মহাকাশ থেকে ফিরে এসে প্রথমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন নাসার দুই নভোচারী সুনীতা উইলিয়ামস ও বুচ উইলমোর। বোয়িংয়ের স্টারলাইনার মহাকাশযানে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাঁরা ৯ মাস আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (আইএসএস) ছিলেন। অবশেষে ১৮ মার্চ ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ক্যাপসুল তাঁদের পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনে। এই অভিযানের নাম ছিল ‘ক্রু-১০’।
নাসার জনসন স্পেস সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা তাঁদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ক্রু-১০ মিশনের আরেক সদস্য নিক হেগ। তাঁরা স্টারলাইনারের কার্যকারিতা, মহাকাশে কাটানো দিনগুলো এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেন।
সুনীতা বলেন, দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার পর নিরাপদে ফিরে আসতে পেরে তাঁরা স্বস্তি অনুভব করছেন। এটি তাঁদের জন্য এক বিশেষ অভিজ্ঞতা। এখান থেকে অনেক কিছু শেখার আছে।
বুচ উইলমোর বলেন, স্টারলাইনার মহাকাশযানটি বেশ সক্ষম। তবে কিছু সমস্যা ছিল। সেগুলো ভবিষ্যতে সমাধান করা হবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এই মহাকাশযানকে আরও উন্নত করা সম্ভব।
তাঁরা আবার মহাকাশে যাবেন কি না—এই প্রশ্নের জবাবে বুচ বলেন, সুযোগ পেলেই তিনি যেতে চান। তিনি স্বীকার করেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁরা সময়মতো ফিরতে পারেননি। তবে প্রশিক্ষণের জন্য তাঁরা সব পরিস্থিতি সামলাতে পেরেছেন। তাই এটিকে আটকে পড়া বলা ঠিক হবে না।
সুনীতা বলেন, স্টারলাইনারের মিশনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকবে, এটা তাঁরা জানতেন। তবে মানুষের এত আগ্রহ থাকবে তা তাঁরা ভাবেননি। এই মনোযোগ পেয়ে তিনি ও বুচ সম্মানিত বোধ করছেন।
মহাকাশে কাটানো সময় নিয়ে তিনি বলেন, আইএসএস-এ তাঁরা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছেন। স্টারলাইনার সম্পর্কে তিনি বলেন, এটি ভালো একটি মহাকাশযান। ভবিষ্যতে আরও উন্নত করা সম্ভব। বুচও বলেন, বোয়িং ও নাসা এই প্রকল্পের উন্নয়নে কাজ করছে।
মহাকাশে রাজনীতির প্রভাব সম্পর্কে নিক হেগ বলেন, মহাকাশে কাজ করার সময় তাঁরা কোনো রাজনৈতিক বিষয় অনুভব করেন না। তাঁদের মূল লক্ষ্য গবেষণা ও মানব উন্নয়ন।
এই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নাসা ও বোয়িং ভবিষ্যতে আরও উন্নত মহাকাশ মিশন পরিকল্পনা করছে। সুনীতা ও বুচও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ নভোচারীদের কাজে লাগবে।

