বাংলাদেশ ও ভারতে যৌথভাবে স্টারলিংক পরিষেবা চালুর ঘোষণা ইতিমধ্যে প্রযুক্তি ও টেলিকম খাতে সাড়া ফেলেছে। তবে এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা কতটা কার্যকর হবে, তা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো- এই পরিষেবা ব্যবহারে একজন সাধারণ গ্রাহকের কতটা খরচ পড়বে?
বিশ্লেষকরা বলছেন, স্টারলিংকের পরিষেবার খরচ অঞ্চলভেদে ভিন্ন। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে তাদের মূল্য নির্ধারণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবুও অন্যান্য দেশে বিদ্যমান খরচ পর্যালোচনায় কিছুটা ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
বর্তমানে বিশ্বের ১০০টিরও বেশি দেশে চালু থাকা স্টারলিংকের মাসিক সাবস্ক্রিপশন ফি ১০ ডলার থেকে শুরু হয়ে পৌঁছে যেতে পারে ৫০০ ডলার পর্যন্ত। আফ্রিকার কিছু দেশে খরচ অপেক্ষাকৃত কম হলেও ইউরোপে তা অনেকটাই বেশি। তবে এসব প্যাকেজেই রয়েছে ডেটা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা।
শুধু মাসিক ফি নয়, পরিষেবা ব্যবহার করতে হলে গ্রাহককে এককালীন খরচে স্টারলিংকের হার্ডওয়্যার (ডিশ ও রাউটার) কিনতে হয়, যার দাম ২৫০ থেকে ৩৮০ ডলারের মধ্যে।
ভারতের টেলিকম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তুলনায় দেখা যাচ্ছে, তারা অনেক কম খরচে হোম ব্রডব্যান্ড প্যাকেজ অফার করে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়- জিও বা এয়ারটেলের প্ল্যানে মাত্র ৫ থেকে ৭ ডলারেই মিলছে ব্রডব্যান্ড সংযোগ, যেখানে অনেক সময়ই পাওয়া যায় আনলিমিটেড ডেটা। উচ্চগতির প্রিমিয়াম প্যাকেজের খরচ বাড়লেও তা এখনো স্টারলিংকের সম্ভাব্য খরচের তুলনায় কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে স্টারলিংকের মূল লক্ষ্য হবে দুর্গম ও অবকাঠামো-বঞ্চিত এলাকাগুলো, যেখানে কেবল লাইন বা মোবাইল টাওয়ারের সহজলভ্যতা নেই। ফলে এয়ারটেল বা জিও-র মতো টেলিকম জায়ান্টদের সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় না গিয়ে, স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের বিশেষ চাহিদা পূরণ করাই হতে পারে তাদের কৌশল।
আফ্রিকার ১৬টি দেশে স্টারলিংক চালু থাকলেও এর মধ্যে পাঁচটি দেশে তারা স্থানীয় ফিক্সড ইন্টারনেট সার্ভিসের তুলনায় কম খরচে পরিষেবা দিচ্ছে। এমনকি হিমালয় পাদদেশের ভুটানেও সম্প্রতি তারা দুটি প্ল্যান চালু করেছে- একটি ‘রেসিডেনশিয়াল লাইট’ (মাসে ৩ হাজার রুপি, সীমিত ডেটা), অন্যটি ‘স্ট্যান্ডার্ড’ (মাসে ৪২০০ রুপি, আনলিমিটেড ডেটা)।
বাংলাদেশে স্টারলিংকের সম্ভাব্য দাম এখনো নির্ধারিত হয়নি। তবে ভারতের বাজারের সঙ্গে মিল থাকায় ধারণা করা যাচ্ছে, এখানেও তা তুলনামূলক বেশি হতে পারে। দেশের প্রত্যন্ত ও নেটওয়ার্কবিহীন অঞ্চলে ইন্টারনেট সংযোগ ছড়িয়ে দিতে স্টারলিংক কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যদিও শহরাঞ্চলে এটি সস্তা মোবাইল ডেটা বা ফাইবার অপটিক সংযোগের প্রতিদ্বন্দ্বী হবে না বলেই মত বিশ্লেষকদের।
সব মিলিয়ে, স্টারলিংক যদি দক্ষিণ এশিয়ার দাম-সচেতন বাজারে স্থায়ী হতে চায়, তবে তাদের পরিষেবার মূল্য নির্ধারণে হতে হবে অত্যন্ত কৌশলী ও প্রতিযোগিতামূলক।

