মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দিনশেষে দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সূচকের পতন হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে প্রায় ৪৯ পয়েন্ট। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) প্রধান নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স কমেছে প্রায় ৬৫ পয়েন্ট। দুই বাজারেই দরপতন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের চেয়ে বেশি ছিল। তবে লেনদেনের অঙ্কে দুই এক্সচেঞ্জের চিত্র ছিল আলাদা। ডিএসইতে টাকার অঙ্কে লেনদেন বেড়েছে, আর সিএসইতে কমেছে।
দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৮৪ দশমিক ৩২ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসের তুলনায় সূচকটি কমেছে ৪৯ দশমিক ২৬ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৯২ শতাংশ। বড় কোম্পানির শেয়ার নিয়ে গঠিত ডিএস৩০ সূচকও ২০ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে নেমেছে। অন্যদিকে শরিয়াহভিত্তিক কোম্পানির সূচক ডিএসইএস কমেছে ৭ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। অর্থাৎ শুধু প্রধান সূচক নয়, বড় কোম্পানি ও শরিয়াহভিত্তিক শেয়ারেও দরপতন হয়েছে।
ডিএসইতে দিনজুড়ে প্রায় ৫৬২ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন ছিল প্রায় ৪১৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে লেনদেনের অঙ্ক বেড়েছে প্রায় ৩৪ শতাংশ। এদিন প্রায় ১৮ কোটি ৬৮ লাখ শেয়ার হাতবদল হয়েছে এবং মোট লেনদেনের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার। কিন্তু লেনদেন বাড়ার বিপরীতে বাজারে দরপতনের বিস্তার ছিল বেশি। দিনশেষে ৬৮টি সিকিউরিটিজের দাম বাড়লেও কমেছে ২৬৭টির। অপরিবর্তিত ছিল ৫১টির দাম। অর্থাৎ বাজারে কেনাবেচা বেশি হলেও বেশির ভাগ শেয়ারের ক্ষেত্রে বিক্রির চাপ কাটেনি। তাই শুধু লেনদেন বেড়েছে বলে বাজারে ক্রেতাদের শক্তিশালী প্রত্যাবর্তন ঘটেছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।
খাতভিত্তিক চিত্রেও মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে। ডিএসইতে বস্ত্র খাতের সূচক প্রায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও সামান্য উত্থান ছিল। বিপরীতে পাট খাতের সূচক কমেছে প্রায় ৪ দশমিক ৫ শতাংশ। মিউচুয়াল ফান্ড খাতে পতন ছিল ২ দশমিক ৭ শতাংশ। বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতেও নেতিবাচক প্রবণতা ছিল। ফলে কিছু খাতে দরবৃদ্ধি থাকলেও ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য খাতের দুর্বলতা সামগ্রিক সূচককে নিচে নামিয়েছে।
সিএসইতে দিনশেষে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সূচকেই পতন হয়েছে। নির্বাচিত কোম্পানির সূচক সিএসসিএক্স ৮ হাজার ৮৪৯ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় প্রায় ৬৪ দশমিক ৫৩ পয়েন্ট বা শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ কম। সিএসই৫০ সূচক কমেছে প্রায় ১ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং সিএস৩০ সূচক ১ দশমিক ১৯ শতাংশ। অন্যদিকে সার্বিক বাজারের সূচক সিএএসপিআই কমেছে শূন্য দশমিক ৭২ শতাংশ। শরিয়াহভিত্তিক সিএসআই সূচকেও সামান্য পতন হয়েছে। অর্থাৎ সিএসইতে শুধু একটি নির্দিষ্ট শ্রেণির শেয়ার নয়, বিভিন্ন সূচকেই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
এদিন সিএসইতে মোট ১৮২টি সিকিউরিটিজের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৭৬টির দাম বেড়েছে, কমেছে ৮৭টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ১৯টির দাম। টাকার অঙ্কে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে এই অঙ্ক ছিল প্রায় ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। ফলে লেনদেনের মূল্য কমেছে প্রায় ২১ শতাংশ। তবে একই সময়ে সিএসইতে শেয়ার হাতবদলের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৩৩ লাখ ৮৭ হাজারে দাঁড়িয়েছে। মোট লেনদেনের সংখ্যাও আগের দিনের ১ হাজার ২৫২টি থেকে বেড়ে ১ হাজার ৩৩৬টিতে পৌঁছেছে। অর্থাৎ সিএসইতে বেশি শেয়ার হাতবদল ও বেশি সংখ্যক লেনদেন হলেও টাকার অঙ্কে বাজারের কার্যক্রম ছোট হয়েছে।
কোম্পানিভিত্তিক দর পরিবর্তনেও দুই বাজারে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। ডিএসইতে ম্যাটিন স্পিনিংয়ের শেয়ারদর সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেড়েছে। এনভয় টেক্সটাইলস ও হাওয়া ওয়েলটেক্সের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। বিপরীতে সাইহাম টেক্সটাইলের দর কমেছে ৯ শতাংশের বেশি। বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স ও ক্যাপম আইবিবিএল মিউচুয়াল ফান্ডেও উল্লেখযোগ্য পতন হয়েছে। সিএসইতে ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স ও তোস্রিফার শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ করে বেড়েছে। অন্যদিকে প্রাইম ব্যাংক, রূপালী ইন্স্যুরেন্স ও বঙ্গজের শেয়ারদর প্রায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।
দিনশেষের দুই বাজারের হিসাব থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য সামনে এসেছে। ডিএসইতে লেনদেনের অঙ্ক বেড়েছে, কিন্তু দরপতন হওয়া শেয়ারের সংখ্যা অনেক বেশি। সিএসইতে আবার টাকার অঙ্কে লেনদেন কমলেও শেয়ার হাতবদল ও লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে। অর্থাৎ দুই বাজারেই সূচক ও শেয়ারের দামে চাপ থাকলেও কেনাবেচার ধরন এক ছিল না। এই চিত্র থেকে এক দিনের বাজারে বিনিয়োগকারীদের সামগ্রিক আস্থা বা ভবিষ্যৎ প্রবণতা নিশ্চিত করা যাবে না। তবে পরবর্তী কার্যদিবসে সূচকের অবস্থান, লেনদেনের গতি এবং দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের সংখ্যা বাড়ে কি না, সেটিই হবে বাজারের চাপ কমার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

