বাংলাদেশে প্রায় ১০৩ প্রজাতির সাপ পাওয়া যায়। যার মধ্যে ৩৩টি প্রজাতি বিষধর এবং বাকি ৭০ প্রজাতি নির্বিষ ও মৃদু বিষধর। বিষধর সাপের কামড়ে চিকিৎসা না নিলে অঙ্গহানি থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। প্রতি বছর সাপের কামড়ে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে মারা যায় সাড়ে ৭ হাজার মানুষ। অন্যদিকে সচেতনতার অভাবে মানুষের হাতে মারা পড়ে অনেক উপকারী নির্বিষ সাপ।
এবার সাপ নিয়ে সচেতনতা তৈরি ও সাপে কাটলে করণীয় জানাতে অ্যাপ এনেছে বাংলাদেশ বন বিভাগ। “সর্প দংশনে সচেতনতা, উদ্ধার ও সুরক্ষা অ্যাপ” নামের এই অ্যাপে সাপ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাবে। টেকসই বন ও জীবিকা প্রকল্পের আওতায় অ্যাপটি তৈরি করা হয়েছে।
এই অ্যাপে রয়েছে সাপের পরিচিতি, সাপের কামড়ে প্রাথমিক চিকিৎসা, সাপের কামড়ের তথ্য প্রদান, অ্যান্টিভেনমের প্রাপ্যতা, সাপ–সম্পর্কিত কুসংস্কার ও সাপের গুরুত্ব, সাপ–সম্পর্কিত ভিডিও ও সাপ উদ্ধারে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা, বাংলাদেশে সাপের প্রজাতি, যোগাযোগ ও জাতীয় জরুরি নম্বর।
সাপের প্রাথমিক পরিচিতিতে দেশে পাওয়া যায় এমন বিষধর সাপের ছবি, কোন অঞ্চলে তাদের বিচরণ এবং কী ধরণের বিষ রয়েছে তা উল্লেখ করা হয়েছে। কোন সাপে দংশন করলে কী ধরণের প্রতিক্রিয়া হয় তা বলা হয়েছে। এছাড়া কোন হাসপাতালে সাপের বিষের অ্যান্টিভেনম রয়েছে এবং সেসব হাসপাতালের অবস্থান ও যোগাযোগের ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে।
এছাড়া অ্যাপটিতে সাপ উদ্ধারকারী দলের ফোন নম্বর দেওয়া আছে।কেউ সাপ দেখে উদ্ধারকারী দলকে খবর দিলে তারা এসে সাপ উদ্ধার করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন দেশের মানুষের মধ্যে সাপ নিয়ে ভীতি ও নানা ধরনের অজ্ঞতা আছে। সাপে কামড়ালে হাসপাতালে নিয়ে না গিয়ে এখনো অনেকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে ওঝার কাছে ছোটেন। আক্রান্ত ব্যক্তির বাঁচার সম্ভাবনা কমে যায়। এমন ক্ষেত্রে এই অ্যাপ সচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে।

