ভুটানে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (পূর্বে টুইটার) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইলন মাস্ক। যদিও দেশটিতে স্টারলিংকের কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই।
দ্রুত সম্প্রসারিত স্টারলিংক এবার পৌঁছেছে ভুটানের মতো পাহাড়ি দেশে, যেখানে স্থলভিত্তিক ইন্টারনেট সংযোগ সীমিত। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিরবিচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সুবিধা দিতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ব্যয়বহুল হওয়ায় এটি মূলত নির্দিষ্ট গ্রাহকগোষ্ঠীর জন্যই প্রযোজ্য।
ভুটানের তথ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ‘রেসিডেনশিয়াল লাইট’ প্যাকেজের মাসিক খরচ ৩ হাজার গুলট্রাম (প্রায় ৪ হাজার ২০০ বাংলাদেশি টাকা), যেখানে ইন্টারনেট গতি থাকবে ২৩ থেকে ১০০ এমবিপিএস। আর ‘স্ট্যান্ডার্ড রেসিডেনশিয়াল’ প্যাকেজের জন্য মাসিক গুনতে হবে ৪ হাজার ২০০ গুলট্রাম (প্রায় ৫ হাজার ৮০০ টাকা), যা ২৫ থেকে ১১০ এমবিপিএস গতিসম্পন্ন এবং এতে আনলিমিটেড ডাটা সুবিধা পাওয়া যাবে।
তবে স্থানীয় টেলিকম অপারেটরদের তুলনায় স্টারলিংকের মূল্য বেশি। বিশ্বব্যাপী স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবার ব্যয় তুলনামূলক বেশি হলেও, ভুটানের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে স্টারলিংক ভারতেও তাদের পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা করছে। তবে দেশটির টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন এখনো মেলেনি। বিশেষ করে, সরকার স্পেকট্রাম নিলামের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি করবে কি না, সে সিদ্ধান্তের ওপর স্টারলিংকের কার্যক্রম নির্ভর করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভুটানের মতো এলাকায় স্টারলিংকের কার্যক্রম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষের জন্য বিশ্বসংযোগের নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে।

