কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চালিত চ্যাটবট প্রযুক্তি শিল্পে বড় বাজার তৈরি করেছে। চ্যাটজিপিটির আবির্ভাবের পর থেকে সম্প্রতি চীনের ডিপসিক উন্মোচন পর্যন্ত এআই চ্যাটবটের জনপ্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
২০২৪ সালের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, বিশ্বব্যাপী ৯৮ কোটির বেশি মানুষ চ্যাটবট ব্যবহার করছে। চলতি বছর এ প্রযুক্তির বাজার ১ হাজার কোটি ডলার ছাড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে ডাটা বিশ্লেষণ প্ল্যাটফর্ম ডিমান্ডসেইজ।
প্রযুক্তির বিকাশ মানুষের যোগাযোগের ধরন বদলে দিচ্ছে। গ্রাহকসেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবার মতো খাতে চ্যাটবট ব্যবহারের হার বাড়ছে। গবেষণায় উঠে এসেছে, সময় সাশ্রয় ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে এআই চ্যাটবট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ডিমান্ডসেইজের তথ্যে জানা গেছে, চ্যাটবট সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে পণ্য ও সেবা বিক্রির ক্ষেত্রে (৪১ শতাংশ)। এরপর রয়েছে গ্রাহক সহায়তা ও বিপণন। বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী দুই বছরের মধ্যে ২৫ শতাংশ কোম্পানির প্রধান প্রযুক্তি হয়ে উঠবে চ্যাটবট।
দ্য বিজনেস রিসার্চ কোম্পানির গবেষণা বলছে, ২০২৩ সালে চ্যাটবট বাজারের মূল্য ছিল ৮২৭ কোটি ডলার। ২০২৯ সালের মধ্যে এটি ২ হাজার ৯৫০ কোটি ডলারে পৌঁছাবে, যেখানে বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩০ শতাংশ।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, চ্যাটবটের দ্রুত বিস্তারের কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে পার্সোনালাইজড পরিষেবা, নির্দিষ্ট শিল্প খাতে চ্যাটবটের ব্যবহার এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সঙ্গে একীভূতকরণ। সাম্প্রতিক সময়ে মানবসম্পদ ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায়ও চ্যাটবট ব্যবহারের প্রবণতা বেড়েছে।
এআই ও মেশিন লার্নিংয়ের অগ্রগতি চ্যাটবটকে আরও উন্নত করছে। ভয়েসভিত্তিক চ্যাটবট, মাল্টিপ্ল্যাটফর্ম সমর্থন এবং স্মার্ট ডিভাইসে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্টের (যেমন সিরি ও গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট) সংযোগ চ্যাটবটের বিস্তৃতি বাড়িয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, অনলাইনভিত্তিক বেশিরভাগ কাজে চ্যাটবট ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি। তবে সক্রিয় ব্যবহারকারীর দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে মেটা এআই, যার ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৫০ কোটি।
ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা এক বছরের মধ্যেই এ মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তালিকার শীর্ষ পাঁচে রয়েছে চ্যাটজিপিটি (৩০ কোটি), গুগলের জেমিনি (২৭ কোটি) ও মাইক্রোসফটের কোপাইলট (১০ কোটি)।
২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মেটা এআই অ্যাসিস্ট্যান্ট চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ ওয়েবেও এ সুবিধা যুক্ত করা হয়।
একসময় তথ্য খোঁজার জন্য গুগলের ওপর নির্ভরতা বেশি ছিল। তবে দ্রুত উত্তর পাওয়ার সুবিধায় অনেক ব্যবহারকারী এখন চ্যাটবটের দিকে ঝুঁকছেন। প্রযুক্তির এই পরিবর্তন সার্চ ইঞ্জিনের ভূমিকাতেও নতুন মাত্রা যোগ করছে।

