রোববার (১ নভেম্বর) সকালের লেনদেনে দেশের দুই পুঁজিবাজারে ভিন্ন প্রবণতা দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ও মোট লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান নির্বাচিত সূচক কমেছে। ডিএসইতে দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের সংখ্যা দরপতনের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হলেও সিএসইতে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের সংখ্যা ছিল সমান। ফলে দিনের শুরুর বাজারচিত্রে ডিএসইতে তুলনামূলক ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও সিএসইতে দেখা গেছে মিশ্র অবস্থা।
সকাল ১০টা ২৬ মিনিটে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়ায় ৫ হাজার ৪২২ দশমিক ৬০ পয়েন্টে। আগের অবস্থানের তুলনায় সূচকটি বেড়েছিল শূন্য দশমিক ১০ শতাংশ। তবে বড় কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক কমেছে শূন্য দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক ডিএসইএস সূচক সামান্য বেড়েছে শূন্য দশমিক ০২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রধান সূচক বাড়লেও ডিএসইর সব সূচকে একই ধরনের উত্থান দেখা যায়নি। বিশেষ করে বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে দুর্বলতা থাকায় বাজারের সামগ্রিক ইতিবাচক প্রবণতা পুরোপুরি সব সূচকে ছড়িয়ে পড়েনি।
সকালের ওই সময় পর্যন্ত ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৬৮ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। হাতবদল হয় প্রায় ৩ কোটি ১৯ লাখ শেয়ার, আর মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ২১ হাজার ৯১৫টি। এ সময়ে ১৯৯টি সিকিউরিটিজের দাম বাড়ার বিপরীতে কমেছে ১০১টির। অপরিবর্তিত ছিল ৬৯টির দাম। অর্থাৎ দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের সংখ্যা দরপতন হওয়া শেয়ারের প্রায় দ্বিগুণ। সূচকের উত্থানের পাশাপাশি এই বিস্তৃত দরবৃদ্ধি বাজারে ক্রেতাদের অংশগ্রহণের ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে।
খাতভিত্তিক চিত্রেও ডিএসইতে বেশ কিছু খাতে শক্তিশালী প্রবণতা ছিল। মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সূচক প্রায় ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়েছে। সিরামিক খাতের উত্থান ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং বীমা খাত বেড়েছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। বস্ত্র ও প্রকৌশল খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। বিপরীতে পাট খাত কমেছে প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ। ব্যাংক ও জ্বালানি খাতেও সামান্য দুর্বলতা ছিল। অর্থাৎ বাজারের উত্থান সব খাতে সমানভাবে ছড়ায়নি, বরং কয়েকটি খাতের ভালো পারফরম্যান্স সামগ্রিক সূচককে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে।
অন্যদিকে সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে সিএসইর নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্স দাঁড়ায় ৮ হাজার ৯৫৭ দশমিক ৯৮ পয়েন্টে। সূচকটি আগের অবস্থানের তুলনায় ২ দশমিক ৩২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ০৩ শতাংশ কম ছিল। এ সময় সিএসইতে মোট ১৭টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়। এর মধ্যে ৮টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল একটির দাম। অর্থাৎ ডিএসইর বিপরীতে সিএসইতে দরবৃদ্ধি ও দরপতনের মধ্যে কোনো স্পষ্ট ব্যবধান দেখা যায়নি।
সিএসইতে ওই সময় পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৫১৯টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা এবং কন্ট্রাক্ট সংখ্যা ছিল ৫৩টি। তুলনায় ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। তবে দুই এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত কোম্পানি, লেনদেনের পরিসর ও বাজারের আকার এক নয়। তাই শুধু মোট লেনদেনের অঙ্ক দিয়ে দুই বাজারের শক্তি সরাসরি তুলনা করা ঠিক হবে না। বরং প্রতিটি এক্সচেঞ্জে সূচকের পরিবর্তন, দরবৃদ্ধি ও দরপতনের অনুপাত এবং লেনদেনের গতি আলাদাভাবে দেখা জরুরি।
সকালের তথ্য অনুযায়ী, ডিএসইতে সূচক ও লেনদেনের ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও সিএসইতে সূচক সামান্য কমেছে এবং দরবৃদ্ধি ও দরপতনের সংখ্যা সমান ছিল। তবে এই চিত্র এখনো দিনের প্রথম ভাগের। লেনদেন শেষ হওয়ার আগে সূচক, শেয়ারের দাম ও টাকার প্রবাহে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই দুই পুঁজিবাজারের প্রকৃত দিনের ফলাফল বুঝতে দিনশেষের সূচক ও লেনদেনের তথ্যই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

