রোবটের ক্ষমতা দিন দিন বিস্তৃত হচ্ছে। মানুষের মতো চলাফেরা করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট নির্দেশনায় কাজ সম্পন্ন করার দক্ষতা অর্জন করেছে রোবট। তবে এবার এ দক্ষতাকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক স্টার্টআপ টেটসুয়ান সায়েন্টিফিক। প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটি রোবট বিজ্ঞানী তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে মানুষের সাহায্য ছাড়াই বৈজ্ঞানিক গবেষণার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া পরিচালনা করতে সক্ষম হবে।
টেটসুয়ান সায়েন্টিফিকের যাত্রা শুরু ২০২৩ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেড় বছর ধরে তারা এআই রোবট বিজ্ঞানীর উন্নয়ন নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্যমতে, বর্তমানে এই রোবটটি বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তবে এটি এখনও সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বৈচিত্র্যময় গবেষণার দক্ষতা অর্জন করতে পারেনি। বর্তমানে রোবট পরিচালনার জন্য জটিল প্রোগ্রামিং কোড প্রয়োজন হলেও প্রতিষ্ঠানটি বলছে, জেনারেটিভ এআই মডেলের সাহায্যে এ সমস্যা দূর করা সম্ভব।
টেকক্রাঞ্চকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টেটসুয়ান সায়েন্টিফিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ক্রিশ্চিয়ান পনসে উল্লেখ করেন, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ব্যবহার করে রোবটকে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার উদ্দেশ্য বোঝানো আরও সহজ হয়ে উঠবে। এর ফলে প্রোগ্রামারদের জটিল কোড লেখার প্রয়োজন কমে যাবে। একই সঙ্গে রিট্রিভাল অগমেন্টেড জেনারেশন (আরএজি) কাঠামো ব্যবহারের মাধ্যমে এআইয়ের ভুল অনুমানের পরিমাণও উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যাবে।
রোবট বিজ্ঞানীর আকৃতির বিষয়ে টেটসুয়ান সায়েন্টিফিক জানিয়েছে, এটি মানব আকৃতির রোবটের মতো নয়। বরং বর্গাকার এই রোবটে উন্নতমানের এআই সফটওয়্যার এবং আধুনিক সেন্সর যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে রোবটটি বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবে। টেটসুয়ানের দাবি, এ প্রযুক্তি গবেষণার প্রক্রিয়াকে সহজ, কার্যকর এবং সময়সাশ্রয়ী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
টেটসুয়ানের এই উদ্যোগ শুধু রোবটিক্সে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে না বরং বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। মানুষের নির্দেশনাধীন রোবট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গবেষণায় পারদর্শী রোবটের এ যাত্রা গবেষণার পদ্ধতিগত উন্নয়নে যুগান্তকারী হতে পারে।
সূত্র: গ্যাজেটস ৩৬০

