একাকীত্বের ক্রমবর্ধমান সংকটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (এআই) সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে ব্যবহার করতে চায় প্রযুক্তি জায়ান্ট মেটা। ভার্চুয়াল ‘বন্ধু’ তৈরি করে সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দূর করার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি- যার নেতৃত্বে আছেন সিইও মার্ক জাকারবার্গ।
সম্প্রতি এক ইউটিউব পডকাস্টে প্রযুক্তি বিশ্লেষক দ্বারকেশ প্যাটেলের সঙ্গে আলাপকালে জাকারবার্গ জানান, মেটার বড় এআই পরিকল্পনার একটি অংশ হলো এমন চ্যাটবট তৈরি করা, যা সামাজিক সঙ্গীর মতো ব্যবহারকারীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবে।
তিনি বলেন, গড়ে একজন আমেরিকানের তিনজনেরও কম ঘনিষ্ঠ বন্ধু রয়েছে। অথচ মানুষ অন্তত ১৫টি অর্থবহ সম্পর্ক চায়। এই সামাজিক দূরত্ব ও সংযোগহীনতাকে মেটা দূর করতে চায় উন্নত জেনারেটিভ এআই- যেমন তাদের লামা মডেল- ব্যবহার করে।
এ ধরনের এআই চ্যাটবটগুলো শুধু কথোপকথনের সঙ্গীই নয়, আবেগগত সহায়তা, থেরাপিস্ট এমনকি রোমান্টিক সঙ্গীর ভূমিকাও নিতে সক্ষম হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জাকারবার্গ। তবে তিনি স্বীকার করেন, প্রযুক্তিটি এখনো প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং এতে আবেগ বোঝা ও প্রাসঙ্গিকভাবে প্রতিক্রিয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
এই মন্তব্য এসেছে মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের একটি ভবিষ্যদ্বাণীর পর, যেখানে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভবিষ্যতে অধিকাংশ পেশায় মানুষের বিকল্প হয়ে দাঁড়াবে এবং হাতে থাকবে শুধু জীববিজ্ঞান, জ্বালানি এবং কোডিং।
যুক্তরাষ্ট্রের সার্জন জেনারেল বিবেক মার্থি ২০২৩ সালে একাকীত্বকে ‘জনস্বাস্থ্য সংকট’ হিসেবে ঘোষণা করেন। সে বছর আমেরিকান সোসিওলজিকাল অ্যাসোসিয়েশনের এক জরিপে দেখা যায়, প্রাপ্তবয়স্কদের অন্তত ৩০ শতাংশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু তিনজনেরও কম।
এ পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল বন্ধু তৈরির উদ্যোগ সময়োপযোগী হলেও, এটি ঘিরে রয়েছে নানা উদ্বেগ। এআই সঙ্গীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাস্তব সম্পর্ক থেকে মানুষকে দূরে ঠেলে দিতে পারে- এমন আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এ ছাড়া ইন-অ্যাপ পারচেজ ও ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ারের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের আবেগ বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তবু প্রযুক্তি ও মানবিক সম্পর্কের সংযোগে মেটার এ উদ্যোগ ভবিষ্যতের সমাজে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে তার আগে প্রয়োজন প্রযুক্তিগত পরিপক্বতা, নৈতিক গাইডলাইন এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা।

