বাংলাদেশে নাগরিকদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে এসব তথ্যই এখন অনলাইনে কেনাবেচার পণ্যে পরিণত হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য পেতে সময় লাগছে মাত্র ১৭ মিনিট। মোবাইল গ্রাহকের সর্বশেষ অবস্থান জানা যাচ্ছে ১৬ মিনিটের মধ্যে। এমনকি কয়েক মাসের কলের তথ্যও মিলছে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই।
তথ্য যাচাই ও অনুসন্ধানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিসমিসল্যাবের এক অনুসন্ধানে দেশের ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচার একটি বিস্তৃত বাজারের সন্ধান পাওয়া গেছে। ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিয়ে ক্রেতা সংগ্রহ, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ এবং টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের মাধ্যমে চলছে এই ব্যবসা। অর্থ লেনদেন হচ্ছে বিকাশ ও নগদের মতো মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে।
যেসব তথ্য বিক্রি হচ্ছে তার মধ্যে রয়েছে জাতীয় পরিচয়পত্র, কলের বিস্তারিত তথ্য, মোবাইলের সর্বশেষ অবস্থান, খুদে বার্তার তালিকা, পাসপোর্টের তথ্য, কর শনাক্তকরণ নম্বর, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের তথ্য, পুলিশি ছাড়পত্র এবং জমির উন্নয়ন করের রসিদ।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অনেক ক্ষেত্রে এসব তথ্য পেতে ক্রেতাকে শুধু একটি মোবাইল নম্বর বা জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর দিতে হচ্ছে। তথ্যের দামও আগে থেকেই নির্ধারিত বা জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
গত ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত এক মাসের অনুসন্ধানে ডিসমিসল্যাব ৬০০টির বেশি ফেসবুক পোস্ট শনাক্ত করেছে, যেখানে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি এমন ১০টি সক্রিয় ওয়েবসাইটের সন্ধান পাওয়া গেছে।
তিনজন বিক্রেতার কাছ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র, সাম্প্রতিক অবস্থান এবং কলের বিস্তারিত তথ্য কিনেও দেখেছে প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ পরিশোধ করা হয় বিকাশের মাধ্যমে। পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে দেখা হলে সেগুলো সঠিক বলে নিশ্চিত হওয়া যায়।
১৭ মিনিটেই মিলছে জাতীয় পরিচয়পত্র
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন খুঁজতে গিয়ে এই চক্রের সন্ধান পায় ডিসমিসল্যাব। ‘সাইন কপি’ শব্দ ব্যবহার করে করা অনুসন্ধানে ১৫ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত ৬৭৫টি ফেসবুক পোস্ট পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬০৫টি ছিল ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির বিজ্ঞাপন।
‘সাইন কপি’ নামে বিক্রি হওয়া নথিতে একজন নাগরিকের নাম, ছবি, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, শিক্ষাগত যোগ্যতা, বৈবাহিক অবস্থা, পেশা, ঠিকানা, ভোটার এলাকা, ধর্ম, শারীরিক শনাক্তকারী তথ্য এবং স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপসংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারে।
এ ছাড়া ‘সার্ভার কপি’ নামেও একটি নথি বিক্রি করা হচ্ছে, যাতে নির্বাচন কমিশনের প্রতীকসহ জাতীয় পরিচয়পত্রের বিস্তারিত তথ্য থাকে।
ফেসবুকের একটি বিজ্ঞাপনের সূত্র ধরে ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানকারীরা ‘ভোটার লিস্ট’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে পৌঁছান। সেখানে ‘শিবাত জুবায়ের’ নামে একটি হিসাব থেকে শুধু মোবাইল নম্বরের মাধ্যমে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দেওয়ার বিজ্ঞাপন দেওয়া হচ্ছিল।
পরীক্ষামূলকভাবে সম্মত একজন গ্রাহকের মোবাইল নম্বর দিয়ে ৫০০ টাকা অগ্রিম পাঠানো হয়। মাত্র ১৭ মিনিট পর বিক্রেতা জাতীয় পরিচয়পত্রের একটি পিডিএফ কপি পাঠিয়ে দেন।
পরে ওই ব্যক্তির প্রকৃত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে নাম, ছবি, জন্মতারিখসহ অন্যান্য তথ্য সঠিক পাওয়া যায়। এমনকি দুই মাস আগে সংশোধন করা মায়ের নামটিও নতুন তথ্য অনুযায়ী পাওয়া যায়। দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করেও একই ধরনের নির্ভুল তথ্য পাওয়া গেছে।
আরেক বিক্রেতা ‘হেল্প বিডি’ নামে জাতীয় পরিচয়পত্রের ‘সাইন কপি’ ও ‘সার্ভার কপি’র পাশাপাশি জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, মোবাইলের অবস্থান, কলের বিস্তারিত তথ্য, খুদে বার্তার তালিকা, মোবাইল যন্ত্রের শনাক্তকরণ নম্বর, কর শনাক্তকরণ সনদ, পাসপোর্টের কপি এবং জমির উন্নয়ন করের রসিদ দেওয়ার কথা বলেছে।
কলের তথ্যও মিলছে কয়েক ঘণ্টায়
এরপর একটি গ্রামীণফোন নম্বরের তিন মাসের কলের বিস্তারিত তথ্য চায় ডিসমিসল্যাব। ১ হাজার ৫০ টাকা দেওয়ার পর মাত্র আড়াই ঘণ্টার মধ্যে ফাইলটি সরবরাহ করা হয়।
ফাইলটিতে থাকা সর্বশেষ ২০টি যোগাযোগের নম্বর, কলের সময় এবং কলের ধরন গ্রাহকের প্রকৃত ফোন ব্যবহারের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। সব তথ্যই মিলে যায়।
কলের বিস্তারিত তথ্য থেকে একজন ব্যক্তি কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন, কখন যোগাযোগ করেছেন, কতক্ষণ কথা বলেছেন এবং কলটি আসা নাকি যাওয়ার—এসব জানা সম্ভব। এর সঙ্গে ব্যবহৃত মোবাইল যন্ত্র ও সিমের শনাক্তকরণ তথ্যও থাকতে পারে।
একটি কল বা খুদে বার্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল টাওয়ার বা নেটওয়ার্ক এলাকার তথ্যও থাকতে পারে। দীর্ঘ সময়ের এমন তথ্য বিশ্লেষণ করলে একজন মানুষের চলাফেরার ধরন সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া সম্ভব।
চাঁদপুরে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করেন এমন এক ব্যক্তি একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করছেন বলেও অনুসন্ধানে জানা গেছে। টাকা দেওয়ার পর ওই ওয়েবসাইট থেকে একটি গ্রামীণফোন নম্বরের সর্বশেষ সক্রিয় সময় এবং মোবাইল টাওয়ারের ভিত্তিতে অবস্থান মাত্র ১৬ মিনিটের মধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে। সঙ্গে দেওয়া হয়েছে ঠিকানা ও গুগল মানচিত্রের সংযোগ।
কয়েক ধাপে চলছে ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবসা
অনুসন্ধানে পরীক্ষা করা ফেসবুক পোস্টগুলোর মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রি বা সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত অন্তত ১১২টি আলাদা মোবাইল নম্বর পাওয়া গেছে। একটি গ্রামীণফোন নম্বরই ৭৫টি বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয়েছে। ১০টি ওয়েবসাইটে ১০টি আলাদা মোবাইল আর্থিক সেবা নম্বরও পাওয়া গেছে।
এ ধরনের বিজ্ঞাপন অন্তত ৩৬টি সক্রিয় ফেসবুক গোষ্ঠীতে নিয়মিত দেখা গেছে। এর মধ্যে সাতটি গোষ্ঠীতে পাঁচটির বেশি করে বিজ্ঞাপন ছিল। শুধু ওই সাতটি গোষ্ঠীতেই ১১৪টি প্রচারণামূলক পোস্ট পাওয়া গেছে।
তাও অনুসন্ধানটি করা হয়েছে একটি মাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং শুধু ‘সাইন কপি’ একটি শব্দ ব্যবহার করে। ফলে প্রকৃত বাজারটি এর চেয়ে অনেক বড় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অনুসন্ধানে ধারণা পাওয়া গেছে, কয়েকটি ধাপে এই ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিক্রেতারা ক্রেতা সংগ্রহ করেন। এরপর বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে চাহিদা অনুযায়ী তথ্য কেনা হয়। বিকাশ, নগদ, রকেট বা উপায়ের মতো সেবায় অর্থ পরিশোধের পর সেই তথ্য আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মাধ্যমে বেশি দামে বিক্রি করা হয়।
চাঁদপুরের ওই ওয়েবসাইট পরিচালনাকারী ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি ৮০০ টাকায় কলের তালিকা কিনে ৯০০ টাকায় বিক্রি করেন। ১ হাজার টাকায় বিকাশ হিসাব খোলার সময় ব্যবহৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য এবং ৪ হাজার ৫০০ টাকায় হিসাবের বিবরণী দেওয়ার দাবিও করেছেন তিনি।
তবে বিকাশের হিসাবের বিবরণী এভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি ডিসমিসল্যাব। অনুসন্ধান প্রকাশের পর বিকাশও এই দাবি নাকচ করেছে।
বিকাশের করপোরেট যোগাযোগ বিভাগের প্রধান শামসুদ্দীন হায়দার দালিম জানান, পরিচয় যাচাইয়ের পর শুধু গ্রাহককে হিসাবের বিবরণী দেওয়া হয়। তবে আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অনুমোদিত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা তা পেতে পারে।
তথ্য যাচ্ছে কোথা থেকে?
মোবাইল গ্রাহকের কলের বিস্তারিত তথ্য ও মৌলিক অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য মোবাইল অপারেটরদের কাছে সংরক্ষিত থাকে।
গ্রামীণফোন জানিয়েছে, গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষাকে তারা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় এবং আইন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা ও অনুমোদিত নিয়ম অনুসরণ করে কেবল অনুমোদিত ব্যক্তিদের কাছেই তথ্য সরবরাহ করা হয়।
রবি জানিয়েছে, কলের তথ্য, সিম নিবন্ধন ও অবস্থানসংক্রান্ত তথ্য কেবল আইন অনুযায়ী ক্ষমতাপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাকে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় দেওয়া হয়।
তবে একটি মোবাইল অপারেটরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিসমিসল্যাবকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন, জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ও পুলিশ সদর দপ্তরসহ ১০টির বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার অপারেটরের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার রয়েছে।
তার ভাষ্য, এই প্রবেশাধিকার থাকায় অনুমোদিত সংস্থাগুলো বিস্তারিত কলের তথ্য এবং সিম নিবন্ধনের জন্য ব্যবহৃত তথ্য দেখতে পারে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, কিছু তথ্য ফাঁসের উৎস খুঁজতে গিয়ে অপারেটরটি জানতে পারে, একটি সরকারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য বের করা হচ্ছিল। বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকেও একাধিকবার জানানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
ফাইবার অ্যাট হোমের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা সুমন আহমেদ সাবির বলেন, কোনো ব্যক্তির তাৎক্ষণিক অবস্থান বা এমন তথ্য পেতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার থাকতে হবে, অথবা কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতার সুযোগ নিতে হবে।
তার মতে, এ ধরনের তথ্যের বাজার থাকার অর্থ হলো কোথাও না কোথাও তথ্যভান্ডারে প্রবেশাধিকার থাকা ব্যক্তিরা জড়িত থাকতে পারেন, অথবা তথ্যের দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর অজানা কোনো নিরাপত্তা দুর্বলতা কাজে লাগানো হচ্ছে।
অভিযোগ ও সতর্কতার পরও বন্ধ হয়নি বেচাকেনা
ডিসমিসল্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অন্তত ২০২৩ সাল থেকেই প্রকাশ্যে ব্যক্তিগত তথ্য কেনাবেচার এই কার্যক্রম চলছে। ২০২৫ সালের মার্চে ইউটিউবে একই ধরনের সেবা বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া একটি ভিডিওও পাওয়া গেছে।
একটি মোবাইল অপারেটর জানিয়েছে, ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির প্রমাণসহ তারা আগে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিল। কিন্তু এরপরও এই কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কর্নেল মো. কামরুল হাসান মামুন জানিয়েছেন, প্রায় দুই মাস আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করেছিল। কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দেয়। পরে মন্ত্রণালয় তা নিয়ন্ত্রণ কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়।
কিছু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন মামুন।
এর আগে ২০২৪ সালের এপ্রিলেও নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও কলের তথ্য বিক্রির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছিল জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।
ডিসমিসল্যাবের উদ্ধৃত একটি সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই চিঠিতে ৭৮৯টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গোষ্ঠীতে এমন তথ্য বিক্রির কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। তদন্তে সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট ও র্যাব-৬-এর কর্মকর্তাদের ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড দিয়ে তথ্য প্রবেশের অভিযোগও উঠে আসে। এক সাইবার অপরাধবিষয়ক কনস্টেবল অর্থের বিনিময়ে সংবেদনশীল কলের তথ্য বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তথ্য ফাঁস হলে কী ধরনের বিপদ হতে পারে?
ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি শুধু গোপনীয়তা নষ্ট হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ থাকায় এর অপব্যবহার আরও বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।
সুমন আহমেদ সাবিরের মতে, কারও পূর্ণাঙ্গ জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য হাতে পেলে অন্যের পরিচয়ে ভুয়া হিসাব খোলা বা তার নামে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন করার চেষ্টা হতে পারে।
জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের সঙ্গে কলের বিস্তারিত তথ্য, অবস্থান বা আর্থিক তথ্য যুক্ত হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। একজন মানুষ কোথায় কোথায় চলাফেরা করেন, কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন কিংবা কোন সময়ে কোথায় ছিলেন—এসব বিষয়ও তখন সহজেই বিশ্লেষণ করা সম্ভব।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইলেকট্রনিক প্রাইভেসি ইনফরমেশন সেন্টারও বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ ও বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানের হাতে ব্যক্তিগত তথ্য থাকার কারণে নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি, অভিবাসী ও সরকারি কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের ঝুঁকি বাড়ার বিষয়টি তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের ২০২৬ সালের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইনে বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত তথ্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে প্রকাশ করা যাবে না। কারও অধিকার লঙ্ঘিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করার সুযোগও রাখা হয়েছে।
তথ্য সুরক্ষা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য আইনে প্রশাসনিক জরিমানার বিধান রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে এই জরিমানার পরিমাণ সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

