তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ওপর ২০৩০ সাল পর্যন্ত পূর্ণ কর অব্যাহতি চেয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো, লেনদেন ও তারল্য বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহ দিতে ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য এই সুবিধা চাওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সংগঠনটির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে বুধবার (২৮ অক্টোবর) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিনিয়োগ ও পুঁজিবাজারবিষয়ক বিশেষ সহকারী তানভীর শাহরিয়ার গনি, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান আহসান হাবিবের কাছে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের মূলধনি মুনাফার ওপর পূর্ণ কর অব্যাহতি পুনর্বহাল করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশি ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রে বিদ্যমান করব্যবস্থা পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে।
বর্তমানে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজ থেকে অর্জিত মূলধনি মুনাফার ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত কর অব্যাহতি পান। এর বেশি মুনাফার ওপর সাধারণভাবে ১৫ শতাংশ কর দিতে হয়। ডিবিএর মতে, পূর্ণ অব্যাহতি দিলে বাজারে লেনদেন বাড়বে। বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পুনরায় বিনিয়োগে উৎসাহী হবেন। দেশীয় সঞ্চয় উৎপাদনশীল খাতে কাজে লাগানোর সুযোগও তৈরি হবে। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর ইকুইটি অর্থায়নও সহজ হবে বলে তাদের দাবি।
প্রস্তাবে আয়কর আইন, ২০২৩-এর সংশ্লিষ্ট বিধান সংশোধনের কথা বলা হয়েছে। স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে সম্পন্ন এবং নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ডিপোজিটরি ব্যবস্থায় নিষ্পত্তি হওয়া যোগ্য লেনদেনের মূলধনি মুনাফা করমুক্ত রাখতে বলেছে সংগঠনটি। তবে স্পনসর, পরিচালক ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের ওপর বিদ্যমান করব্যবস্থা বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছে ডিবিএ। অর্থাৎ ছাড়ের দাবি মূলত সাধারণ ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য।
ডিবিএ জানিয়েছে, সেন্ট্রাল কাউন্টারপার্টি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিসিবিএল) পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে মূলধনি মুনাফা নিরূপণ ও কর হিসাবের প্রক্রিয়া সহজ হবে। সে কারণে প্রতিষ্ঠানটির পূর্ণ কার্যক্রম শুরু হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ২০৩০ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হয়েছে।
ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, ব্যক্তি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব করব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পুঁজিবাজারে আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়বে। তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর অর্থায়নের সুযোগও তৈরি হবে। তাঁর মতে, এ উদ্যোগ পুঁজিবাজার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও সহায়ক হবে।
এখন পর্যন্ত এটি ব্রোকারদের সংগঠনের প্রস্তাব মাত্র। এনবিআর বা সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। কর ছাড় দিলে বাজারে লেনদেন বাড়তে পারে, তবে একই সঙ্গে সরকারের রাজস্ব আয়ের ওপর এর প্রভাব কেমন হবে, তা নীতিনির্ধারকদের বিবেচনায় আসবে।

