প্রযুক্তির ইতিহাস হল সরঞ্জাম ও কৌশল আবিষ্কারের ইতিহাস এবং মানবতার ইতিহাসের অন্য দিকগুলির অনুরূপ। প্রযুক্তি বলতে ভাষা ও পাথুরে যন্ত্রগুলির মতো সরল পদ্ধতি থেকে জটিল জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ১৯৮০-এর দশকের তথ্য প্রযুক্তি পদ্ধতিগুলি বোঝা যায়। প্রযুক্তি শব্দটি গ্রিক শব্দ techne থেকে এসেছে, যার অর্থ শিল্প ও নৈপুণ্য এবং লোগো শব্দের মানে শব্দ এবং বক্তৃতা। এটির প্রথম প্রয়োগ শিল্পের বর্ণনা করার জন্য ব্যবহৃত হয় কিন্তু এটি এখন আমাদের চারপাশের পরিবেশকে প্রভাবিত করে এমন অগ্রগতি এবং পরিবর্তনগুলির বর্ণনা করতে ব্যবহৃত হয়।
যেহেতু প্রযুক্তির বেশিরভাগই ব্যবহারিক বিজ্ঞান, প্রযুক্তিগত ইতিহাস বিজ্ঞানের ইতিহাসের সাথে সংযুক্ত। যেহেতু প্রযুক্তি সম্পদ ব্যবহার করে, প্রযুক্তিগত ইতিহাস অভেদ্যভাবে অর্থনৈতিক ইতিহাসের সাথে সংযুক্ত।
ঐ সম্পদগুলি থেকে প্রযুক্তি দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত প্রযুক্তিগত জিনিসপত্র সহ অন্যান্য সম্পদ উৎপাদন করে। একটি সমাজের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রযুক্তির পরিবর্তন দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং প্রযুক্তিকে প্রভাবিত করে। এটি অর্থনৈতিক বিকাশের একটি শক্তি পাশাপাশি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক শক্তি, সম্পদ বিকশিত ও প্রকল্প করার একটি উপায়।
প্রযুক্তিগত অগ্রগতি পরিমাপ
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত অনেক সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানী সামাজিক তত্ত্ব তৈরি করেছেন। কিছুজন, লুইস এইচ মরগান, লেসলি হোয়াইট এবং গেরহার্ড লেনস্কির ন্যায় ব্যক্তিরা প্রযুক্তিগত অগ্রগতিকে মানবিক সভ্যতার উন্নয়ন পরিচালনার অন্যতম প্রধান উপাদান হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন। মরগ্যানের ধারণা অনুযায়ী, সামাজিক বিবর্তনের তিনটি প্রধান ধাপ (অসভ্যতা,আদিম সংস্কৃতি ও সভ্যতা) প্রযুক্তিগত মাপকাঠি দ্বারা বিভক্ত করা যায়, যেমন: আগুন। হোয়াইট দ্বারা যুক্তি দেওয়া হয়েছিল যে, সংস্কৃতির বিবর্তনটি যেটির দ্বারা বিচার করা উচিত তা হল শক্তি।
হোয়াইটের জন্য ‘সংস্কৃতির প্রাথমিক কাজ” হল “শক্তির সাজসরঞ্জাম এবং নিয়ন্ত্রণ।’ হোয়াইট মানুষের উন্নয়নকে পাঁচটি পর্যায়ে পৃথক করেছিলেন:
প্রথমত, মানুষ তাদের নিজস্ব পেশী শক্তি ব্যবহার।
দ্বিতীয়ত, তারা গৃহপালিত পশুদের শক্তি ব্যবহার করে।
তৃতীয়ত, তারা উদ্ভিদের শক্তি (কৃষি বিপ্লব) ব্যবহার করে।
চতুর্থত, তারা প্রাকৃতিক সম্পদগুলির শক্তি ব্যবহার করতে শিখছে: কয়লা, তেল ও গ্যাস।
পঞ্চম, পারমাণবিক শক্তি উদ্ভাবন। হোয়াইট সূত্র পি=ই টি চালু করেছে, যেখানে ই একটি ব্যয় করা শক্তির পরিমাপ এবং টি শক্তি ব্যবহার করে কারিগরি কার্যাবলীর দক্ষতা পরিমাপ করে। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘প্রতিবছর মাথাপিছু উতপাদনশীল শক্তির পরিমাণ বৃদ্ধি করা হয়, অথবা শক্তিকে কাজে লাগানোর উপকরণের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সংস্কৃতি বৃদ্ধি পায়।’
নিকোলাই করদশেভ তাঁর তত্ত্বকে ব্যাখ্যা করেন, যা কারাদশেভ স্কেল তৈরি করে, যা উন্নত সভ্যতার শক্তির ব্যবহারকে শ্রেণিবিন্যাস করে।

