ডিএসইর সকাল ১০টা ২৪ মিনিটের বাজারচিত্র অনুযায়ী, প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ০.২৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩৪৮ দশমিক ৩৪ পয়েন্টে। অন্যদিকে, ব্লু-চিপ বা ভালো মৌলভিত্তির ৩০টি কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচক ০.১২ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৪৪ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট। শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ০.৩৪ শতাংশ, দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪১ দশমিক ৩৭ পয়েন্টে।
এ সময় পর্যন্ত ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৫৭ কোটি ৩২ লাখ টাকার বেশি। হাতবদল হয়েছে প্রায় ২ কোটি ৩৯ লাখ শেয়ার। মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৪৮৩টি। বাজারের অংশগ্রহণেও ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। এ সময় পর্যন্ত ২০৭টি কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে, কমেছে ৬৯টির। অর্থাৎ দরবৃদ্ধির তালিকায় থাকা কোম্পানির সংখ্যা দরপতনের তালিকার প্রায় তিন গুণ।
ডিএসইতে খাতভিত্তিক লেনদেনের চিত্রেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে প্রকৌশল খাতের শেয়ারদর, প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ। এরপর রয়েছে টেক্সটাইল খাত, যেখানে দর বেড়েছে ২ দশমিক ৪ শতাংশ। খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতে ১ দশমিক ২ শতাংশ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ এবং ওষুধ ও রসায়ন খাতে প্রায় ০.৯ শতাংশ উত্থান হয়েছে।
তবে সব খাতের চিত্র এক নয়। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ দরপতন হয়েছে। বীমা খাত কমেছে ০.৫ শতাংশ। অর্থাৎ সামগ্রিক সূচক বাড়লেও কয়েকটি খাতে এখনো বিক্রির চাপ রয়েছে।
কোম্পানিভিত্তিক দরবৃদ্ধির তালিকায় শীর্ষে ছিল বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স বা বিজিআইসি। কোম্পানিটির শেয়ারদর বেড়েছে ১০ দশমিক ৮০ শতাংশ। এ ছাড়া মার্কেন্টাইল ইন্স্যুরেন্সের ৪ দশমিক ৭৩ শতাংশ, মতিন স্পিনিংয়ের ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ, ইস্টার্ন প্রোপার্টিজের ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং পিএইচপি ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৩ দশমিক ০৩ শতাংশ দরবৃদ্ধি হয়েছে।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে। সরবরাহ করা বাজারচিত্রে সিএসইর প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ৮ হাজার ৮৬৩ দশমিক ৯০ পয়েন্টে অবস্থান করছিল, যা আগের দিনের তুলনায় ১৪ দশমিক ০৫ পয়েন্ট বা ০.১৫৮৮ শতাংশ বেশি।
এ সময় পর্যন্ত সিএসইতে ২৮টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেনে অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৭টির দর বেড়েছে, কমেছে ৮টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ৩টির। মোট ৭৮টি লেনদেনে প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার শেয়ার হাতবদল হয়েছে। আর্থিক হিসাবে লেনদেনের পরিমাণ ছিল প্রায় ২ কোটি ২১ লাখ টাকা।
সিএসইতে দরবৃদ্ধির তালিকায় এগিয়ে ছিল ওআইএমইএক্স, ওএএল এবং মতিন স্পিনিং। এর মধ্যে ওআইএমইএক্সের শেয়ারদর বেড়েছে ১৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ, ওএএলের ১০ শতাংশ এবং মতিন স্পিনিংয়ের ৯ দশমিক ৯৬ শতাংশ। এ ছাড়া সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস ও নাহী অ্যালুমিনিয়ামের শেয়ারদরও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
মঙ্গলবারের এই ইতিবাচক সূচনার পেছনে আগের দিনের বাজার পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। সোমবার (২ নভেম্বর) ডিএসইর প্রধান সূচক ৫১ দশমিক ৫৭ পয়েন্ট বা ০.৯৬ শতাংশ কমে ৫ হাজার ৩৩৩ দশমিক ৫৮ পয়েন্টে নেমে আসে। সেদিন ডিএস৩০ সূচকও ১.২৭ শতাংশ কমেছিল। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমায় বাজারে বিক্রির চাপ স্পষ্ট ছিল। সিএসইতেও আগের দিন প্রধান সূচক সিএসসিএক্স ০.৭২ শতাংশ কমেছিল।
সেই অবস্থার পর মঙ্গলবার দুই বাজারেই সূচকের উত্থান এবং দরবৃদ্ধির তালিকায় বেশি কোম্পানি থাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। বিশেষ করে ডিএসইতে টেক্সটাইল ও প্রকৌশল খাতের একসঙ্গে ভালো অবস্থান বাজারের উত্থানে ভূমিকা রাখছে।
তবে দিনের শুরুর এই প্রবণতাকে এখনই বাজারের ঘুরে দাঁড়ানোর নিশ্চিত সংকেত বলা যাচ্ছে না। কারণ লেনদেন তখনো চলছিল এবং দিনের শেষ পর্যন্ত সূচক ও লেনদেনের পরিমাণ কোন দিকে যায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি দরবৃদ্ধি শুধু কয়েকটি কোম্পানিতে সীমাবদ্ধ থাকে, নাকি আরও বেশি খাতে ছড়িয়ে পড়ে, সেটিও নজরে রাখতে হবে। সব মিলিয়ে দুই পুঁজিবাজারে ইতিবাচক সূচনা হলেও এই ধারা শেষ পর্যন্ত কতটা স্থায়ী হয়, তা নির্ভর করবে দিনের বাকি সময়ের লেনদেন ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের ওপর।

