এআই প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান সংস্থা ওপেনএআই এবার নজর দিয়েছে গুগলের ওয়েব ব্রাউজার ‘ক্রোম’-এর দিকে। সংস্থাটি মনে করছে, গুগলের একচেটিয়া অনলাইন অনুসন্ধান বাজারে প্রতিযোগিতা ফেরাতে হলে বড় কোনো পরিবর্তনের দরকার রয়েছে- আর তারই অংশ হিসেবে তারা ‘ক্রোম’ কিনে নিতে চায়।
ওপেনএআই-এর চ্যাটজিপিটির প্রধান পণ্য কর্মকর্তা নিক টার্লি মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে চলমান গুগলের অ্যান্টিট্রাস্ট মামলার শুনানিতে এ আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। সুত্র: ইন্ডিয়া টুড
টার্লি বলেন, যদি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো গুগলকে ক্রোম ব্রাউজার বিক্রির নির্দেশ দেয়, তাহলে আমরা সেটি কিনে নিতে আগ্রহী। তার মতে, এ উদ্যোগ গুগলের আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ করতে এবং এআই ও অনুসন্ধান বাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
মার্কিন বিচার বিভাগের দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গুগল মোবাইল প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে এমন চুক্তি করেছে, যার মাধ্যমে তাদের সার্চ অ্যাপ, ক্রোম এবং নতুন এআই অ্যাপ ‘জেমিনি’ অনেক ডিভাইসে ডিফল্ট হিসেবে ইনস্টল হচ্ছে। বিচারক অমিত মেহতা ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছেন, গুগল স্যামসাং ও মটোরোলা প্রভৃতি সংস্থার সঙ্গে এমন চুক্তিতে প্রবেশ করেছে।
সরকারি আইনজীবীদের দাবি, এই আধিপত্য শুধু অনুসন্ধানেই নয়, গুগলের ভবিষ্যৎ এআই পণ্যগুলোর প্রতিও ব্যবহারকারীদের প্রভাবিত করবে।
টার্লি শুনানিতে জানান, গত জুলাইয়ে ওপেনএআই গুগলের সার্চ এপিআই ব্যবহার করার প্রস্তাব দিয়েছিল চ্যাটজিপিটির জন্য। গুগলকে জানানো হয়, এপিআই ডেটা ব্যবহারে আরও কার্যকর পণ্য দেওয়া সম্ভব হবে। তবে গুগল আগস্টে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে।
এ প্রসঙ্গে টার্লি বলেন, এখনও চ্যাটজিপিটি প্রায় ৮০ শতাংশ অনুসন্ধান প্রশ্নের উত্তর নিজস্ব প্রযুক্তিতে দিতে পারে না। সেখানে পৌঁছাতে আমাদের কয়েক বছর সময় লাগবে।
গুগল দাবি করেছে, তারা একচেটিয়া কোনো সুবিধা নিচ্ছে না এবং নির্মাতারা চাইলে প্রতিদ্বন্দ্বী এআই পণ্যও ইনস্টল করতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি মাইক্রোসফট ও মেটার মতো সংস্থাগুলোকে তাদের প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখছে।
টার্লির মতে, বাজারে ভারসাম্য আনতে হলে অনুসন্ধান ডেটা উন্মুক্ত করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উচিত আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। ক্রোমের মালিকানা বদল হলে তা প্রযুক্তি জগতে এক বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে বলেই মত বিশ্লেষকদের।

