Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice সোম, এপ্রিল 27, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » চীনা প্রাচীন কৌশলে গরমকালে বাড়ি ঠান্ডা রাখার উপায়
    প্রযুক্তি

    চীনা প্রাচীন কৌশলে গরমকালে বাড়ি ঠান্ডা রাখার উপায়

    এফ. আর. ইমরাননভেম্বর 30, 2024
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    স্থপতিরা পুরনো বাড়ির উঠোনগুলোর অনুকরণে আধুনিক ভবনগুলো শীতল করার কৌশল রপ্ত করছে।
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    রু লিং চীনের পুরানো বাড়িগুলোর ভিতরে থাকা ফাঁকা জায়গা বা উঠানে সময় কাটাতে পছন্দ করেন। তার জন্য, এই জায়গাগুলো গরম এবং আর্দ্র দিনের জন্য উপযুক্ত।

    “এই স্থানগুলোয় প্রচুর বাতাস চলাচল করে, জায়গাটি শীতল এবং ছায়া দেয়,” বলেছেন ৪০ বছর বয়সী রু লিং৷

    চীনের পূর্বাঞ্চলে আনহুই প্রদেশের গুয়ানলু গ্রামে ২০১৪ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর রু প্রায় শত বছরের পুরনো একটি প্রাচীন কাঠের বাড়িতে থাকতেন।

    শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ভবনে বহু বছর বসবাস ও কাজ করার পর তিনি তার জীবন পরিবর্তন করতে এই বাড়িতে চলে আসেন।

    “গ্রীষ্মে আমার এই বাড়িতে প্রাকৃতিকভাবে শীতলতার অনুভূতি পাওয়া যায়। যা খুব সতেজ করে দেয়। এই অনুভূতি আধুনিক বিশ্বে খুঁজে পাওয়া কঠিন,” তিনি বলেন।

    “এই বাড়িটিতে ধ্যান করার মতো আরামদায়ক পরিবেশও আছে।”

    রু বলেছেন, এই বাড়ির ভেতরে যে আঙিনা বা উঠোন রয়েছে সেটা এই শীতল প্রভাব তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

    গরম আবহাওয়ায় বাড়ির উঠোনের সুবিধাগুলো শুধু তিনিই উপভোগ করছেন না।

    গবেষণায় দেখা গেছে যে দক্ষিণ চীনের কিছু বাড়ির উঠোনের ভিতরের তাপমাত্রা বাইরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম, চার দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম।

    আজ, চীন দ্রুত নগরায়নের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এখন যেসব বাড়িগুলোয় ভেতরে এমন ফাঁকা জায়গা বা উঠোন রয়েছে সেখানে অনেক কম লোক বাস করে।

    এখন বহুতল ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্ট এবং অ্যাপার্টমেন্ট ব্লকগুলো আবাসনের প্রধান রূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তবে ঐতিহ্যবাহী চীনা স্থাপত্যের প্রতি নতুন করে আগ্রহ জাগার ফলে কিছু ঐতিহাসিক ভবনের ভেতরের আঙিনা আধুনিক সময়ের জন্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে।

    সরকার নির্মাণ খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোকে উৎসাহিত করায় এখনকার স্থপতিরা নতুন নির্মিত ভবনগুলো শীতল রাখতে এমন খোলা জায়গা রাখার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী চীনা স্থাপত্যের অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর দিতে শুরু করেছে।

    ভেতরের ফাঁকা জায়গা তাপীয় ঢাল হিসাবে কাজ করে, যা বাসিন্দাদের বাইরের গরম বাতাস থেকে রক্ষা করে।

    ভেতরের ফাঁকা জায়গা তাপীয় ঢাল হিসাবে কাজ করে, যা বাসিন্দাদের বাইরের গরম বাতাস থেকে রক্ষা করে।

    তাপের জন্য “ফায়ারপ্লেস”

    বাড়ির ভেতরের আঙিনা- যাকে ম্যান্ডারিন ভাষায় তিয়ান জং বলা হয়, এটি দক্ষিণ এবং পূর্ব চীনের ঐতিহ্যবাহী বাড়িগুলোর একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য।

    তবে তিয়ান জং দেশটির উত্তরের বাড়িগুলোয় থাকা সাধারণ খোলা আঙিনা বা ইউয়ান জি থেকে আলাদা।

    কারণ ইউয়ান জি বাড়ির বাইরে আলাদা খোলা পরিবেশে যা আরও বড় এবং আরও বেশি উন্মুক্ত হয়ে থাকে।

    মিং (১৩৬৮-১৬৪৪) এবং কিং (১৬৪৪-১৯১১) রাজবংশের আমলে নির্মিত স্থাপনাগুলোয় বাড়ির ভেতরের আঙ্গিনা রাখা একটা সাধারণ বিষয় ছিল।

    মূলত পরিবারের কয়েক প্রজন্ম ধরে এই আঙিনা ডিজাইন করা হয়েছে।

    ২০১০ সালে চীনের নানচাং বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালে প্রকাশিত এক নথি থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

    বাড়ির ভেতরের এসব উঠোনের আকার এবং নকশা একেক অঞ্চল ভেদে পরিবর্তিত হয়।

    তবে এই খালি জায়গাটি প্রায় সবসময় আয়তকার হয়ে থাকে এবং এর অবস্থান থাকে বাড়ির কেন্দ্রে।

    উঠোনের চারদিক বা তিনদিক কক্ষ ও প্রাচীর দ্বারা বেষ্টিত থাকে। কিছু বড় বড় বাড়িতে একাধিক উঠোন থাকে।

    সিচুয়ান, জিয়াংসু, আনহুই এবং জিয়াংজি প্রদেশের মতো দক্ষিণ ও পূর্ব চীনের বেশিরভাগ অঞ্চলের ঐতিহাসিক বাড়িগুলোয় ভিতরে উঠোন থাকা তুলনামূলকভাবে সাধারণ বিষয়।

    মধ্য-পূর্ব চীনে গুয়াংদং প্রদেশের ঐতিহাসিক শহর হুইঝোতে কিছু সেরা-সংরক্ষিত উঠোন পাওয়া গিয়েছে, যা বর্তমান আনহুই এবং জিয়াংসি প্রদেশের মধ্যে বিস্তৃত হয়েছে।

    শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র আবিষ্কারের অনেক আগে ভবনকে শীতল রাখতে জন্য অভ্যন্তরীণ আঙ্গিনাগুলো ডিজাইন করা হতো।

    বাড়ির অভ্যন্তরে গরম বাতাস ওপরে উঠে ছাদের ফাঁকা দিয়ে বেরিয়ে যায়, যা একটি চিমনি হিসাবে কাজ করে।

    বাড়ির অভ্যন্তরে গরম বাতাস ওপরে উঠে ছাদের ফাঁকা দিয়ে বেরিয়ে যায়, যা একটি চিমনি হিসাবে কাজ করে।

    যখন একটি বাড়ির উঠোনের উপর দিয়ে বাতাস প্রবাহিত হয়, তখন এই খালি জায়গার মাধ্যমে বাতাস সারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।

    যেহেতু বাইরের বাতাস সাধারণত ভিতরের বাতাসের চেয়ে ঠান্ডা থাকে, তাই বাইরের ঠান্ডা বাতাস দেয়ালের মধ্য দিয়ে প্রতিটি তলায় চলে যায়।

    যার ফলে ভিতরের উষ্ণ বাতাসকে সরিয়ে দিয়ে বাড়ির ভেতরে ঠান্ডা বাতাসের প্রবাহ তৈরি হয়।

    তখন ভেতরের গরম বাতাস ঘরের ওপরের দিকে উঠে ফাঁকা জায়গা দিয়ে বেরিয়ে যায়।

    ইউ ইউহং এর বয়স ৫৫ বছর। ৩০ বছর ধরে- তিনি প্রাচীন হুইঝো অঞ্চলের একটি অংশ জিয়াংসি প্রদেশের উয়ুয়ান জেলায় থাকা প্রাচীন উঠোনওয়ালা বাড়িগুলি পুনরুদ্ধার করছেন।

    যে বাড়িগুলো চীনের সংস্কৃতি ও পর্যটন মন্ত্রণালয় দ্বারা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী হিসাবে স্বীকৃত।

    তার চীনা বাড়ির ভেতরের এই খালি জায়গা সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান রয়েছে।

    ইউ ব্যাখ্যা করেন যে ভেতরের আঙিনার প্রধান কাজগুলো হল ঘরের ভেতরে পর্যাপ্ত আলো প্রবেশ করতে দেওয়া, বায়ুচলাচল উন্নত করা এবং বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করা।

    হুইঝোতে থাকা পুরনো বাড়িগুলোর ভিতরের উঠোন আকারে ছোট এবং উঁচু।

    আশেপাশের কক্ষগুলো গরমের দিনে সূর্যালোককে আটকাতে পারে, যার ফলে উঠোনের নিচের অংশটি ঠান্ডা থাকে।

    ইতোমধ্যে, ঘরের ভেতর থেকে গরম বাতাস ওপর দিকে উঠে ফাঁকা জায়গা দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারে যা অনেকটা “চিমনির মতো কাজ করে।”

    ইউ এর মতে “হুইঝো শহরের পুরানো বাড়িগুলোর নিচতলায় সাধারণত উঁচু সিলিং থাকে এবং ছাদের অংশটুকু ফাঁকা থাকে। এই খোলা অংশটি সরাসরি ভিতরের উঠোনের বরাবর হয়, যা বায়ুচলাচলের জন্য উপযোগী”।

    তিনি বলেন, “কিছু ধনী পরিবারের দুটি এমনকি তিনটি উঠোন ছিল, যার কারণে সেখানকার ভালো বায়ুচলাচল আরও উন্নত ছিল।”

    উঠোন

    রেনেসাঁ

    ভেতরের আঙ্গিনাসহ ভবনগুলো চীনে কয়েকশ বছর ধরে টিকে রয়েছে। কিন্তু যারা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা পছন্দ করেন তাদের অনেকেই পুরনো বাড়ির সুবিধার কথা ভুলতে বসেছিল।

    তবে গত দুই দশক ধরে চীনের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতিকে ধরে রাখার লক্ষ্যে প্রাচীন স্থাপত্যগুলো সংরক্ষণ শুরু হলে, বাড়ির আঙিনায় এই উঠোন রাখার গুরুত্ব আবার আলোচনায় ফিরে আসে।

    ইউ যেখানে থাকেন সেটি পুনরুদ্ধার করা বাড়িগুলির মধ্যে একটি। যেটি উয়ুয়ান কাউন্টির ইয়ান গ্রামে অবস্থিত।

    বাড়িটি ৩০০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল এবং ২০১৫ সাল পর্যন্ত পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।

    পরে একজন প্রাক্তন মার্কেটিং ডিরেক্টর বা বিপণন পরিচালক ব্রিটিশ এডওয়ার্ড গাওন এবং তার চীনা স্ত্রী লিয়াও মিনক্সিন বাড়িটি কিনে নেন।

    ইউ-এর সাহায্যে, এই দম্পতি তিনতলা বাড়িটিকে একটি ১৪টি কক্ষের বুটিক হোটেলে রূপান্তরিত করেন।

    গাওন এবং লিয়াও সমস্ত অ্যাপার্টমেন্টে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বসান। তবে ভেতরের উঠোর চারপাশের কমন স্পেসটি তাদের আসল অবস্থায় রেখেছেন। সেখানে কোনো বেষ্টনী দেননি এবং প্রাকৃতিক বায়ু প্রবাহ ঠিক রেখেছেন।

    গাওন বলেছেন যে, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই, ভেতরের এই উঠোন গ্রীষ্মে খুব আরামদায়ক থাকে। “প্রত্যেকে খেয়াল করেছে যে যখন তারা বাড়িতে প্রবেশ করে তখন তারা স্বাভাবিকভাবে বেশ সতেজ অনুভব করেন,” তিনি বলেছেন।

    উঠোন

    ইউ আশা করেন স্থাপত্যের অংশ হিসাবে বাড়ির ভেতরে এমন উঠোন রাখা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে “ক্রমেই জনপ্রিয়” হয়ে উঠবে।

    বাড়িতে বায়ু চলাচল এবং পর্যাপ্ত আলো প্রবেশসহ নানা কার্যকারিতার কারণেই এই স্থাপত্য কৌশল জনপ্রিয়তা পেয়েছে।

    সেইসাথে নতুন কিছু নির্মাণের ক্ষেত্রে আজকাল ‘টেকসই’ হওয়াটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেক্ষেত্রে এই স্থাপত্য কৌশল বেশ কার্যকর।

    এমনকি প্রাকৃতিক বাতাস যদি তেমন নাও থাকে তখনও “চিমনি প্রভাব” এর কারণে বাড়ির ভিতরের আঙিনায় বায়ু সঞ্চালন ঘটে।

    এই খালি জায়গার উপরের এবং নিচের তাপমাত্রার পার্থক্যের কারণে উঠোনের ভিতরের গরম বাতাস উপরে উঠে বেরিয়ে যায়, ঠান্ডা বাতাস নিচে নামিয়ে ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দেয়।

    চীনের আরও দক্ষিণে অবস্থিত ঐতিহাসিক শহর লিংনান এর ঐতিহ্যবাহী বাড়িগুলোয় উঠোনগুলো ছোট এবং গভীর হয়ে থাকে।

    চীনের গুয়াংসি, ক্যান্টন এবং হাইনান প্রদেশের পাশাপাশি বর্তমানে উত্তর ও মধ্য ভিয়েতনামেও এমনটা দেখা যায়।

    এর কারণ ওইসব এলাকায় গ্রীষ্মকাল বেশ লম্বা সময় ধরে থাকে এবং বেশ গরম পড়ে।

    বাড়ির অভ্যন্তরে গরম বাতাস ওপরে উঠে ছাদের ফাঁকা দিয়ে বেরিয়ে যায়, যা একটি চিমনি হিসাবে কাজ করে।

    কিছু উঠোনে জলের টব রয়েছে যা বাড়িকে শীতল রাখতে সহায়তা করে।

    পানির প্রভাব

    বাড়ির ভেতরের আর বাইরের পরিবেশের মধ্যে বাতাস স্থানান্তর স্থান হিসাবে কাজ করে এই উঠোন।

    বাইরের গরম বাতাস থেকে বাসিন্দাদের রক্ষা করার জন্য এই উঠোন একটি দক্ষ থারমাল প্রটেক্টর বা তাপ রক্ষাকারী হিসাবে কাজ করে।

    কিন্তু এই উঠোনে শীতল প্রভাবের তখনই ঘটে যখন সেখানে কোনো জলাশয় থাকে।

    পানি বাষ্পীভূত হওয়ার সাথে সাথে এটি গরম বাতাসকে শীতল করে। এটি বাষ্পীভূত শীতল প্রক্রিয়া হিসাবে পরিচিত এবং হুইঝো-এর অভ্যন্তরীণ আঙ্গিনায় এই প্রক্রিয়া স্পষ্টভাবে দেখা গিয়েছে।

    অতীতে হুইঝো শহরে থাকা পরিবারগুলো তাদের উঠোনে বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করত কারণ তারা বিশ্বাস করত যে এই পানি সংগ্রহের ফলে তাদের সম্পদ রক্ষা পাবে এবং সম্পদ বাড়বে।

    এই কারণে ছাদ থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য ভেতরের উঠোনগুলোর চারপাশে চ্যানেল রাখা হতো।

    ইউ ব্যাখ্যা করে যে, কিছু ধনী পরিবার তাদের আঙ্গিনার মাটি খনন করে এমন নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্থাপন করেছিল যাতে বৃষ্টির পানি ভূগর্ভস্থ প্রবেশদ্বারকে ঘিরে ফেলার পরই বেরিয়ে যেতে পারে।

    হুইঝো শহরের বাড়িগুলোয় ভেতরের উঠোনের মাঝখানে একটি বড় পাথরের বেসিন রয়েছে যা প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য পানি সঞ্চয় করে এবং আগুন ধরলে এই পানি দিয়ে যেন নেভানো যায়।

    হুইঝু-এর দুটি ঐতিহ্যবাহী গ্রামে আঙিনা থাকা বাড়িগুলো নিয়ে ২০২১ সালে একটি সমীক্ষা হয়। সেখান থেকে জানা যায়, বাষ্পীভবন শীতল প্রক্রিয়ার ফলে ঘরের আঙ্গিনার গড় তাপমাত্রা বাইরের গড় তাপমাত্রার চাইতে দুই দশমিক ছয় ডিগ্রি থেকে চার দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যায়।

    আধুনিক একটি ভবন

    সবুজ প্রযুক্তি

    বর্তমানে- আধুনিক ভবনগুলোয় খালি জায়গা ফিরে আসার ক্ষেত্রে সরকারি বিধি-বিধানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

    ২০১৩ সাল থেকে- চীনের কেন্দ্রীয় সরকার সবুজ ভবন নির্মাণে উৎসাহ দিয়ে আসছে। যা সম্পদ সংরক্ষণ করছে এবং মানুষের নিয়মিত জীবনে দূষণের মাত্রা কমে আসছে।

    ২০১৯ সালের একটি সরকারি নির্দেশনায় ২০২২ সালের মধ্যে ৭০ শতাংশ ভবনে খোলা জায়গা রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে যেন তারা “সবুজ” মান অর্জন করতে পারে।

    এই সবুজ মান অর্জনের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড রয়েছে যেমন তাপ নিয়ন্ত্রণের গুণমান এবং নির্মাণ সামগ্রীর পরিবেশগত মান রক্ষা করা।

    স্থপতিরা এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে নতুন ভবন ডিজাইন করছে এবং সেখানে খালি জায়গা রাখার সুবিধাগুলো পরীক্ষা করছেন।

    পূর্ব চীনের জিনান শহরের ন্যাশনাল হেভি ভেহিকল ইঞ্জিনিয়ারিং টেকনোলজি রিসার্চ সেন্টার এর একটি উদাহরণ।

    ১৮-তলাসম্পন্ন, কাঁচের দেওয়ালে তৈরি এই টাওয়ারটির কাজ ২০২২ সালে শেষ হয়েছিল।

    এই ভবনের মাঝখানে একটি বিশাল খালি জায়গা রয়েছে যা পঞ্চম তলা থেকে একদম মাথা পর্যন্ত বিস্তৃত।

    সাংহাই-ভিত্তিক সিসিডিআই গ্রুপের স্থপতিদের মতে, সমস্ত লিফট, টয়লেট এবং মিটিং রুম এই ফাকা জায়গার চারপাশে অবস্থিত, যা ভবনের ভেতরে প্রাকৃতিক আলো এবং বায়ুচলাচল বাড়াতে সাহায্য করেছে। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে।

    হুইঝো অঞ্চলের জুয়ানচেং এর জিক্সি জেলার পুরানো টাউন হল ভবনটি ২০১৩ সালে সংস্কার করা হয়েছিল এবং ভবনটিকে একটি জাদুঘরে রূপান্তরিত করা হয়।

    হুইঝো স্থাপত্য শৈলীর আদলে এই কমপ্লেক্সটি নির্মাণ করা হয়েছে। এর ভেতরে বেশ কয়েকটি খালি জায়গা রাখা হয়েছে।

    এর পেছনে যারা কাজ করেছেন তাদের মতে এই ফাঁকা জায়গা রাখার ফলে কমপ্লেক্সের ভিতরে বায়ু সরবরাহ করতে পারছে।

    এবং এর ফলে সেখানকার বেশ কয়েকটি প্রাচীন গাছ সংরক্ষণ করাও সহজ হচ্ছে।

    আধুুনিক ভবন নির্মাণে প্রাচীন কৌশল।

    আধুুনিক ভবন নির্মাণে প্রাচীন কৌশল।

    একই সময়ে, সিচুয়ান প্রদেশের একটি জনপ্রিয় পর্যটন শহর- যে প্রদেশটি গরম, আর্দ্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আবহাওয়ার জন্য পরিচিত- সেখানে বেশ কয়েকটি বৃত্তাকার ঘর নির্মাণ করা হয়েছে যার প্রত্যেকটির মাঝখানে ফাঁকা জায়গা রাখা হয়েছে।

    কিছু আকাশচুম্বী অট্টালিকা তাদের ভবনে বায়ুপ্রবাহ বাড়াতে ভবনের ভেতরে ফাঁকা জায়গা রাখার মাধ্যমে বাতাস চলাচলের নীতি গ্রহণের চেষ্টা করছে।

    বাস্তবিক কারণে তারা বাহ্যিক আঙ্গিনা নির্মাণ না করেই ভেতরে এই ফাঁকা জায়গার ওপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

    চীনের গুয়াংদং প্রদেশের ডংগুয়ান শহরের টিবিএ টাওয়ার এর একটি উদাহরণ হতে পারে।

    ভবনটি বায়ুচলাচল টিউবের মাধ্যমে ৬৮ তলা পর্যন্ত প্রাকৃতিক বায়ু প্রবাহ সরবরাহ করে। যা অনেকটা অভ্যন্তরীণ ফাঁকা জায়গার মতোই কাজ করে।

    এর উদ্দেশ্য হলো বসন্ত এবং শরৎকালে ভবনের তাপমাত্রা আরামদায়ক মাত্রায় বজায় রাখা এবং সেটা শুধুমাত্র প্রাকৃতিক বায়ুচলাচল ব্যবহার করে।

    টাওয়ারের সাধারণ পরিচালক এক স্থানীয় সংবাদপত্রে ব্যাখ্যা করেছেন।

    ইন্সটিটিউট অফ এনভায়রনমেন্টাল স্টাডিজের এনভায়রনমেন্টাল হিউম্যানিটিজের পোস্ট ডক্টরাল গবেষক ওয়াং জেংফেং-এর মতে, প্রাচীনকালের মানুষদের মধ্যে যে “সবুজকে রক্ষা করার জ্ঞান” ছিল তার প্রমাণ ভবনের ভেতরে এমন উঠোন বা ফাঁকা জায়গা রাখা।

    বর্তমান জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে প্রাচীন এই কৌশলগুলো আধুনিক স্থাপত্য নকশাকে অনুপ্রাণিত করে চলেছে। যেখানে পরোক্ষভাবে ভবনকে শীতল রাখার কৌশল রয়েছে।

    নেদারল্যান্ডসের লেইডেন ইউনিভার্সিটি এলাকায় ওয়াং এর আগে একজন স্থপতি হিসেবে কাজ করতেন।

    প্যাসিভ কুলিং বা পরোক্ষ শীতলীকরণ এমন এক পদ্ধতি যা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহার না করেই একটি ভবনকে ঠাণ্ডা রাখতে পারে।

    সেই অনুযায়ী ভবনটি ডিজাইন করা হয়েছে এবং বিভিন্ন প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    প্রাচীন কৌশল

    কিন্তু ওয়াং উল্লেখ করেছেন যে বর্তমান নকশায় ভেতরে খালি জায়গা অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কিছু অসুবিধা রয়েছে।

    এই খালি জায়গা মূলত ভবনে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের পাশাপাশি বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করার জন্য সুপরিচিত।

    তবে তাদের নীতিগুলি অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় প্রয়োগ করতে হবে।

    ঐতিহ্যবাহী উঠোনগুলো বিভিন্ন আকার, আকৃতি এবং বৈশিষ্ট্যের হয়ে থাকে। মূলত প্রাকৃতিক পরিবেশের উপর নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন ডিজাইনের উঠোন তৈরি করা হতো।

    উদাহরণস্বরূপ, একেক অঞ্চলে সূর্যালোক বা বৃষ্টিপাতের মাত্রা একেক রকম– সেই দিকগুলো বিবেচনা করে আধুনিক ভবনগুলোয় এমন উঠোন বা ফাঁকা জায়গা যুক্ত করার জন্য ডিজাইনারদের সংবেদনশীল হতে হবে।

    তাদের প্রকল্পের পরিস্থিতি এবং প্রেক্ষাপট বিবেচনা করতে হবে। কেননা এই প্রাচীন পদ্ধতি কোন সার্বজনীন সমাধান নয়।

    এই পদ্ধতি সব জায়গায় ঢালাওভাবে প্রয়োগ করা যাবে না বলে ওয়াং জানান।

    “এখন কৃত্রিম উপায়ে একই সময়ে আলো, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ এবং পানি সরবরাহের মতো সেবা ব্যাপকভাবে পাওয়া যাচ্ছে এবং মানুষ এর পরিবেশগত ক্ষতি বিবেচনা না করেই সেগুলো ব্যবহার করছে,” তিনি বলেন।

    “আমরা যদি আমাদের বর্তমান আচরণ পরিবর্তন না করি তবে অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে টেকসই হওয়া সহজ হবে না।”

    আধুনিক চীনে বাড়ির ভেতরে উঠোন বা ফাঁকা জায়গা কেন আরও মনোযোগ আকর্ষণ করেছে সে বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে, ওয়াং বলেন যে, উঠোনগুলো পরিবার বা সম্প্রদায়ের জমায়েতের স্থান হিসাবে ব্যবহারের জন্যও ডিজাইন করা হতো। তাদের একটি আনুষ্ঠানিক অর্থ আছে।

    তার মতে, “কংক্রিট এবং কাঁচের জঙ্গলে বসবাসকারী মানুষদের জীবনযাত্রায় পরিবর্তনগুলো সম্ভবত পুরনো স্মৃতিকে জাগিয়ে তুলেছে।” সূত্র : বিবিসি বাংলা

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    প্রযুক্তি

    স্যাটেলাইট-টু-মোবাইল ট্রায়ালে অনুমোদন চাইলো বাংলালিংক ও স্পেসএক্স

    এপ্রিল 23, 2026
    প্রযুক্তি

    দেশে আসছে পেপ্যাল—কার্ড পাবে ২ লাখ ফ্রিল্যান্সার

    এপ্রিল 22, 2026
    প্রযুক্তি

    শহরে ইন্টারনেট ব্যবহার ৭৫.৭%, গ্রামে ৪৩.৬%: বিবিএস

    এপ্রিল 16, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ক্রেতারা ভারত-চীন ছাড়ছে, বাংলাদেশ পাচ্ছে অর্ডার

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025

    সব ব্যবসায়ী ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপী নয়

    মতামত জানুয়ারি 13, 2025

    বরিশালের উন্নয়ন বঞ্চনা: শিল্প, যোগাযোগ, স্বাস্থ্য ও পর্যটন খাতে নেই অগ্রগতি

    মতামত এপ্রিল 22, 2025

    টেকসই বিনিয়োগে শীর্ষে থাকতে চায় পূবালী ব্যাংক

    অর্থনীতি আগস্ট 15, 2025
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.