বাংলাদেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার বিষয়ে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক তথ্যকেন্দ্র স্থাপন, বিপুল পরিমাণ কম্পিউটিং সক্ষমতা তৈরি এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপর নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আলোচনা জোরালো হচ্ছে। ভবিষ্যতের প্রযুক্তি অর্থনীতিতে কম্পিউটিং শক্তি যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, এতে সন্দেহ নেই। যে দেশ দ্রুত ও সহজে উন্নত কম্পিউটিং সুবিধা ব্যবহার করতে পারবে, তাদের গবেষণা, প্রযুক্তি ব্যবসা ও নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও বেশি থাকবে।
তবে বাংলাদেশের সামনে এখন একটি মৌলিক প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে। আমাদের কতগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র থাকবে—প্রথম প্রশ্নটি সেটি হওয়া উচিত নয়। বরং প্রশ্ন হওয়া দরকার, বাংলাদেশের একজন প্রকৌশলী, গবেষক কিংবা প্রযুক্তি উদ্যোক্তা কীভাবে লন্ডন, সিঙ্গাপুর বা সান ফ্রান্সিসকোর একজন প্রযুক্তিবিদ বা প্রতিষ্ঠানের মতো একই মানের কম্পিউটিং সুবিধা সহজে ব্যবহার করতে পারবেন।
কারণ প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির বড় একটি অংশ ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বড় মেঘভিত্তিক প্রযুক্তি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল কম্পিউটিং ক্ষমতা দিচ্ছে। বাংলাদেশ নিজে একই ধরনের অবকাঠামো তৈরি করতে গেলে যে বিপুল অর্থ, সময় ও দক্ষতার প্রয়োজন হবে, তা অনেক ক্ষেত্রে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হতে পারে। তাই একটি বাংলাদেশি নতুন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে হলে আগে দেশের ভেতরেই বিশাল মাপের নিজস্ব অবকাঠামো তৈরি হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে—এমন কোনো বাধা থাকা উচিত নয়।
বরং প্রথম কাজ হওয়া উচিত, প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি অবকাঠামো ব্যবহারের পথে থাকা অপ্রয়োজনীয় আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক বাধাগুলো কমানো।
বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যে এ বিষয়ে কিছুটা এগিয়েছে। অক্টোবর ২০২৪-এ ব্যাংকটি অনুমোদিত ডিলারদের মাধ্যমে মেঘভিত্তিক প্রযুক্তি সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো এবং দূরবর্তী সফটওয়্যার ব্যবহারের জন্য দেশের বাইরে অর্থ পাঠানোর অনুমতি দিয়ে নিয়ম জারি করে। পরে এই কাঠামো বাংলাদেশ ব্যাংকের বৃহত্তর বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনার নিয়মের অংশ হয়।
এটি গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিবর্তন। কারণ আধুনিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য মেঘভিত্তিক অবকাঠামো এখন আর মাঝেমধ্যে কেনা কোনো অতিরিক্ত প্রযুক্তি নয়। তথ্য সংরক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তা, সফটওয়্যার পরিচালনা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং শক্তি একটি প্রতিষ্ঠানের নিয়মিত পরিচালন ব্যয়ের অংশ। প্রতিষ্ঠান যত বড় হয়, এসব ব্যয়ও তত বাড়ে। তাই বিদেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করতে হয় বলেই কোনো বাংলাদেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে অপ্রয়োজনীয় আর্থিক বা প্রশাসনিক জটিলতায় পড়া উচিত নয়।
তবে এর পাশাপাশি তথ্যের নিরাপত্তা ও দেশের ভেতরে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আর্থিক তথ্য, নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা রাষ্ট্রের সংবেদনশীল তথ্য কোথায় রাখা হবে, কারা সেগুলো ব্যবহার করতে পারবে এবং কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে—এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট নীতি প্রয়োজন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মেঘভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশনায় আর্থিক ও অন্যান্য সংবেদনশীল গ্রাহক-তথ্য সাধারণভাবে দেশের বাইরে অবস্থিত উন্মুক্ত মেঘভিত্তিক ব্যবস্থায় রাখার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে অনুমোদনের সুযোগও রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তথ্যের সংবেদনশীলতার মাত্রা অনুযায়ী শ্রেণিবিন্যাসের কথাও বলা হয়েছে।
এই শ্রেণিবিন্যাসের ধারণাটিই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।
কারণ সব তথ্যের গুরুত্ব এক নয়। একটি সরকারি ওয়েবসাইটে থাকা সাধারণ তথ্য, কোনো সরকারি দপ্তরের অভ্যন্তরীণ প্রশাসনিক তথ্য, নাগরিকের ব্যাংক হিসাবের তথ্য এবং সামরিক গোয়েন্দা তথ্যকে একই মাত্রার নিরাপত্তার আওতায় রাখার প্রয়োজন নেই। তথ্যের ঝুঁকি যত বেশি, নিরাপত্তার স্তরও তত শক্তিশালী হওয়া উচিত।
অর্থাৎ আগে ঠিক করতে হবে কোন তথ্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। তারপর সিদ্ধান্ত নিতে হবে সেই তথ্য কোথায় রাখা হবে এবং কী ধরনের প্রযুক্তিগত সুরক্ষা প্রয়োজন।
যুক্তরাজ্যের ব্যবস্থায় সরকারি তথ্যকে সাধারণত তিনটি স্তরে ভাগ করা হয়—সাধারণ সরকারি তথ্য, গোপনীয় তথ্য এবং অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য। তথ্য ফাঁস হলে সম্ভাব্য ক্ষতির মাত্রা যত বাড়ে, নিরাপত্তার ব্যবস্থাও তত কঠোর হয়। যুক্তরাজ্যের সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যথাযথ আইনগত, নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকলে সাধারণ সরকারি তথ্য বিদেশে অবস্থিত মেঘভিত্তিক ব্যবস্থাতেও রাখা বা প্রক্রিয়াজাত করা যেতে পারে। অর্থাৎ সরকারি তথ্য হলেই সেটি দেশের সীমানার ভেতরেই রাখতে হবে—এমন সর্বজনীন নিয়ম নেই। তবে অত্যন্ত সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থা প্রয়োজন।
বাংলাদেশকে অবশ্যই হুবহু এই মডেল অনুসরণ করতে হবে এমন নয়। বাংলাদেশের নিজস্ব ঝুঁকি, আইন, রাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ভিত্তিতে নিজেদের তথ্য শ্রেণিবিন্যাস ব্যবস্থা তৈরি করতে হবে। কিন্তু মূল নীতিটি গুরুত্বপূর্ণ—প্রথমে ঝুঁকি নির্ধারণ, তারপর অবকাঠামো নির্বাচন।
এখানে আরও একটি ভুল ধারণা দূর করা প্রয়োজন। দেশের ভেতরে কোনো তথ্য সংরক্ষণ করা হলেই সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিরাপদ হয়ে যায় না। তথ্যের অবস্থান নিরাপত্তার একটি মাত্র অংশ। তথ্যের সংকেতায়ন, কারা প্রবেশাধিকার পাচ্ছে তার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত নজরদারি, দক্ষ প্রযুক্তিবিদ, তথ্যের ব্যাকআপ এবং শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা—সবকিছু মিলেই একটি ব্যবস্থা কতটা নিরাপদ, তা নির্ধারিত হয়।
তাই দেশের ভেতরে তথ্যকেন্দ্র থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়।
এর অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশে নিজস্ব তথ্যকেন্দ্রের প্রয়োজন নেই। বরং যেসব তথ্য ও প্রযুক্তি ব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তা, আইনগত প্রয়োজন কিংবা কৌশলগত স্বার্থের কারণে দেশের ভেতরেই নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, সেগুলোর জন্য নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তোলা দরকার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত প্রযুক্তি অবকাঠামো নির্মাতা ও সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তবে এখানেই সামনে আসছে আরেকটি বড় বাধা—বিদ্যুৎ।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে তথ্যকেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ ব্যবহার ২০৩০ সালের মধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি হতে পারে এবং প্রায় ৯৪৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত প্রসারই এর অন্যতম প্রধান কারণ।
বাংলাদেশের বাস্তবতা অবশ্য ভিন্ন। দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা এখনও ব্যবসা ও শিল্প খাতের জন্য বড় সমস্যা। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে অনির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ সবচেয়ে বেশি উল্লেখ করা প্রতিবন্ধকতাগুলোর একটি। বেসরকারি খাতের বিকাশের জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়টিও বিশ্বব্যাংক বারবার গুরুত্ব দিয়েছে।
এই বাস্তবতায় এমন কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠবে, যার জন্য ১০০ বা ২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন।
এ ধরনের প্রকল্পকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বড় বিনিয়োগের আগে প্রশ্ন করতে হবে—অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কোথা থেকে আসবে, নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন অবকাঠামোর খরচ কে বহন করবে, তথ্যকেন্দ্র ঠান্ডা রাখতে কত পানি লাগবে এবং সবশেষে বাংলাদেশ এই বিনিয়োগ থেকে কী ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে।
শুধু বড় অঙ্কের বিনিয়োগের ঘোষণা বা আকর্ষণীয় প্রযুক্তিগত শব্দ দিয়ে কোনো প্রকল্পের যৌক্তিকতা প্রমাণ করা যায় না। কয়েক বিলিয়ন ডলারের কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো প্রকল্প সামনে এলে বিনিয়োগকারীর অর্থায়নের সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং একই মাত্রার প্রকল্প বাস্তবায়নের পূর্ব অভিজ্ঞতা যাচাই করা জরুরি। রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো কিংবা ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির মতো আকর্ষণীয় শব্দ যেন প্রকল্প যাচাইয়ের বিকল্প না হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে একটি সমন্বিত ব্যবস্থা।
যেসব ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও আইনগত বাধা নেই, সেখানে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক বড় প্রযুক্তি অবকাঠামো ব্যবহার করার সুযোগ সহজ করতে হবে। সরকারকে একই সঙ্গে এমন নিয়ন্ত্রক পরিবেশ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে অবকাঠামো স্থাপনে আগ্রহী হয়।
অন্যদিকে জাতীয় নিরাপত্তা বা কৌশলগত স্বার্থের কারণে যেসব ব্যবস্থা দেশের ভেতরে নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, সেসবের জন্য আলাদা ও শক্তিশালী নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
অর্থাৎ বাংলাদেশের প্রয়োজন তথ্যকেন্দ্র, প্রয়োজন নিজস্ব কম্পিউটিং সক্ষমতাও। কিন্তু শুধু দেশের ভেতরে সার্ভার বসানোকে প্রযুক্তিগত স্বাধীনতার সমার্থক ভাবলে ভুল হবে।
আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত আরও বড়। বাংলাদেশের একজন প্রকৌশলী যেন অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বা আর্থিক বাধা ছাড়াই বিশ্বের উন্নত কম্পিউটিং সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন। একই সঙ্গে জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য যেন যথাযথ নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণের মধ্যে থাকে।
বাংলাদেশের সাফল্য শুধু কতগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তথ্যকেন্দ্র তৈরি হয়েছে, তা দিয়ে মাপা উচিত নয়। বরং দেখতে হবে দেশের গবেষক, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তারা কত সহজে উন্নত কম্পিউটিং শক্তি ব্যবহার করতে পারছেন, নতুন প্রযুক্তি তৈরি করতে পারছেন এবং বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারছেন।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন শুধু তথ্যকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা নয়; প্রয়োজন একটি সুস্পষ্ট ও বাস্তবসম্মত কম্পিউটিং কৌশল। সেই কৌশলে থাকবে বৈশ্বিক প্রযুক্তি অবকাঠামোর সুবিধা নেওয়ার সুযোগ, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নিজস্ব সক্ষমতা, শক্তিশালী তথ্য নিরাপত্তা, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ এবং বিনিয়োগ যাচাইয়ের কঠোর ব্যবস্থা।
তাহলেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে বাংলাদেশ শুধু অবকাঠামো থাকার দাবি করতে পারবে না, বরং সেই অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে বাস্তব প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও তৈরি করতে পারবে।

