মশার উপদ্রব ঠেকাতে মশারি বা কয়েলের পুরোনো পদ্ধতির বাইরে এবার হাজির হয়েছে এক চমকপ্রদ প্রযুক্তি—একটি স্বয়ংক্রিয় লেজারচালিত যন্ত্র, যা চোখের পলকে মশা শনাক্ত করে ধ্বংস করে দিতে সক্ষম বলে দাবি করছে এর নির্মাতারা। দেখতে অনেকটা ছোট আকারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো এই ডিভাইসটি ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে আগাম অর্ডার নেওয়া শুরু করেছে।
নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দাবি অনুযায়ী, এই যন্ত্র প্রতি সেকেন্ডে গড়ে ত্রিশটি পর্যন্ত মশা ধ্বংস করতে সক্ষম। এর কার্যপ্রণালি তৈরি হয়েছে মূলত স্বচালিত গাড়িতে ব্যবহৃত এক ধরনের স্ক্যানিং প্রযুক্তির ভিত্তিতে, যা আশপাশের পরিবেশ নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করে ছোট পোকামাকড়ের অবস্থান, দূরত্ব ও আকার নির্ণয় করতে পারে। উন্নত সংস্করণটি প্রায় ছয় মিটার দূর থেকেই মশা শনাক্ত করতে পারে বলে জানানো হয়েছে। কোনো পোকা শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই যন্ত্রের ভেতরের একটি বিশেষ আয়না অত্যন্ত দ্রুত ঘুরে গিয়ে লেজার রশ্মিকে সঠিক লক্ষ্যবস্তুর দিকে পরিচালিত করে এবং মুহূর্তেই তা নিষ্ক্রিয় করে দেয়।
প্রস্তুতকারকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় দুই থেকে বিশ মিলিমিটার আকারের এবং নির্দিষ্ট গতিতে চলাচলকারী যেকোনো ছোট উড়ন্ত পোকা এই যন্ত্রের লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, মশার পাশাপাশি জোনাকির মতো উপকারী পোকামাকড়ও ভুলবশত এর শিকার হতে পারে কিনা। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, যন্ত্রে আগে থেকে নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল না থাকলে লেজার সক্রিয় হবে না, অর্থাৎ নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করা পোকাই কেবল এর লক্ষ্যে পরিণত হবে।
বাজারে দুই ধরনের সংস্করণে পাওয়া যাচ্ছে এই ডিভাইস—একটিতে ব্যবহার করা হয়েছে দৃশ্যমান নীল রঙের লেজার, অন্যটিতে অদৃশ্য ইনফ্রারেড লেজার। দাম নির্ভর করছে সংস্করণ ও ব্যবহারের ধরনের ওপর; ঘরের বাইরে ব্যবহারযোগ্য ঘূর্ণায়মান বেজসহ সংস্করণটির দাম তুলনামূলক বেশি। তবে অদৃশ্য লেজার সংস্করণ নিয়ে সতর্কতা থেকে যাচ্ছে—কারও চোখ অসাবধানতাবশত সরাসরি এই রশ্মির সংস্পর্শে এলে রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জানা গেছে, চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই পণ্যের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সনদ ও স্বতন্ত্র পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান ছিল। এসব সনদ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে মশা নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে আরও ব্যাপক পরিসরে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্্ছে।

