প্রযুক্তি বিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন অ্যাপলের নতুন আইফোন ১৮ প্রো সিরিজ। উন্নত ক্যামেরা প্রযুক্তি, নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী প্রসেসর, দীর্ঘস্থায়ী ব্যাটারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সুবিধা নিয়ে বাজারে এসেছে আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স।
অ্যাপল ৯ সেপ্টেম্বর নতুন ডিভাইসগুলো উন্মোচন করে। এরপর ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয় প্রি-অর্ডার এবং ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন বাজারে ফোন দুটি বিক্রি শুরু হয়েছে।
নতুন এই সিরিজে অ্যাপল সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, দ্রুত কর্মক্ষমতা এবং এআই সুবিধার ওপর। বিশেষ করে নতুন ক্যামেরা ব্যবস্থা ও এ২০ প্রো চিপকে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
বাংলাদেশের অ্যাপল ব্যবহারকারীদের মধ্যেও নতুন আইফোন নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দেশের বাজারে ফোন দুটি আমদানিকারক ও অনানুষ্ঠানিক বিক্রয় চ্যানেলের মাধ্যমে পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের মোবাইল বাজারে আইফোন ১৮ প্রো-এর সম্ভাব্য দাম প্রায় ২ লাখ থেকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে বলে বিভিন্ন তালিকায় দেখা যাচ্ছে। তবে স্টোরেজ ক্ষমতা, আমদানি পদ্ধতি, কর এবং বিক্রেতার মুনাফার ওপর ভিত্তি করে দাম পরিবর্তিত হতে পারে। অ্যাপলের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জন্য কোনো আনুষ্ঠানিক মূল্য ঘোষণা করা হয়নি।
আইফোন ১৮ প্রো সিরিজের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে ক্যামেরায়। নতুন ৪৮ মেগাপিক্সেলের ফিউশন প্রধান ক্যামেরায় প্রথমবারের মতো পরিবর্তনশীল অ্যাপারচার প্রযুক্তি যুক্ত করেছে অ্যাপল।
এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্যামেরার লেন্সে প্রবেশ করা আলোর পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অ্যাপারচার f/1.48, f/1.8, f/2.8 এবং f/4.0-এর মধ্যে পরিবর্তন করা সম্ভব। ফলে কম আলো, উজ্জ্বল পরিবেশ কিংবা ভিন্ন দূরত্বের বিষয়বস্তু ধারণে ব্যবহারকারীরা আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ পাবেন।
নতুন প্রো কন্ট্রোল সুবিধার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজের মতো করে অ্যাপারচার, শাটার স্পিড এবং সাদা রঙের ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
ফোন দুটিতে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রা ওয়াইড ক্যামেরা এবং ৪৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা। টেলিফটো ক্যামেরায় পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ৮ গুণ অপটিক্যাল মানের জুম সুবিধা।
সাংবাদিক, ভিডিও নির্মাতা এবং মোবাইল ফটোগ্রাফারদের জন্য এই ক্যামেরা ব্যবস্থা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ পরিবর্তনশীল আলো ও বিভিন্ন দূরত্বের দৃশ্য ধারণে এটি আগের তুলনায় বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।
আইফোন ১৮ প্রো ও আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ব্যবহার করা হয়েছে অ্যাপলের নতুন এ২০ প্রো চিপ। উন্নত কর্মক্ষমতার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ভারী কাজ করার জন্য এতে নতুন ধরনের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
অ্যাপলের দাবি, নতুন প্রো মডেলগুলো এখন পর্যন্ত তাদের সবচেয়ে বেশি সময় ধরে উচ্চ কার্যক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম। বিশেষ করে আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে প্রো সিরিজের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যাটারি উন্নয়ন আনা হয়েছে।
ভিডিও সম্পাদনা, উচ্চমানের গেমিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক কাজ এবং পেশাদার মানের ভিডিও তৈরির ক্ষেত্রে নতুন প্রসেসর বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে অ্যাপল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার আরও বাড়িয়েছে। ফোনগুলো আইওএস ২৭ অপারেটিং সিস্টেমে চলবে এবং এতে নতুন অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স সুবিধা যুক্ত হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে উন্নত সিরি এআই সুবিধা, যা ব্যবহারকারীর নির্দেশ বুঝতে এবং বিভিন্ন কাজ আরও সহজ করতে সহায়তা করবে।
এছাড়া নতুন সিরিজে আগের তুলনায় ছোট ডায়নামিক আইল্যান্ড দেওয়া হয়েছে। ফোনগুলো চারটি রঙে পাওয়া যাচ্ছে—কালো, সিলভার, গ্লেসিয়ার এবং নতুন বারগান্ডি।
বারগান্ডি রঙটি এর আলাদা নকশার কারণে ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করেছে। অন্যদিকে কালো রঙ বরাবরের মতোই সাধারণ ও মার্জিত ডিজাইন পছন্দ করা ব্যবহারকারীদের কাছে জনপ্রিয় হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আইফোন ১৮ প্রো-এর দাম শুরু হয়েছে ১ হাজার ১৯৯ ডলার থেকে। আর আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের প্রাথমিক দাম ১ হাজার ২৯৯ ডলার।
নতুন সিরিজে সর্বোচ্চ ২ টেরাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে যারা বেশি ভিডিও ধারণ করেন বা বড় আকারের ফাইল সংরক্ষণ করেন, তাদের জন্য এটি আকর্ষণীয় হতে পারে।
ডিসপ্লের ক্ষেত্রেও রয়েছে উন্নয়ন। আইফোন ১৮ প্রো মডেলে রয়েছে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চি এবং আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সে ৬ দশমিক ৯ ইঞ্চি প্রোমোশন ডিসপ্লে, যেখানে সর্বোচ্চ ১২০ হার্টজ রিফ্রেশ রেট পাওয়া যাবে।
অ্যাপল নতুন আইফোনে ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রেও উন্নতি এনেছে। ফোনগুলোতে রয়েছে পেশাদার ভিডিও সুবিধা, যার মধ্যে রয়েছে ৪কে ডলবি ভিশন এবং প্রোরেস ভিডিও রেকর্ডিং।
ব্যবহারকারীরা আইফোন থেকেই উচ্চমানের ভিডিও তৈরি করতে পারবেন, যা বিশেষ করে কনটেন্ট নির্মাতা, সাংবাদিক এবং চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্য বাড়তি সুবিধা দিতে পারে।
ব্যাটারি সক্ষমতার দিক থেকেও নতুন সিরিজ এগিয়ে রয়েছে। আইফোন ১৮ প্রো মডেলে সর্বোচ্চ ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও চালানোর সুবিধা এবং প্রো ম্যাক্স মডেলে সর্বোচ্চ ৪৫ ঘণ্টা পর্যন্ত ভিডিও প্লেব্যাকের দাবি করেছে অ্যাপল।
সব মিলিয়ে আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে অ্যাপল ক্যামেরা, প্রসেসিং ক্ষমতা, ব্যাটারি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরেছে। স্মার্টফোন বাজারে প্রতিযোগিতা যখন দিন দিন বাড়ছে, তখন নতুন এই সিরিজের মাধ্যমে অ্যাপল তাদের প্রিমিয়াম ফোনের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।

