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং ব্যবসার পরিসর বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেকোর বিনিয়োগের অঙ্গীকার তাই শুধু সিঙ্গার বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির জন্য নয়, দুই দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

