রোববার (১ নভেম্বর) দিনশেষে দেশের দুই পুঁজিবাজারেই দরপতনের চিত্র দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক কমেছে ৩২ পয়েন্টের বেশি। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) নির্বাচিত কোম্পানির সূচক কমেছে প্রায় ৪৬ পয়েন্ট। শুধু সূচক নয়, দুই বাজারেই দরপতন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা ছিল দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের চেয়ে বেশি। ফলে দিনের লেনদেন শেষে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিক্রির চাপই তুলনামূলক বেশি ছিল বলে বাজারের পরিসংখ্যানে দেখা যায়।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৮৫ দশমিক ১৫ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় সূচকটি কমেছে ৩২ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬০ শতাংশ। বড় কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক কমেছে ১৮ দশমিক ৪৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ। আর শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস কমেছে ৪ দশমিক ৭৪ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ। অর্থাৎ শুধু প্রধান সূচক নয়, বড় কোম্পানি ও শরিয়াহভিত্তিক শেয়ারের বাজারেও নেতিবাচক প্রবণতা ছিল।
ডিএসইর বাজারে দরপতনের বিস্তারও ছিল উল্লেখযোগ্য। দিনশেষে ৩৮৭টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ১৫১টির দাম বেড়েছে, কমেছে ১৯০টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪৬টির। অর্থাৎ দাম কমেছে এমন সিকিউরিটিজের সংখ্যা বেড়েছে এমন সিকিউরিটিজের চেয়ে ৩৯টি বেশি। বাজারে এই ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সূচক কখনো কয়েকটি বড় কোম্পানির শেয়ারের দামের পরিবর্তনেও প্রভাবিত হতে পারে, কিন্তু কতগুলো শেয়ারের দাম বাড়ল বা কমল, তা পুরো বাজারে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের একটি বিস্তৃত ধারণা দেয়।
ডিএসইতে দিনজুড়ে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৪৮২ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট। এদিন ১৭ কোটি ৫০ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে এবং মোট লেনদেনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৩ হাজার ৫৬৪টিতে। অর্থাৎ বাজারে কেনাবেচা চলেছে উল্লেখযোগ্য পরিসরে। তবে বেশি লেনদেন মানেই বাজারে ইতিবাচক প্রবণতা, এমন নয়। বৃহস্পতিবারের বাজারে টাকার অঙ্কে লেনদেন হলেও অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দাম কমেছে এবং প্রধান সূচকও নিম্নমুখী ছিল। তাই লেনদেনের পরিমাণের পাশাপাশি দরবৃদ্ধি ও দরপতনের অনুপাতও বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।
খাতভিত্তিক চিত্রে ডিএসইতে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। বস্ত্র ও মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সূচক উভয়ই ৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। বীমা খাতে উত্থান ছিল ২ দশমিক ৪ শতাংশ। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও ইতিবাচক প্রবণতা ছিল। বিপরীতে পাট খাতের সূচক কমেছে ৬ দশমিক ১ শতাংশ। ব্যাংক খাতে ১ দশমিক ৩ শতাংশ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে ১ দশমিক ১ শতাংশ পতন হয়েছে। অর্থাৎ কয়েকটি খাত ভালো করলেও ব্যাংক ও পাটসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতের দুর্বলতা সামগ্রিক বাজারকে চাপের মধ্যে রেখেছে।
অন্যদিকে সিএসইতেও দিনশেষে সূচক ও শেয়ারের দামে নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্স দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৯১৪ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় সূচকটি কমেছে ৪৫ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৫১ শতাংশ। এদিন সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৮০টি সিকিউরিটিজের মধ্যে ৭৫টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৮৪টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির। অর্থাৎ ডিএসইর মতো সিএসইতেও দরপতনের সংখ্যা দরবৃদ্ধির চেয়ে বেশি ছিল।
তবে সিএসইর লেনদেনে একটি ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। দিনশেষে সেখানে প্রায় ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২৫২টি এবং শেয়ার লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০ লাখ ১৮ হাজার। আগের কার্যদিবসে সিএসইতে প্রায় ১৭ কোটি ৯৪ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছিল। ফলে টাকার অঙ্কে লেনদেন প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। কিন্তু একই সময়ে শেয়ার হাতবদল ও লেনদেনের সংখ্যা কমেছে। অর্থাৎ টাকার অঙ্কে লেনদেন বাড়লেও বাজারে কেনাবেচার সামগ্রিক বিস্তার বাড়েনি। এ কারণে শুধু টার্নওভার দেখে সিএসইর বাজারে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
দিনশেষের সামগ্রিক চিত্রে দেখা যাচ্ছে, দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের পতন এবং দরপতন হওয়া সিকিউরিটিজের সংখ্যা বেশি ছিল। ডিএসইতে লেনদেনের অঙ্ক তুলনামূলক বড় হলেও দরপতনের বিস্তার ছিল স্পষ্ট। সিএসইতে আবার টাকার অঙ্কে লেনদেন বাড়লেও শেয়ার ও লেনদেনের সংখ্যা কমেছে। তাই এক দিনের বাজারচিত্র থেকে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুরোপুরি কমে গেছে বা ফিরে এসেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। পরবর্তী কার্যদিবসে সূচকের অবস্থান, লেনদেনের গতি এবং কতগুলো শেয়ারে দরবৃদ্ধি বা দরপতন হচ্ছে, সেগুলোই দেখাবে বাজারের চাপ কতটা কাটছে।

