বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সমন্বিত করতে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে দেশের সব মার্চেন্ট পয়েন্টে ‘বাংলা কিউআর’ ব্যবহার বাধ্যতামূলক হচ্ছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরগুলোকে নিজস্ব পৃথক কিউআর কোডের পরিবর্তে বাংলা কিউআর চালু করতে বলা হয়েছে।
বাংলা কিউআর কী?
বাংলা কিউআর হলো বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত একটি সমন্বিত (ইউনিফায়েড) কিউআরভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে একটি মাত্র কিউআর কোড ব্যবহার করে গ্রাহকরা অংশগ্রহণকারী যেকোনো ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার অ্যাপ থেকে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। ফলে বিকাশ, নগদ, রকেট বা বিভিন্ন ব্যাংকের জন্য আলাদা আলাদা কিউআর কোড প্রদর্শনের প্রয়োজন হবে না।
কেন বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে?
বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, দেশের ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত, নিরাপদ এবং সবার জন্য সহজলভ্য করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পৃথক কিউআর কোড ব্যবহার করা হয়, যা গ্রাহক ও ব্যবসায়ী উভয়ের জন্যই জটিলতা সৃষ্টি করে। বাংলা কিউআর চালু হলে একটি কিউআর কোডের মাধ্যমেই সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেন সম্পন্ন করা যাবে।
নগদ অর্থের ব্যবহার কমিয়ে একটি ক্যাশলেস সমাজ গড়ে তোলাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। এর ফলে গ্রাহকরা খুচরা টাকার ঝামেলা বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের সমস্যায় না পড়ে নির্ধারিত মূল্য সহজেই পরিশোধ করতে পারবেন। একই সঙ্গে লেনদেন হবে আরও দ্রুত, নিরাপদ এবং সুরক্ষিত।
ডিজিটাল মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া সব লেনদেন নথিভুক্ত থাকায় অনানুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং জিডিপির পরিধি বাড়তে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, হিসাব সংরক্ষণ সহজ করা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যও রয়েছে এ উদ্যোগের পেছনে।
কোথায় ব্যবহার হবে?
দোকান, রেস্তোরাঁ, সুপারশপ, অনলাইন স্টোর, সেবাকেন্দ্রসহ যেসব স্থানে কিউআরভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণ করা হয়, সেসব সব মার্চেন্ট পয়েন্টে বাংলা কিউআর ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ৩০ জুনের মধ্যে বিদ্যমান কিউআর কোড অপসারণ করে বাংলা কিউআর স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে।
গ্রাহক ও ব্যবসায়ীদের কী সুবিধা হবে?
বাংলা কিউআর চালুর ফলে গ্রাহকরা যেকোনো সমর্থিত ব্যাংক বা এমএফএস অ্যাপ ব্যবহার করে একই কিউআর কোড স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ীদেরও একাধিক কিউআর কোড প্রদর্শনের প্রয়োজন হবে না। একটি কিউআর কোডই সব ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণের জন্য যথেষ্ট হবে।
এ ছাড়া লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ সহজ হবে, নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমবে এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়বে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলা কিউআর চালুর ফলে দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ অধিকাংশ লেনদেন ধীরে ধীরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তরিত হবে। এর ফলে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়তে পারে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে আরও গতি আসতে পারে।

