বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণ, স্মৃতিধারণকারী চিপের বাড়তি চাহিদা, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট—সব মিলিয়ে কম্পিউটারের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মাদারবোর্ড, গ্রাফিকস কার্ডসহ ব্যক্তিগত কম্পিউটারের বিভিন্ন উপকরণের দামে।
বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দেশের বাজারে ব্যবহৃত কম্পিউটার যন্ত্রাংশের প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে আসে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে উৎপাদন খরচ বাড়লে তার সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবহন ব্যয়, আমদানি শুল্ক, ব্যবসায়ীদের মুনাফা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্যের পরিবর্তন। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির চেয়ে বাংলাদেশের বাজারে প্রভাব আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিক থেকে ভোক্তাদের জন্য তৈরি মাদারবোর্ডের দাম সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কয়েকটি বড় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। একই সময়ে গ্রাফিকস কার্ডের দামও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত স্মৃতি প্রযুক্তির চাহিদা দ্রুত বেড়ে যাওয়া।
কেন হঠাৎ এত চাপ?
বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে হলে প্রযুক্তি শিল্পের সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে তাকাতে হবে। একটি মাদারবোর্ড তৈরিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ প্রয়োজন হয়। বহুস্তরীয় মুদ্রিত সার্কিট বোর্ড, তামার তাপ অপসারণকারী অংশ, ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক ধারক, নিয়ন্ত্রণ চিপ এবং বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণের উপকরণের দাম বেড়ে গেলে পুরো মাদারবোর্ডের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কম্পিউটার বাজারের দুর্বল চাহিদা। তাই তাইওয়ানের মাদারবোর্ড নির্মাতারা তাদের বার্ষিক সরবরাহ লক্ষ্যমাত্রা ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়েছে। উৎপাদনের পরিমাণ কমে গেলে কারখানার উন্নয়ন, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য স্থায়ী ব্যয় কমে না। বরং কম সংখ্যক পণ্যের ওপর এসব ব্যয় ভাগ হয়ে যাওয়ায় প্রতিটি ইউনিট তৈরির খরচ বেড়ে যায়।
ফলে নির্মাতাদের সামনে একটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে কাঁচামাল ও অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ছে। শেষ পর্যন্ত সেই বাড়তি ব্যয়ের একটি বড় অংশ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাড়াচ্ছে স্মৃতি চিপের সংকট
গ্রাফিকস কার্ডের বাজারে পরিস্থিতি আরও জটিল। আধুনিক গ্রাফিকস কার্ডের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভিডিও স্মৃতি। কিন্তু বর্তমানে স্মৃতি চিপ উৎপাদনকারী বড় প্রতিষ্ঠানগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্রের জন্য উচ্চগতির স্মৃতি তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
স্যামসাং, এসকে হাইনিক্স ও মাইক্রনের মতো বড় নির্মাতারা উচ্চ-ব্যান্ডউইথ স্মৃতির উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সক্ষমতা সরিয়ে নেওয়ায় সাধারণ কম্পিউটার ও গ্রাফিকস কার্ডে ব্যবহৃত জিডিডিআর৬ ও জিডিডিআর৭ স্মৃতির সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
এই পরিবর্তনের প্রভাব শুধু সরবরাহের ওপর পড়ছে না, উৎপাদন ব্যয়ও বাড়াচ্ছে। উচ্চক্ষমতার একটি গ্রাফিকস কার্ডের মোট উপকরণ ব্যয়ের প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ভিডিও স্মৃতির পেছনে চলে যেতে পারে। ফলে স্মৃতির দাম বাড়লে পুরো গ্রাফিকস কার্ডের দামও দ্রুত বেড়ে যায়।
উচ্চতর উৎপাদন ব্যয়ের কারণে এএমডি ও এনভিডিয়ার মতো নির্মাতারাও তাদের অংশীদারদের জন্য গ্রাফিকস প্রসেসর ও স্মৃতির সমন্বিত প্যাকেজের দাম বাড়িয়েছে। অর্থাৎ এই মূল্যবৃদ্ধি সরবরাহ ব্যবস্থার একেবারে ওপরের স্তর থেকে নিচের বাজার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ কেন বেশি চাপে পড়তে পারে?
বাংলাদেশের বাজারের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো কম্পিউটার যন্ত্রাংশ উৎপাদনে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। ব্যক্তিগত কম্পিউটারের প্রায় ১০০ শতাংশ যন্ত্রাংশ চীন, তাইওয়ান এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সরবরাহকারীর কাছ থেকে আমদানি করতে হয়।
এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো যন্ত্রাংশের দাম বাড়লে বাংলাদেশের বাজারও তা থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। বরং কয়েকটি অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে স্থানীয় ক্রেতাদের ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।
প্রথমত, বাড়বে পণ্যের আন্তর্জাতিক মূল্য। দ্বিতীয়ত, আমদানি শুল্ক ও অন্যান্য সরকারি ব্যয় যুক্ত হবে। তৃতীয়ত, পরিবহন ও জাহাজভাড়া বাড়লে তার প্রভাবও পড়বে। চতুর্থত, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্য দুর্বল হলে একই পণ্য আমদানি করতে আরও বেশি টাকা প্রয়োজন হবে।
ফলে বিদেশে কোনো যন্ত্রাংশের দাম যতটা বাড়বে, বাংলাদেশের বাজারে সেটি একই হারে বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে স্থানীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধি আরও বেশি হতে পারে।
শিক্ষার্থী থেকে খেলোয়াড়—সবাই প্রভাবিত হতে পারেন
কম্পিউটার এখন শুধু বিনোদনের পণ্য নয়। শিক্ষার্থীদের অনলাইন শিক্ষা, প্রকৌশল ও নকশার কাজ, ভিডিও সম্পাদনা, তথ্য বিশ্লেষণ, সফটওয়্যার উন্নয়ন, গবেষণা এবং বিভিন্ন পেশাগত কাজেও এর ব্যবহার বাড়ছে।
ফলে যন্ত্রাংশের দাম বাড়লে সবচেয়ে বড় চাপ পড়তে পারে সীমিত বাজেটের ব্যবহারকারীদের ওপর। একজন শিক্ষার্থী যিনি পুরোনো কম্পিউটার কিছুটা উন্নত করে ব্যবহার করতে চান, তার জন্য একটি মাদারবোর্ড বা গ্রাফিকস কার্ডের বাড়তি কয়েক হাজার টাকা বড় বিষয় হয়ে উঠতে পারে।
একইভাবে ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোও সমস্যায় পড়তে পারে। একসঙ্গে কয়েকটি কম্পিউটার কেনা বা পুরোনো যন্ত্রাংশ বদলে নতুন ব্যবস্থা তৈরি করতে গেলে তাদের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।
গেম খেলা বা উচ্চক্ষমতার কম্পিউটার ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত ব্যবহারকারীদের ওপরও চাপ বাড়বে। বিশেষ করে উচ্চক্ষমতার গ্রাফিকস কার্ডের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধি সরাসরি পুরো কম্পিউটার তৈরির বাজেটকে প্রভাবিত করবে।
বাংলাদেশের বাজারে সম্ভাব্য দাম কত হতে পারে?
বর্তমান স্থানীয় বাজারের মূল্য এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় কয়েকটি যন্ত্রাংশের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে।
প্রবেশ-স্তরের মাদারবোর্ডের বর্তমান দাম ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার ৫০০ টাকা। মূল্যবৃদ্ধির পর তা ৭ হাজার ৫০০ থেকে ১৩ হাজার টাকায় উঠতে পারে।
মাঝারি মানের মাদারবোর্ডের বর্তমান মূল্য ১৫ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা। সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির পর এই পরিসর ২২ হাজার থেকে ৩৭ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।
উচ্চক্ষমতার মাদারবোর্ডের ক্ষেত্রে বর্তমান ৪৫ হাজার থেকে ৭৫ হাজার টাকার দাম বেড়ে ৬৭ হাজার থেকে ১ লাখ ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
গ্রাফিকস কার্ডের বাজারেও একই ধরনের চাপ দেখা যেতে পারে। মাঝারি মানের আরটিএক্স ৫০৭০ ১২ জিবির বর্তমান মূল্য ৮৬ হাজার ৫০০ থেকে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। মূল্যবৃদ্ধির পর তা ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় উঠতে পারে।
আরটিএক্স ৫০৭০ টিআই ১৬ জিবির বর্তমান দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার থেকে ২ লাখ ৮ হাজার টাকা। সম্ভাব্য নতুন দামে এটি ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হতে পারে।
অন্যদিকে আরটিএক্স ৫০৬০ বা আরএক্স ৯০৬০ শ্রেণির প্রবেশ-স্তরের গ্রাফিকস কার্ডের বর্তমান মূল্য ৩৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার টাকা। মূল্যবৃদ্ধির পর তা ৪২ হাজার থেকে ৫৬ হাজার টাকায় পৌঁছাতে পারে।
তবে এগুলো সম্ভাব্য বাজারদরের হিসাব। বাস্তবে বাংলাদেশের দোকানে পণ্যের দাম নির্ভর করবে আমদানি শুল্ক, পরিবহন ব্যয়, ব্যবসায়ীদের মুনাফা এবং ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময়মূল্যের ওপর।
দাম বাড়লে শুধু নতুন কম্পিউটার নয়, পুরোনোটিও ব্যয়বহুল হবে
প্রযুক্তিপণ্যের দাম বাড়ার প্রভাব শুধু যারা নতুন কম্পিউটার কিনবেন তাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পুরোনো কম্পিউটার উন্নত করতে চাওয়া ব্যবহারকারীরাও সমস্যায় পড়বেন।
অনেক ব্যবহারকারী পুরো কম্পিউটার পরিবর্তন না করে শুধু মাদারবোর্ড, গ্রাফিকস কার্ড বা স্মৃতি পরিবর্তন করে কর্মক্ষমতা বাড়ান। কিন্তু এসব উপকরণের দাম বেড়ে গেলে সেই বিকল্পটিও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে।
এতে পুরোনো কম্পিউটার আরও দীর্ঘ সময় ব্যবহার করার প্রবণতা বাড়তে পারে। স্বল্পমেয়াদে এটি ক্রেতাদের জন্য খরচ কমানোর উপায় হলেও দীর্ঘমেয়াদে প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।
মূল্যবৃদ্ধির পেছনে বড় পরিবর্তন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে
বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো প্রযুক্তি শিল্পের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ দ্রুত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দিকে চলে যাচ্ছে।
তথ্যকেন্দ্রে ব্যবহৃত উচ্চক্ষমতার কম্পিউটিং ব্যবস্থা তৈরিতে বিপুল পরিমাণ উন্নত চিপ ও স্মৃতি প্রয়োজন। এই খাতের চাহিদা সাধারণ ভোক্তা বাজারের তুলনায় অনেক বেশি লাভজনক হওয়ায় নির্মাতারা স্বাভাবিকভাবেই বেশি লাভের বাজারকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি পণ্যের সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে কাঁচামালের দাম বাড়ায় উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। এই দুই চাপ একসঙ্গে কাজ করায় সামনে প্রযুক্তিপণ্যের বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য কী করণীয়?
বাংলাদেশের ক্রেতাদের জন্য এই পরিস্থিতি সামলানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে বাজারের ওপর নজর রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া উচ্চমূল্যের যন্ত্রাংশ কেনার সিদ্ধান্ত না নেওয়া। একই সঙ্গে ব্যবসায়ীদেরও অতিরিক্ত মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নজরদারি প্রয়োজন।
দীর্ঘমেয়াদে অবশ্য শুধু আমদানিনির্ভর থাকলে বাংলাদেশের সমস্যা কমবে না। কম্পিউটার যন্ত্রাংশের স্থানীয় সংযোজন, প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদন এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
কারণ বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সংকট তৈরি হলেই যদি দেশের বাজার পুরোপুরি বিদেশি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তাহলে স্থানীয় ক্রেতাদের ওপর তার প্রভাব দ্রুত পড়ে। স্থানীয়ভাবে কিছু যন্ত্রাংশ তৈরি বা সংযোজনের সক্ষমতা তৈরি করা গেলে অন্তত সরবরাহ ব্যবস্থার একটি অংশ দেশের নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
সবশেষে বলা যায়, বিশ্ব প্রযুক্তি বাজারে চলমান মূল্যবৃদ্ধি কেবল কম্পিউটারপ্রেমীদের জন্য একটি খারাপ খবর নয়। এর প্রভাব শিক্ষা, ব্যবসা, গবেষণা, সৃজনশীল কাজ এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানেও পড়তে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর বাজারে আন্তর্জাতিক মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে স্থানীয় মুদ্রার বিনিময়মূল্য, শুল্ক ও পরিবহন ব্যয় যুক্ত হওয়ায় চাপ আরও বাড়তে পারে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসার প্রযুক্তি খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য হার্ডওয়্যারের প্রাপ্যতা ও মূল্য নিয়ে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি করছে। এখন দেখার বিষয়, এই বৈশ্বিক চাপ কতটা দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং নির্মাতারা সাধারণ ভোক্তা বাজারের জন্য সরবরাহ কত দ্রুত স্বাভাবিক করতে পারেন।

