চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রযুক্তি নকল করছে বলে অভিযোগ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার মার্কিন আইন প্রয়োগকারী ও গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এ অভিযোগ করেন। চলতি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দুই প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য বৈঠকের প্রস্তুতির মধ্যেই এমন অভিযোগ নতুন করে দুই দেশের সম্পর্ককে জটিল করে তুলতে পারে। সূত্র: রয়টার্স
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো ‘পাতন’ নামের একটি কৌশল ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গবেষণাগারের মেধাস্বত্ব থেকে সুবিধা নিচ্ছে।
এই পদ্ধতিতে বড় ও ব্যয়বহুল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের তৈরি ফলাফল ব্যবহার করে অপেক্ষাকৃত ছোট মডেলকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর ফলে নতুন মডেল তৈরির ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ব্যয় কমানো এবং দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব হয়।
মার্কিন কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন, চীনের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পণ্য দ্রুত প্রশিক্ষিত করতে বিভিন্ন মার্কিন মডেলের ফলাফল ব্যবহার করেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগের তালিকায় ডিপসিক, মুনশট এআই ও আলিবাবাসহ মোট ছয়টি চীনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
তাদের বিরুদ্ধে অ্যানথ্রোপিক, ওপেনএআই এবং অ্যালফাবেটের গুগলের মতো মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলকে লক্ষ্য করে তথ্য সংগ্রহ ও প্রযুক্তিগত সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব কর্মকাণ্ড ‘সম্ভবত চীনা সরকারের জ্ঞাতসারেই’ পরিচালিত হয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, চীনে অবস্থিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানগুলো শিল্প পর্যায়ে ‘আগ্রাসী, বিদ্বেষপূর্ণ ও লক্ষ্যবস্তুভিত্তিক’ তথ্য সংগ্রহের কর্মকাণ্ডে যুক্ত।
মার্কিন সরকারের মঙ্গলবারের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, কথিত ‘পাতন’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু গবেষণা ও উন্নয়ন ব্যয় কমাচ্ছে না। এর মাধ্যমে চীনের সামরিক ও সাইবার হামলার সক্ষমতাও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, এই সক্ষমতা ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা সম্ভব।
এর আগে গত ৩১ জুলাই রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, চীনের সামরিক গবেষকেরা দেশটির নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষিত করতে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলের তৈরি ফলাফল ব্যবহার করেছেন। এর মাধ্যমে চীনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন যখন সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই ওয়াশিংটন চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তুলল।
এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে একটি সংলাপ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। ফলে প্রযুক্তি চুরি ও মেধাস্বত্ব লঙ্ঘনের নতুন অভিযোগ দুই দেশের আলোচনায় বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
‘পাতন’ পদ্ধতি ব্যবহারের অভিযোগের বিষয়ে মন্তব্য জানতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে এ ধরনের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্র আগেও তুলেছে। ট্রাম্পের সম্ভাব্য বেইজিং সফরের আগে গত এপ্রিলেও চীনের বিরুদ্ধে শিল্প পর্যায়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি চুরির অভিযোগ এনেছিল ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবারের অভিযোগ তাই নতুন হলেও যুক্তরাষ্ট্র-চীন প্রযুক্তি প্রতিযোগিতায় এটি দীর্ঘদিনের বিরোধেরই আরেকটি প্রকাশ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ, মেধাস্বত্ব এবং সামরিক ব্যবহারের সক্ষমতা—সব মিলিয়ে এই খাত দুই দেশের কৌশলগত প্রতিযোগিতার গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

