দেশের কৃষি খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও গবেষণার ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং চাষ পদ্ধতি সহজতর হচ্ছে। সনাতনী চাষাবাদের পরিবর্তে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার, রোগবালাই দমনের নতুন কৌশল, কৃত্রিম উপায়ে শাকসবজি, মাছ চাষ, ছাদকৃষিসহ নানা উদ্ভাবনের মাধ্যমে কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসছে।
গবেষণা ও প্রযুক্তির ভূমিকা-
কৃষিক্ষেত্রে সাফল্যের অন্যতম কারণ কৃষকের নিরলস পরিশ্রমের পাশাপাশি কৃষিবিজ্ঞানীদের গবেষণা। বিজ্ঞানীরা নতুন জাত উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষির টেকসই উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। দুর্যোগ সহিষুষ্ণ ফসলের জাত উদ্ভাবন, বিলুপ্তপ্রায় মাছের সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধি কৃষি গবেষণার অন্যতম সাফল্য।
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ ছাড়া কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি), বিভিন্ন কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটও উদ্ভাবনে এগিয়ে রয়েছে।
গবেষণার সাফল্য ও কৃষির ভবিষ্যৎ-
১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রি এ পর্যন্ত ১০৬টি জাতের ধান উদ্ভাবন করেছে, যার মধ্যে বেশ কয়েকটি খরা, বন্যা ও লবণসহিষুষ্ণ। ২০০৯-২০২১ সালে ব্রি উচ্চফলনশীল ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন ধানের জাত এনেছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কৃত্রিম প্রজনন, নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন ও মাটির উন্নয়নে নানা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।
বিনা উচ্চফলনশীল ১১৯টি জাত উদ্ভাবন করেছে এবং আরও তিন শতাধিক জাত নিয়ে গবেষণা করছে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট বিলুপ্তপ্রায় ৩১ প্রজাতির দেশীয় মাছ চাষযোগ্য করে তুলেছে। বারি ২০০৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৩০৬টি উন্নত জাত ও ৩৬৩টি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। বিএআরসি ৭০০-এর বেশি ফসলের জাত ও ১,৩০০ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।
গবেষণা বরাদ্দ ও চ্যালেঞ্জ-
কৃষি গবেষণায় বরাদ্দের ঘাটতি রয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৬৮৭ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও পরবর্তী বছর তা কমে ৪৭ কোটি টাকায় নেমে আসে। বিশেষজ্ঞরা গবেষণার বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি কার্যকর খরচের ওপর জোর দিচ্ছেন। গবেষণার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং জলবায়ুসহিষুষ্ণ জাত উদ্ভাবনে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন।
বিএআরসির সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ওয়ায়েস কবীরের মতে, গবেষণায় বরাদ্দ ও দক্ষতা উভয়ই বাড়ানো জরুরি।
নয়া কৃষি আন্দোলনের সংগঠক ফরিদা আক্তার মনে করেন, কৃষি গবেষণায় কৃষকের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।
কৃষিতে উদ্ভাবন নির্ভর অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। গবেষণা ও প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষি খাতকে আরো সমৃদ্ধ করা সম্ভব।

