মঙ্গলগ্রহে ভবিষ্যৎ গবেষণা কেন্দ্র গড়তে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ। এবার সেই জটিল সমাধানে আশার আলো দেখাচ্ছে চীনা বিজ্ঞানীদের এক নতুন আবিষ্কার। তারা বলছেন, মঙ্গলের নিজস্ব বায়ুমণ্ডল থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ সম্ভব।
সোমবার (৯ জুন) বেইজিং থেকে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, চীনের সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এমন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের দাবি করেছেন, যা মঙ্গলের বাতাস ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।
তাদের মতে, মঙ্গলের বাতাস ঘন ও তাপ ধারণক্ষমতায় সমৃদ্ধ। এতে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের নতুন এক পথ খুলে দিয়েছে তারা। হিলিয়াম বা জেননের মতো দুষ্প্রাপ্য গ্যাসের বদলে সহজলভ্য এই গ্যাসের ব্যবহারে উৎপাদন ক্ষমতা ২০ শতাংশ বাড়ানো সম্ভব। ফলে ব্যাটারির ওজন হ্রাস পাবে এবং স্থানীয়ভাবে শক্তি সরবরাহ সহজ হবে।
গবেষকরা আরও জানান, মঙ্গলের বাতাসে থাকা অণুগুলোর ওজন বেশি এবং এতে নির্দিষ্ট তাপধারণ ক্ষমতাও উল্লেখযোগ্য। ফলে তাপ থেকে বিদ্যুৎ রূপান্তরের কাজে এটি অত্যন্ত উপযোগী।
শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদন নয়, বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন “মার্স ব্যাটারি” নামে এক বিশেষ ধারণা। এই ব্যাটারি মঙ্গলের বাতাসে থাকা উপাদান শোষণ করে তা থেকেই তৈরি করে বিদ্যুৎ। লিথিয়াম-এয়ার বা লিথিয়াম-কার্বন ডাই অক্সাইড প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন ব্যাটারিতে রোভার কিংবা হেলিকপ্টারও চালানো যাবে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, মঙ্গলগ্রহের দিন ও রাতের মধ্যে বিরাট তাপমাত্রা পার্থক্যের মধ্যেও এই ব্যাটারি কার্যকর। এমনকি শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়ও এটি স্থায়ীভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম। ফলে ভবিষ্যতে মঙ্গলে স্থায়ী গবেষণা ঘাঁটি নির্মাণে এটি বড় সহায়ক হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা।

