সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবস সোমবার (২ নভেম্বর) দেশের দুই পুঁজিবাজারেই ইতিবাচক প্রবণতায় লেনদেন শুরু হয়েছে। দিনের প্রথম দিকের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স যেমন বেড়েছে, তেমনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্সও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। দুই বাজারেই দর বাড়ার তালিকায় ছিল বেশির ভাগ শেয়ার। তবে খাতভেদে চিত্রে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে।
ডিএসইর সকাল ১০টা ২২ মিনিটের বাজারচিত্র অনুযায়ী, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৩ দশমিক ৩৯ পয়েন্ট বা ০.০৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৮৮ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে। ব্লু-চিপ কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক বেড়েছে ০.৪০ পয়েন্ট বা ০.০২ শতাংশ। অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ৩ দশমিক ৩৪ পয়েন্ট বা ০.৩২ শতাংশ। এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে ৫০৫ কোটি ৩১ লাখ নয়, বরং ৫০ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে। মোট ২ কোটি ৫৭ লাখের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে এবং লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ২১১টি।
বাজারের অংশগ্রহণেও ছিল ইতিবাচক চিত্র। ডিএসইতে এ সময় পর্যন্ত ১৮০টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৭৩টির। অপরিবর্তিত ছিল ৯৮টি কোম্পানির দর। অর্থাৎ দর বাড়ার তালিকায় থাকা কোম্পানির সংখ্যা কমতে থাকা কোম্পানির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। খাতভিত্তিক হিসাবে টেক্সটাইল খাতে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ২.৩ শতাংশ উত্থান দেখা গেছে। ওষুধ ও রসায়ন খাত বেড়েছে ১.৫ শতাংশ, পাট খাত ১.৫ শতাংশ এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাত ১.৪ শতাংশ। বিপরীতে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ১.৪ শতাংশ এবং ব্যাংক খাতে ০.৫ শতাংশ পতন দেখা গেছে।
কোম্পানিভিত্তিক দরবৃদ্ধির তালিকায় এগিয়ে ছিল মিথুন নিটিং ও ডাইং বা এমএলডাইং, ক্রাউন সিমেন্ট এবং শেফার্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। এসব কোম্পানির শেয়ারদর যথাক্রমে ৫.৮৩, ৪.৫৪ ও ৩.৯২ শতাংশ বেড়েছে। অন্যদিকে দরপতনের তালিকায় ছিল বিডি ল্যাম্পস, ক্যাপিটেক বিবিএল এবং রানার অটোমোবাইলস। এর মধ্যে বিডি ল্যাম্পসের দর কমেছে ৭.৩৫ শতাংশ।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ছিল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। সকাল ১০টা ১৮ মিনিটের বাজারচিত্রে সিএসসিএক্স সূচক আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৭.১৬ পয়েন্ট বা ০.০৮০৩ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ৯২১ দশমিক ৫৪ পয়েন্টে দাঁড়ায়। এ সময় পর্যন্ত ৩২টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৩টির দর বেড়েছে, কমেছে ৫টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৪টির। মোট ৩ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। লেনদেনের সংখ্যা ছিল ৮০টি এবং আর্থিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৩ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।
সিএসইতে দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, এমএলডাইং ও মতিন স্পিনিং। এসব কোম্পানির শেয়ারদর যথাক্রমে ৯.৮০, ৮.৯১ ও ৮.৩৬ শতাংশ বেড়েছে। ইফাদ অটোস ও এজিএনআই সিস্টেমসের শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
সব মিলিয়ে দুই বাজারের প্রাথমিক চিত্র ইতিবাচক হলেও একে এখনই বড় ধরনের বাজার পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত বলা যাচ্ছে না। কারণ আগের কার্যদিবস রোববার ডিএসইর প্রধান সূচক কমেছিল ০.৬০ শতাংশ এবং সিএসইর সিএসসিএক্স সূচক কমেছিল ০.৫১ শতাংশ। ফলে সোমবারের এই উত্থানকে আপাতত প্রাথমিক ঘুরে দাঁড়ানোর প্রবণতা হিসেবে দেখা যেতে পারে। দিনের বাকি সময়ে লেনদেনের পরিমাণ বাড়ে কি না এবং ব্যাংকসহ পিছিয়ে থাকা খাতগুলো ঘুরে দাঁড়ায় কি না, তার ওপর বাজারের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি অনেকটাই নির্ভর করবে।
সম্পাদনা ও তথ্য যাচাইয়ের নোট: আপনার দেওয়া ফাইলে ডিএসইর সূচকের দুটি স্ক্রিনশটে কিছু অমিল রয়েছে। ১০টা ২২ মিনিটে আপডেট হওয়া ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুসারে এই প্রতিবেদনে সূচকের হিসাব ব্যবহার করেছি। অন্য স্ক্রিনশটে ডিএসইএক্স ৫,৩৯১.৪৭ পয়েন্ট দেখানো হয়েছে। প্রকাশের আগে ডিএসইর লাইভ তথ্যের সঙ্গে বিষয়টি আরেকবার মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

