সোমবার (২ নভেম্বর) দেশের দুই পুঁজিবাজারেই নিম্নমুখী ছিল সূচক। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৫১ পয়েন্টের বেশি কমেছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্সে প্রায় ৬১ পয়েন্ট পতন হয়েছে। শুধু সূচক নয়, দুই বাজারেই দরপতন হওয়া সিকিউরিটিজের সংখ্যা ছিল দরবৃদ্ধি পাওয়া সিকিউরিটিজের চেয়ে বেশি। এর সঙ্গে কমেছে টাকার অঙ্কে লেনদেনও। ফলে দিনশেষের বাজারচিত্রে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সতর্ক অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় সূচকটি কমেছে ৫১ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯৬ শতাংশ। বড় কোম্পানির শেয়ারের জন্য গঠিত ডিএস৩০ সূচক কমেছে ২৬ দশমিক ২৯ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ২৭ শতাংশ। অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস কমেছে ৮ দশমিক ১২ পয়েন্ট। অর্থাৎ প্রধান সূচকের পাশাপাশি বড় কোম্পানি ও শরিয়াহভিত্তিক শেয়ারের বাজারেও নেতিবাচক প্রবণতা ছিল।
ডিএসইতে দিনজুড়ে প্রায় ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল প্রায় ৪৮২ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে প্রায় ১৪ শতাংশ। এদিন মোট লেনদেন হয়েছে ১ লাখ ৬২ হাজার ৪২২টি এবং শেয়ার হাতবদল হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ৭৭ লাখ। একই সঙ্গে ৮৬টি সিকিউরিটিজের দাম বাড়লেও কমেছে ২৪৯টির। অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির দাম। দরবৃদ্ধির তুলনায় দরপতনের এমন বড় ব্যবধান বাজারে ক্রেতাদের তুলনায় বিক্রেতাদের প্রভাব বেশি থাকার ইঙ্গিত দেয়।
খাতভিত্তিক চিত্রেও বেশির ভাগ খাতে দুর্বলতা দেখা গেছে। ডিএসইতে মিউচুয়াল ফান্ড খাতের সূচক প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে পতন ছিল ২ দশমিক ৩ শতাংশ এবং টেলিযোগাযোগ খাতে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। ব্যাংক, বীমা ও জ্বালানি খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। তবে সব খাতেই পতন হয়নি। বস্ত্র খাতের সূচক প্রায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ এবং প্রকৌশল খাতের সূচক শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ কয়েকটি খাতে ইতিবাচক প্রবণতা থাকলেও তা সামগ্রিক বাজারের পতন ঠেকাতে পারেনি।
অন্যদিকে সিএসইতে নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্স দিনশেষে দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৮৫৩ দশমিক ০২৯ পয়েন্টে। আগের দিনের তুলনায় সূচকটি কমেছে ৬১ দশমিক ৩৫ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৬৮৮৩ শতাংশ। এদিন সিএসইতে মোট ১৭৯টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭০টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৮৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২২টির দাম। অর্থাৎ ডিএসইর মতো সিএসইতেও দরপতনের সংখ্যা দরবৃদ্ধি পাওয়া সিকিউরিটিজের চেয়ে বেশি ছিল।
সিএসইতে দিনশেষে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ১৭ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ফলে টাকার অঙ্কে লেনদেন কমেছে প্রায় ২২ শতাংশ। তবে এখানে একটি ভিন্ন চিত্র রয়েছে। আগের দিনের তুলনায় সিএসইতে শেয়ার হাতবদলের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৩২ লাখ ৩৩ হাজারে দাঁড়িয়েছে। মোট লেনদেনের সংখ্যাও ১ হাজার ২৫২টি থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৯১টিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ বেশি সংখ্যক শেয়ার হাতবদল হলেও মোট টাকার প্রবাহ কমেছে। এতে বোঝা যায়, লেনদেনের পরিমাণ ও টাকার অঙ্ক সব সময় একই দিকে চলে না।
সিএসইতে কিছু কোম্পানির শেয়ারে উল্লেখযোগ্য দরবৃদ্ধিও হয়েছে। ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ও তোস্রিফার শেয়ার দরবৃদ্ধির তালিকায় ছিল। বিপরীতে পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স, প্রাইম ব্যাংক ও সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ার দরপতনের তালিকায় ছিল। অর্থাৎ সামগ্রিক বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা থাকলেও কিছু কোম্পানিতে ক্রেতাদের আগ্রহ বজায় ছিল। এই চিত্র আবারও দেখায়, বাজারের সূচক কমা মানেই প্রতিটি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে, এমন নয়।
দিনশেষের হিসাবে দুই পুঁজিবাজারেই কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট। ডিএসইতে সূচকের পতনের সঙ্গে লেনদেনের টাকার অঙ্ক কমেছে এবং দরপতনের বিস্তার ছিল বেশি। সিএসইতেও সূচক ও লেনদেনের মূল্য কমেছে, যদিও শেয়ার হাতবদল ও মোট লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে। দুই এক্সচেঞ্জের সূচক আলাদা পদ্ধতিতে হিসাব করা হয়, তাই শুধু পয়েন্টের পতন দিয়ে তাদের সরাসরি তুলনা করা ঠিক নয়। বরং শতাংশ পরিবর্তন, দরবৃদ্ধি ও দরপতনের অনুপাত এবং লেনদেনের প্রবণতা একসঙ্গে দেখলে বাজারের অবস্থা ভালোভাবে বোঝা যায়। এক দিনের পতন দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা নিশ্চিত করা না গেলেও, পরবর্তী কার্যদিবসে লেনদেন ও সূচক কোন দিকে যায়, তা বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

