ফেসবুকে স্প্যাম ছড়ানো বন্ধে আরো কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে মেটা। সম্প্রতি এক ঘোষণায় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অতিরিক্ত হ্যাশট্যাগ দিয়ে বা ছবির সঙ্গে সম্পর্কহীন ক্যাপশন লিখে অ্যালগরিদমকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা যাবে না। এই ধরনের পোস্ট এখন থেকে আর আয় করতে পারবে না। মেটার এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো ফেসবুকে স্প্যামি কনটেন্টের প্রভাব কমিয়ে, সঠিক ও মানসম্পন্ন কনটেন্টের পরিবেশ তৈরি করা।
মেটা জানায়, অতিরিক্ত হ্যাশট্যাগ যুক্ত বা ছবির সঙ্গে সম্পর্কহীন দীর্ঘ ক্যাপশন দিয়ে যেসব পোস্ট করা হয়, তা এখন থেকে শুধু ফলোয়ারদের টাইমলাইনে দেখানো হবে। এগুলো কোনো ধরনের মনেটাইজেশন সুবিধা পাবে না। মেটার মতে, এসব পোস্ট মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই, স্প্যামি কনটেন্টের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
বিশেষভাবে যে ধরনের পোস্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— অতিরিক্ত ও অপ্রাসঙ্গিক হ্যাশট্যাগ ব্যবহার, ছবির সঙ্গে সম্পর্কহীন দীর্ঘ ক্যাপশন, একাধিক ফেক অ্যাকাউন্টে একই পোস্ট শেয়ার করে ভাইরাল করার চেষ্টা এবং সাজানো বা মিথ্যা মন্তব্য। এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত অ্যাকাউন্টগুলোর মনেটাইজেশন সুবিধা বন্ধ করে দেয়া হবে। গুরুতর ক্ষেত্রে, এমন পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলা হতে পারে।
এছাড়া, মেটা নতুন একটি ফিচার চালু করেছে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সরাসরি রিপোর্ট করতে পারবেন যে কোনো মন্তব্য অপ্রয়োজনীয় বা স্প্যাম বলে মনে হয়েছে। এর পাশাপাশি, পেইজ মালিকদের জন্য নতুন একটি মডারেশন টুলও এসেছে, যা ভুয়া অ্যাকাউন্ট বা অন্যের নাম ব্যবহার করে করা মন্তব্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে লুকিয়ে ফেলবে।
মেটা জানিয়েছে, এই ধরনের অনৈতিক কৌশলগুলো বন্ধ করতে তারা এই নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো, ফেসবুকে কৃত্রিমভাবে ভিউ ও আয়ের সংখ্যা বাড়ানোর চেষ্টা রোধ করে, আসল ও মানসম্পন্ন কনটেন্টের পরিবেশ তৈরি করা।

