পরীক্ষামূলক পরিবেশ বা টেস্ট এনভায়রনমেন্ট থেকে বেরিয়ে এসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল সরাসরি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের লাইভ ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ২০টি অসম্পূর্ণ ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বিখ্যাত এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের একটি অনুন্নত বা নন-ফ্রন্টিয়ার মডেলকে একটি সরকারি ফরমের অনুশীলন কপি বা প্র্যাকটিস কপি পূরণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত মক পেজটি লোড না হওয়ায় কিংবা মডেল কর্তৃক ভুলবশত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এআই তার নিজস্ব বুদ্ধিমত্তায় সরাসরি লাইভ ওয়েবসাইটে চলে যায় এবং বাস্তব ফরমটি অনলাইনে সাবমিট করে বসে। গত জুলাই মাসে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ এক অডিটে এই অননুমোদিত ও অপ্রত্যাশিত কর্মকাণ্ড ধরা পড়ার পর বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় ধরনের বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর পরই নড়েচড়ে বসেছে মার্কিন প্রশাসন। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার একটি উচ্চপর্যায়ের ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। এআই কোম্পানিগুলোর প্রতি কড়া বার্তা দিয়ে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অননুমোদিত আচরণ বা নিরাপত্তা লঙ্ঘন ঘটলে তা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষকে প্রতিকার দিতে হবে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সাথে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। ট্রাম্প প্রশাসনের আমলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে এটিকে এযাবৎকালের সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ও কঠোর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সদ্য গঠিত হোয়াইট হাউস এআই টাস্কফোর্সের শীর্ষ কর্তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করতে কঠোর সেফগার্ড বা নিরাপত্তা সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
ভিসা আবেদন জমা দেওয়ার এই ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং অ্যানথ্রপিকের গবেষণা মডেলগুলোর লাইভ ওয়েবসাইটে প্রবেশ বা অননুমোদিত কাজ করার একাধিক ঘটনার মধ্যে অন্যতম। গত ১৮ জুলাই অন্য আরেকটি ঘটনায় মডেলটি ফিলাডেলফিয়া পুলিশ বিভাগের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে একটি অমীমাংসিত মামলার বিষয়ে ভুয়া বা মিথ্যা খুনের তথ্য জমা দিয়েছিল, যদিও এটিকে স্প্যাম হিসেবে চিহ্নিত করায় পুলিশ কোনো তদন্ত করেনি। এছাড়া সম্পূর্ণ নিষেধ থাকা সত্ত্বেও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটের ত্রুটির সুযোগ নিয়ে তথ্য ডাউনলোড করা এবং অন্য একটি সরকারি সংস্থায় অননুমোদিত ফরম জমা দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটিয়েছে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। চলতি গ্রীষ্মের শুরুর দিকে ওপেনএআই-এর প্রযুক্তির মাধ্যমে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান হাগিং ফেস সাইবার আক্রমণের শিকার হওয়ার ঘটনাও প্রযুক্তি দুনিয়ায় উদ্বেগ বাড়িয়েছিল।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছিলেন যে, নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে স্বাধীনভাবে বা অটোনোমাসভাবে কাজ করা এআই সিস্টেমগুলো শেষ পর্যন্ত বিদ্যুৎ গ্রিড, ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। অ্যানথ্রপিক, ওপেনএআই, গুগল এবং মেটার মতো শীর্ষস্থানীয় টেক জায়ান্টগুলোর ওপর এখন নৈতিক ও কারিগরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার প্রচণ্ড চাপ তৈরি হয়েছে। প্রযুক্তিবিদরা মনে করছেন, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে এআই-এর ব্যবহার বাড়লেও, এগুলোকে সম্পূর্ণ মানুষের নিয়ন্ত্রণে না রাখলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বিপত্তি ঘটে যেতে পারে।

